April 29, 2026
কুর্মিটোলা বিহারী ক্যাম্প থেকে: রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশীতে শনিবার ভোরে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে সাতজনই একই পরিবারের বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। তবে এ নিয়ে বিভ্রান্তি আছে। দুই পরিবার মিলিয়ে ৭ জন মৃত্যুর দাবিও করছেন কেউ কেউ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) মিরপুর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইমতিয়াজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও ঠিক কতজন মারা গেছে তা নিশ্চিত করেন নি। বিহারী বসতির কুর্মিটোলা ক্যাম্পে রাখা লাশের সারির পাশ থেকে সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট জাহাঙ্গীর সুমন ও স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ইমরান আলী জানিয়েছেন, সেখানে ৯টি আগুনে পোড়া লাশ রয়েছে। আর আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে (ঢামেক) স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আবাদুজ্জামান শিমুল জানিয়েছেন, সেখানে আজাদ (৩৫) নামে একজনের মৃতদেহ রাখা হয়েছে। এছাড়াও মিরপুর-১২ নম্বরের কুর্মিটোলার পাকিস্তানি ক্যাম্পের জয়েন্ট সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে জানান, নিহতদের মধ্যে ৩ জন শিশু, ২ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ রয়েছেন। এর আগে সকালে এলাকায় বেশ কিছু বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘরে বাসিন্দারা আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন। কালসী ও আশপাশের বেশ কয়েকটি রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা বিহারি যুবক নবাব হুসাইন জানান, তার আত্মীয় আব্দুল কাদের (৯)সহ একই পরিবারের চারজন মারা গেছেন। আরেকটি পরিবারের দুইজন সদস্য অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। উপ-কমিশনার (ডিসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, কয়েকদিন আগেও একই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে বিহারিদের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষ হয় বিহারি ও স্থানীয়দের।
শনিবার এ ধরনের বিষয় নিয়েই স্থানীয় ও বিহারিদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে রাস্তার পাশে থাকা দু’টি বিহারি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ আগুন দুর্ঘটনার নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ লাগিয়েছে তা জানা যায়নি বলে জানান পুলিশের ডিসি।
তিনি আরো বলেন, আমি কয়েকজনের মৃত্যুর কথা শুনেছি। তবে ঠিক কতজন মারা গেছেন তা বলতে পারবো না। এদিকে এ ঘটনায় মো. আসলাম (৫০), বদর উদ্দিন (৪৫), আরজু (১৬) নামে গুলিবিদ্ধ তিন ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়াও ফারজানা নামে এক অগ্নিদগ্ধ নারী ঢামেকে এসেছেন। তার মুখ, শরীরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে পুড়ে গেছে। তিনি মিরপুর-১২ এর কুর্মিটোলা ক্যাম্পে বসবাস করেন।
ফারজানাকে ঢামেকে নিয়ে আসা প্রতিবেশী নুরুদ্দিনসহ কয়েকজন জানান, ফারজানার ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। তারা শুনেছেন, ফারজানার মা—বোনসহ পরিবারের চারজন ঘরে আটকা পড়ে মারা গেছেন। দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। হঠাৎ এ সংঘর্ষ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন পল্লবী থানা পুলিশ। থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহাবুবুল হক বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। এদিকে আহত আসলামের স্ত্রী নাজমা বেগম জানান, আনুমানিক সকাল ৭টায় পল্লবীর কালশীর নতুন রাস্তায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে আসলাম আহত হন। তার পিঠে গুলি লাগে। আসলাম তার পরিবারসহ মিরপুর-১২ এর কুর্মিটোলা ক্যাম্পে বসবাস করেন।
…বাংলানিউজ