পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি দখলমুক্ত

Posted on July 16, 2014 | in ইসলাম, জাতীয় | by

835bdd0848366e3b6c8e0c45492edb93-Pabna-2পাবনা : বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়িকা সুচিত্রা সেনের পাবনার পৈতৃক বাড়িটি আজ বুধবার সকালে দখলমুক্ত করা হয়েছে। ছবি প্রথম আলোবাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়িকা সুচিত্রা সেনের পাবনার পৈতৃক বাড়িটি আজ বুধবার সকালে দখলমুক্ত করা হয়েছে। বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত-নিয়ন্ত্রিত ইমাম গাজ্জালী ট্রাস্টের দখলে ছিল। উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ তাদের মালামাল সরিয়ে নিলে আজ সকালে প্রশাসন বাড়িটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আজ বাড়িটিতে তালা ঝুলিয়ে আমরা দখলে নিয়েছি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়িটি বুঝে নেওয়া হবে।’ জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও ইমাম গাজ্জালী ট্রাস্টের সেক্রেটারি আবিদ হাসান লেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা বাড়িটি ছেড়ে দিয়েছি।’
পাবনার সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি এম সাইদুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘মৌলবাদী জামায়াতচক্রের কাছ থেকে বাড়িটি দখলমুক্ত করতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিলাম। আজ বাড়িটি দখলমুক্ত হওয়ায় পাবনাবাসীর মনে স্বস্তি এসেছে।’ জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনে সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি। সেখানে তিনি বাবা-মা ও ভাইবোনের সঙ্গে শৈশব-কৈশোর কাটিয়েছেন। নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার দিবানাথ সেনের সঙ্গে সুচিত্রার বিয়ে হয়। এরপর স্বামীর সঙ্গে কলকাতায় চলে যান তিনি।

সুচিত্রা সেনের বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত পাবনা পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে কর্মরত ছিলেন। ১৯৫১ সালে তিনি অবসরে যান। ১৯৬০ সালে বাড়িটি জেলা প্রশাসনের কাছে ভাড়া দিয়ে পরিবার নিয়ে কলকাতায় চলে যান করুণাময় দাশগুপ্ত। এ সময় প্রশাসন বাড়িটিকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার বানায়। ১৯৮৭ সালে বাড়িটি ইজারা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে তদবির শুরু করেন জামায়াত নেতারা। তত্কালীন জেলা প্রশাসক সৈয়দুর রহমান বাড়িটিকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে ইমাম গাজ্জালী ট্রাস্টকে ইজারা দেন। এই ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সুবহান এবং সেক্রেটারি জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবিদ হাসান।

বাড়িটির পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা আইনজীবী শফিকুল ইসলাম জানান, বাড়িটির স্থাপত্যশৈলী অনেক সুন্দর ছিল। বাড়িটিতে ছাদসহ একটি একতলা ভবন ছিল। পামগাছ, করবী, রজনীগন্ধাসহ ফুলে ফুলে সাজানো ছিল বাড়ির চারপাশ। কিন্তু ইজারা গ্রহণকারীরা এসব স্মৃতি রাখেননি। তাঁরা ইজারার শর্ত ভেঙেছেন। ভবনের ছাদ ভেঙে টিন লাগিয়েছেন। মূল্যবান সব গাছ কেটে ফেলেছেন। সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাম দুলাল ভৌমিক জানান, বাড়িটি স্থায়ীভাবে দখলের জন্য ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ নানা কৌশল নেয়। ১৯৮৭ সালে জেলা প্রশাসন তাদের বাড়িটি বার্ষিক ইজারা দেয়। ১৯৯১ সালের ১৮ জুন বাড়িটি স্থায়ী বন্দোবস্ত নেওয়ার আবেদন করে ট্রাস্ট। ভূমি মন্ত্রণালয় স্থায়ী বন্দোবস্ত না দিয়ে বাড়িটি আবারও বার্ষিক ইজারা দেয়। পরবর্তী সময়ে ইজারার টাকা পরিশোধ না করায় ১৯৯৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয় ইজারা বাতিল করে। এরপর ট্রাস্টের নেতারা বকেয়া পরিশোধ করে ১৯৯৫ সালের ১৫ আগস্ট ইজারা নবায়ন করান। তারপর থেকেই বাড়িটি তাঁদের দখলে ছিল।

পরে পাবনাবাসী বাড়িটি দখলমুক্ত করে সেখানে সুচিত্রা সেন সংগ্রহশালা করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ২০০৯ সালে পাবনা জেলা প্রশাসন বাড়িটির ইজারা বাতিল করে ইমাম গাজ্জালী ট্রাস্টকে দখল ছাড়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু জামায়াত নেতারা দখল না ছেড়ে উচ্চ আদালতে যান। আদালত তাঁদের পক্ষে স্থিতাবস্থা দেন। পরে বাড়িটি দখলমুক্ত করতে রিট করেন আইনজীবী মঞ্জিল মোরসেদ। এ সময় আদালত বাড়িটি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেন। এরপর দখলকারীরা লিভ টু আপিল করেন। গত ৪ মে উচ্চ আদালত লিভ টু আপিল বাতিল করে বাড়িটি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেন। গতকাল মঙ্গলবার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়। আজ সকালে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাড়িটিতে হাজির হয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud