পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

সেই শিশুটির ‘স্বজনের’ সন্ধান!

Posted on July 13, 2014 | in সারা দেশ | by

ac36ac640cea45be02a547c9f3a3006e-Bogra (1)বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন শিশুটির দাদা হিসেবে নিজেকে দাবি করেছেন আবদুর রশিদ নামের এই ব্যক্তি। ছবি: সোয়েল রানাদুর্ঘটনায় মাকে হারিয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন সেই শিশুটির ‘স্বজনের’ দেখা মিলেছে অবশেষে। ঘটনার নয় দিন পর আজ রোববার কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের শিশুটির ‘স্বজন’ হিসেবে দাবি করেছেন। বেলা ১১টার দিকে প্রথমে আবদুর রশিদ (৪২) নামের এক ব্যক্তি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও হাইওয়ে পুলিশের কাছে নিজেকে শিশুটির দাদা হিসেবে দাবি করেন। দাবির সমর্থনে তিনি শিশুটির মা-বাবার বিয়ের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ হাসপাতালের পরিচালক ও হাইওয়ে পুলিশের পশ্চিমাঞ্চলের পুলিশ সুপারের কাছে জমা দিয়েছেন। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষবিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে হাসপাতালে গিয়ে নিজেদের শিশুটির বাবা, নানা-নানি ও দাদি হিসেবে দাবি করেন কয়েকজন নারী-পুরুষ। শিশুটিকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। এ সময় শিশুটি শান্ত ছিল। দাদা হিসেবে দাবি করা আবদুর রশিদ পেশায় ভিক্ষুক। তিনি বলেন, শিশুটির নাম মোরশেদা খাতুন ওরফে শিখা। বয়স এক বছর ১০ মাস। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিখার মায়ের নাম মুন্নী বেগম (২৪)। আর শিখার বাবার নাম গোলাম মোস্তফা (২৫)। তিনি পেশায় ভ্যানচালক। তাঁদের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক কানুপুর ইউনিয়নের বেড়া মালঞ্চ গ্রামে। তিনি জানান, গত শনিবার স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্যের জের ধরে বাবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে মেয়েকে নিয়ে রওনা হন মুন্নী। তিনি কাউকে কিছু না জানিয়েই বাড়ি থেকে বের হন। এর পর থেকে মা-মেয়ের সন্ধান মিলছিল না। গতকাল শনিবার প্রতিবেশীর জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে শিশুটির বিষয়ে আলোচনা শোনেন তিনি। পরে পত্রিকায় শিশুটির ছবিও দেখেন। এর ভিত্তিতে আজ বগুড়ার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাতনিকে শনাক্ত করতে ছুটে যান। হাইওয়ে পুলিশের পশ্চিমাঞ্চলের (বগুড়া) পুলিশ সুপার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, আবদুর রশিদের দেওয়া তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত করে নিশ্চিত হলে শিশুটিকে তাঁর স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তা নাহলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হবে কি না—এ বিষয়ে আগামীকাল গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হবে। পরিচয়হীন শিশুটিকে নিয়ে গত বুধবার প্রথম আলোয় ‘প্রিয় মুখ খুঁজছে শিশুটি’ ও গত শুক্রবার ‘প্রিয় মুখ খুঁজে পায়নি শিশুটি’—শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশের বহু মানুষ ফোন করে শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ৫ জুলাই দুপুরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালী সেতুসংলগ্ন হাওয়াখানা এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ট্রাকচাপায় শিশুটির মা গুরুতর আহত হন। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। স্বজনের খোঁজ না মেলায় বেওয়ারিশ হিসেবে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।
….. প্রথম আলো

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud