April 23, 2026
সেলিম সোহেল : অসহনীয় যানজটে আটকা পড়েছে রাজধানীবাসী। গেল কয়েকদিন থেকেই নগরীর এই অবস্থা। সপ্তাহের শুরুতে রোববার অফিসগামী মানুষগুলোকে ঘন্টার পর ঘন্টা গাড়ীতে বসে অপেক্ষা করতে হয়েছে। সময়মত অফিসে পৌঁছতে না পেরে অসহায় কালক্ষেপন করছেন বলে জানিয়েছেন অনেকেই। ঈদের কেনাকাটার ব্যস্ততা, যত্রতত্র অবৈধ গাড়ী পার্কিংয়ের সাথে ট্রাফিক পুলিশের অব্যবস্থাপনাও কম দায়ী নয় এই যানজটের জন্য। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে। বেলা ১২টা, রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে রাস্তার পাশে অসংখ্য অবৈধ গাড়ী পার্কিং। তাও আবার ৩ লাইন বিশিষ্ট। দেখে অনেকটা মনে হবে যে, এখানে গাড়ী পার্কিং না করাটাই যেন অনিয়ম। কথা হলো সচিবালয়ের সামনের এক ট্রাফিক পুলিশের সাথে। জানতে চাওয়া হলো, গাড়ী পার্কিংয়ের এই অবস্থা কেন? অসহায় উত্তর, ‘ ভাই এটা বাংলাদেশ, আর আমাদের কথা তো কেউ শুনতে চায়না’। ট্রাফিক পুলিশের এই কথায় আশ্চর্য হওয়ার কিছু আছে কিনা জানিনা। রাজধানীর বাংলামোটর থেকে ফার্মগেট এলাকা। বাংলামোটর থেকে ফার্মগেটের দিকে যানজটের শেষ হয়েছে কোথায়, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ঘন্টা খানেক। ৮/১০ মিনিট পর পর ট্রাফিক পুলিশ বাঁশি দিলে ১০/১২ টি গাড়ী সিগনাল অতিক্রম করতে পারে। তারপর আবারও ট্রাফিক পুলিশের বাঁশি। অপেক্ষা আরো ৮/১০ মিনিট। এভাবে মেসি নেইমারের গোলে রেফরির বাঁশির বদলে কয়েকবার ট্রাফিক পুলিশের সিগনাল ছাড়ার বাঁশি কর্ণকুহরে প্রবেশের পর ফার্মগেটে পৌঁছতে পারবেন। এক অসহায় যাত্রী বিরক্তিভরে বললেন, ‘ঢাকায় আর বেঁচে থাকার সুযোগ নেই। কি সকাল, কি দুপুর আর কি সন্ধ্যা, সারাক্ষণ ই যদি এমন যানজট থাকে, রাস্তায় পড়ে থাকতে হয়, কাজ করব কখন?’ এদিকে ইসলামপুর, নবাববাড়ি এলাকায় ঈদের পাইকারী কেনাকাটার ভিড়কে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকা এলাকায় যানজটের অবস্থা আরো মারাত্মক। রায়সাহেব বাজার থেকে গুলিস্তান এলাকায় আসতে অন্তত ঘন্টাখানেক সময় লাগবে। অসহ্য গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকা এক যাত্রী বললেন, ‘ ভাই, ক্যান যে বাইর হইছিলাম, সারাদিন রোজা রাইখ্যা যানজটে পড়ে গলাটা শুকায়্যা কাঠ হইয়্যা গ্যাছে’, আর বাইর হইতাম না’। রাজধানীতে অবৈধ গাড়ী পার্কিংয়ের কারণে সংকুচিত হয়ে আসছে রাস্তা। ফলে যানজটের মাত্রাটাও বেড়েছে অনেক। কিন্তু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব যাদের হাতে অর্পিত, তারাই যখন অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন, তখন এই অসহ্য যানজট নিরসনের সমাধান কোথায়?