April 29, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক: সামনে ঈদের ছুটিতে ২ ছেলের দেশে ফেরার কথা ছিল। মাকে বলেছিলেন, ঈদে বাড়ি আসছি। সুস্থ শরীরে ফিরে আসার কথা বলে আশীর্বাদ করেছিলেন মা। ফিরলেন ঠিকই, তবে কফিনবন্দি হয়ে। আজ শুক্রবার দুপুরে বাড়িত আসে ২ ছেলের নিথর দেহ। জীবিকার তাগিদে লিবিয়া যাওয়া ২ সন্তানের কফিন দেখে মা-বাবার আকাশ ভাঙ্গা কান্না। উপার্জনক্ষম কর্মঠ ২ সন্তানকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা। লিবিয়ায় মিসাইল হামলায় নিহত ২ সহদর স্বপন ছৈয়াল ও মিলনের মরদেহ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের কোদালপুরে পৌঁছে। শুক্রবার ভোর ৫টায় তুরস্ক এয়ারয়েজের একটি বিমানে তাদের মরদেহ দেশে নিয়ে আসা হয়। নিহত ২ সহদরের মরদেহ নিজ গ্রামে আসলে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। শুক্রবার বাদ জুমা জানাজা শেষে তাদের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত স্বপনের স্ত্রী মালেকা বেগম বলেন, ’২ বছরের শিশু পুত্র সাব্বির আহমেদ জন্মের পর তার বাবাকে দেখেনি। পবিত্র ইদুল ফিতরের ছুটিতে দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ঈদের আগে জীবিত আর ফেরা হলো না স্বপন ছৈয়ালের। স্বপন ফিরেছে ঠিকই, তবে জীবিত নয় লাশ হয়ে। সঙ্গে নিয়ে এসেছে আরেক সহদর মিলনের মরদেহ।’ বিলাপ করতে করতে মিলনের মা মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘শনিবার সকালে আমার বুকের মানিক ফোন করেছিল। বাংলাদেশের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা জানতে পেরে আমাদের সাবধানে থাকতে বলেছিল। আমরা সাবধানে রইলাম, আমার বুকের মানিক কোথায় চলে গেল?’ তিনি বলেন, ‘এবার ঈদের ছুটিতে ২ ছেলের বাড়ি আসার কথা ছিল। কিন্তু ঈদের আগেই তাদের নিথর দেহ বাড়ি ফিরেছে।” স্বপন ও মিলনের ছোটভাই ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমি এ বছর এসএসসি পাস করেছি। আমার কলেজের ভর্তি ও বইপত্র কেনার জন্য ভাইয়াদের টাকা পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু পেলাম ভাইয়ের লাশ।’ স্বপন ও মিলনের বাবা কুদ্দুস ছৈয়াল বলেন, ‘আমি দরিদ্র কৃষক মানুষ। সংসারের দারিদ্রতা ঘুচানোর জন্য ফসলী জমি বিক্রি করে দুই সন্তানকে লিবিয়া পাঠিয়েছিলাম। আমার সন্তানরা এভাবে অকালে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে কল্পনাও করতে পারিনি।’ এর আগে আজ শুক্রবার সকালে শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বপন ছৈয়াল ও মিলন ছৈয়ালের লাশ গ্রহণ করেন স্বজনরা। গত ২১ শে জুন রাতে লিবিয়ার স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১০টায় বেনগাজি শহরের সামা লিবিয়া নামের একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানার আবাসিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ ভাই মারা যান।