May 4, 2026
কিশোরগঞ্জ: আওয়ামী লীগ ভবিষ্যত প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চায়। সেজন্যেই তারা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারী কলেজ মাঠে বুধবার বিকেলে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে দেশব্যাপী ২০ দলীয় জোটের সমাবেশের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলা ২০ দল এ সমাবেশের আয়োজন করে। নিজের বক্তব্যে বিএনপি নেত্রী সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন। এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও পুলিশকে অস্ত্র সরঞ্জামাদি সরবরাহ না করতে বিদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটনেতা খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে এ ব্যাপারে মানবাধিকার সংগঠনগুলোকেও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিদেশীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি নেত্রী বলেন, র্যাবের পাশাপাশি পুলিশকেও অস্ত্র সরঞ্জামাদি দেবেন না।
এরা সন্ত্রাস বা জঙ্গি দমনে অস্ত্র ব্যবহার করছে না। তারা তরুণ-যুবকদের গুলি নির্যাতন করে দেশকে পঙ্গু করার কাজ করছে। খালেদা জিয়া বলেন, এই অবৈধ সরকারকে বিদায় করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। সত্যিকারের যোগ্য ও দক্ষদের দিয়ে সরকার গঠন করে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ‘দুদক এখন দায়মুক্তি কমিশন’ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, এই দুর্নীতি দমন কমিশনকে বিদায় করতে হবে। তারা দুর্নীতি দমন না করে দায়মুক্তি দিচ্ছে। যার ক্ষমতা তাদের নেই। এই দুদক থাকলে দেশে দুর্নীতি কমবে না বরং বাড়বে। খালেদা বলেন, দেশে জনগণের নির্বাচিত সরকার নেই। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। ভোটকেন্দ্রে কুকুর বসেছিল। তাহলে কী করে তারা নিজেদের নির্বাচিত সরকার দাবি করে।
সংসদ সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন দাবি করে দশম সংসদকেও অবৈধ বলে আখ্যা দেন খালেদা। বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, দেশের অবস্থা ভালো নয়। অত্যন্ত ক্ষমতাধর ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগ পুলিশকেও মানে না। তারা আসলে কাউকেই মানে না। বিশ্বজিৎকে হত্যা করার পরও হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। ছেলেটি বলেছিল, আমি রাজনীতি করি না, আমি একজন হিন্দু দর্জি। তারপরও তাকে নিমর্মভাবে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ। আসলে পুরো দেশেরই এই অবস্থা। এভাবেই খুন-গুম অপহরণ চলছে। এই সরকার খুনি, গুম ও হত্যাকারী। বর্তমানে দেশের দুরবস্থা হলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের অবস্থা ভালো। তারা দুর্নীতি করে বেশ ভালোভাবেই সময় কাটাচ্ছে। তারা বিচারের ঊর্ধ্বে। শত অপরাধ করলেও আওয়ামী লীগ করার কারণে তাদের বিচার হয়না বলেও অভিযোগ করেন বেগম জিয়া। এর আগে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
বিকেল ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউসে পৌঁছান তিনি। সেখানে বিশ্রাম শেষে জনসভা মঞ্চের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জনসভা মঞ্চে পৌঁছে প্রধান অতিথির আসন নেন খালেদা। এর আগে, কিশোরগঞ্জে অভিনব কায়দায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। জোটের জনসভায় যোগ দিতে খালেদা জিয়া বুধবার বেলা ৩টায় কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউজে পৌঁছান। এ সময় একটি হাতির পিঠে চড়ে রাজকীয় পোশাক পরিহিত একজন কাঠের তলোয়ার তুলে বিএনপি চেয়ারপার্সনকে সালাম জানান। আর ময়মনসিংহ গীতিকার মহুয়া, মলুয়া ও সাখিনার বেশে তিন তরুণী খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দেন শুভেচ্ছার ফুল।