April 19, 2026
আব্দুর রাজ্জাক: ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার দাবিতে পূর্ব ঘোষিত ২৬ অক্টোবর সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে সম্মিলিত ইসলামীদল সমূহ। এজন্য সরকারকে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন আল্টিমেটাম দিয়েছেন ইসলামী দল সমূহের মহাসচিব মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ খান। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোল টেবিল মিলনায়তনে ‘‘স্বঘোষিত ধর্মদ্রোহী, মুরতাদ,কুলাঙ্গার আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে’’ সম্মিলিত ইসলামীদল সমূহ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এর আগে গ্রেপ্তারের জন্য ১৫ অক্টোবরের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিলো। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামী দল সমূহের মহাসচিব মোহামমদ জাফরুল্লাহ খান। সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে জাফরুল্লাহ খান বলেন, মুরতাদ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার করে দেশে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তা না হলে ২৬ অক্টোবর সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালিত হবে। প্রয়োজনে তার গ্রেফতারের দাবিতে লাগাতার হরতাল অবরোধ কর্মসূচিও দেয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এসময় সংবাদ সম্মেলন থেকে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম সহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মহানবী পবিত্র হজ্জ ও তাবলীগ জামায়াত নিয়ে কটুক্তি করে অমার্জনীয় অপরাধ করেছেন। তাই হেফাজতে ইসলামীর আমির মাওলানা আহমদ শফিসহ দেশ-বিদেশের সকল ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও সংস্থা তাকে মুরতাদ ঘোষণা দিয়েছে। আর মুরতাদের শাস্তি হল “মৃত্যুদন্ড”। তিনি বলেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী একজন স্বঘোষিত ধর্মদ্রোহী ও মুরতাদ। যেহেতু তিনি এখনো তওবা করেননি ও অনুতপ্ত হননি। তাই তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জাফরুল্লাহ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কটুক্তি করলে যেহেতু শাস্তির আওতায় আনা হয় তবে কেন নবীজীর বিরুদ্ধে কটুক্তি করলে শাস্তি দেয়া হবে না। মুরতাদ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে ধর্মদ্রোহী ও মুরতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা মৃত্যুদন্ড সম্মিলিত আইন পাশ করতে হবে। যাতে করে আর কেউ মহান আল্লাহ ও মহানবী ( স.) কে নিয়ে কুটক্তি করতে সাহস না করে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মোবিন, খেলাফত আন্দোলনের সাংগঠনিক মুফতি ফখরুল ইসলাম,মুসলীম লীগের মহাসচিব কাজী আব্দুল খায়ের, খেলাফত আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি ফখরুল ইসলাম, শর্ষিনার ছোট পীর মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ, আহকামে শরিয়া হেফাজত কমিটির সভাপতি আব্দুস সবুর প্রমুখ। গত ১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইসলামী দল সমূহ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। ঐ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ করা না হলে ২৬ অক্টোবর সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কর্মসূচি দেবার আল্টিমেটাম দেন।