April 22, 2026
গোটা বিশ্বের যাবতীয় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ব্রাজিল। প্রায় ৬০ লাখ ক্রীড়াপ্রেমীর এখন নয়া ঠিকানা বিশ্বকাপের আয়োজক এই দেশ। ঝাঁ চকচকে স্টেডিয়াম, জোরালো আলোয় ভাসছে সাও পাওলো, রিও’র রাস্তাঘাট। ভিনদেশিতে ঠাসা রাজধানীর হোটেলের সব ঘর। সেক্স ট্যুরিজমের মতো ব্যবসাও জমে উঠেছে। কিন্তু ব্রাজিলে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নাবালিকাদের বেআইনি যৌন ব্যবসার রমরমা অবস্থা ঠেকানো যাচ্ছে না। মাত্র এক প্যাকেট সিগারেটের দামে পর্যটকরা পাচ্ছেন নাবালিকাদের দেহ ভোগের সুযোগ। এমনিতেই ব্রাজিল ফ্রি সেক্সের দেশ। যৌন ব্যবসা সে দেশে আইনিভাবে স্বীকৃত। কিন্তু ১৮ বছরেরও কম বয়সীরা যেভাবে বিশ্বকাপের সুযোগে সহজে টাকা রোজগারের রাস্তায় নেমে পড়েছে তা নিয়ে চিন্তিত সে দেশের সরকার। ব্রাজিলের আইনজীবী অ্যান্টনিও লিমা সিওসার বক্তব্য, ‘এই নাবালিকারা চরম দারিদ্র্য দেখেছে। নিজের মাকে অর্থের অভাবে যৌন ব্যবসায় নামতে দেখেছে। তাই যে মেয়ে মাত্র ১০ বছরের গণ্ডিও পেরোয়নি সে-ও বিশ্বকাপের সুযোগে সহজে অর্থ উপার্জন হিসেবে এই ব্যবসায় নেমে পড়েছে।’ ব্রাজিলের পঞ্চম জনবহুল শহর রেসিফিতে এই ব্যবসা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
নাবালিকাদের ভোগ করতে বিদেশি পর্যটকদের গ্যাঁট থেকে খসাতে হচ্ছে মাত্র দুই ডলার, জানাচ্ছে সে দেশের এক সংবাদপত্র। কিছু নাবালিকা আবার টাকাও চাইছে না। এক প্যাকেট সিগারেট বা একটু হেরোইনের বিনিময়ে শয্যায় যেতে প্রস্তুত ব্রাজিলীয় কিশোরীরা। এরকমই এক চাইল্ড সেক্স ওয়ার্কারের বক্তব্য, একটু নেশা করলে মাথার মধ্যে খিদের ভাবনা আসে না। তাই নেশা করি। আর নেশা করতে টাকা লাগে। কে দেবে টাকা? তাই এই ব্যবসায় নেমেছি। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ব্রাজিলে নাবালিকা যৌনকর্মীদের দেহ দান বেড়ে গেছে বহুগুণে। এক সমীক্ষায় জানা গেছে, সাউথ আফ্রিকা বা জার্মানিতে বিশ্বকাপের থেকে ব্রাজিলে বিশ্বকাপের সময় নাবালিকাদের এই পেশায় নামার পরিমাণ বেড়ে গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
পেশায় যৌনকর্মী, ১৪ বছরের আমান্ডা জানিয়েছে, অনিয়ন্ত্রিত যৌন সংসর্গের জন্য তাকে দুই বার গর্ভপাত করাতে হয়েছে। কিন্তু এই ব্যবসায় সে ইচ্ছা করে নামেনি। তার বয়স যখন পাঁচ, তখন দিদা তাকে জোর করে এক পুরুষের ঘরে ঢুকিয়ে দেয়। সেই শুরু। বিশ্বকাপের বাজারে এক প্যাকেট সিগারেট বা দুই ডলারের বিনিময়ে অপরিচিত পুরুষের সঙ্গে তাঁর শয্যায় যেতে প্রস্তুত আমান্ডা। আমন্ডার মত ২৫ লাখ নাবালিকা যৌনকর্মী এই মুহূর্তে ব্রাজিলের কোনো না কোনো শহরে পর্যটকদের মনোরঞ্জন করছে। তাদের মধ্যে কেউ অল্প সময়ে পয়সা রোজগার, কেউ আবার পরিবারের চাপে পড়ে এই ব্যবসায় নেমেছে। সে দেশের সংবাদপত্র জানাচ্ছে, মাত্র পাঁচ থেকে ১০ হাজার ডলারের বিনিময়ে এক শ্রেণীর দালাল এই কিশোরীদের তাদের পরিবারের কাছ থেকে সারাজীবনের মতো কিনে নেয়। তারপর সেই কিশোরীকে ব্যবসায় নামিয়ে আজীবন রোজগার করতে থাকে। এ রকমই এক হিউম্যান ট্রাফিক্যারের বক্তব্য, এখানে এত গরিব যে খুব সহজেই এই মেয়েদের বেশ্যাবৃত্তিতে নামানো যায়।
ব্রাজিল সরকার এই ব্যবসা থেকে নাবালিকাদের দূরে রাখতে বহু পয়সা খরচ করার দাবি করছে। কিন্তু সে দেশের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় কর্মরত এক সিস্টারের মতে, শিশুরা সঠিক পরিবেশে বাঁচার সুযোগ পেল কি না তা নিয়ে এ দেশের পুলিশ মোটেও চিন্তিত নয়। বরং পুলিশ এই ব্যবসা থেকে টাকা নেয়। আর পর্যটক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে এই ব্যবসা লুকাতে চায়। সূত্র- ইন্টারনেট।