April 29, 2026
‘শবে বরাত’, অর্থাৎ সৌভাগ্যের রজনী। আরবিতে একে বলা হয় ‘লাইলাতুল বরাত’। গতকাল ১৪ শাবান শুক্রবার দিবাগত রাতটিই পবিত্র শবে বরাত। হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত। মহান আলøাহ তাআলা এ রাতে বান্দাদের জন্য তাঁর অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। মহিমান্বিত এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা বিগত জীবনের সব ভুলভ্রান্তি, পাপতাপের জন্য গভীর অনুশোচনায় মহান আলøাহ তাআলার দরবারে সকাতরে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তাঁরা নফল নামাজ, জিকির-আজকার, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বিনম্র প্রার্থনা করেন।
একই সঙ্গে প্রয়াত আত্মীয়স্বজনসহ চিরবিদায় নেওয়া মুসলিম নর-নারীর কবর জিয়ারত করে তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা দোয়া করেন। এ ছাড়া পাড়া-মহলøার মসজিদগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে। অনেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থেকে শেষ রাতে সেহরি খেয়ে আজ শনিবার নফল রোজা রেখেছেন।
শাবান মাসের পরেই আসে পবিত্র মাহে রমজান। শবে বরাত মুসলমানদের কাছে রমজানের আগমনী বার্তা বয়ে আনে। শবে বরাতের মধ্য দিয়েই শুরু হয় রমজান মাসের সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি।
এ ছাড়া, বাঙালি মুসলিম সমাজে শবে বরাতের একটি আনন্দঘন সামাজিক দিকও রয়েছে। এদিন মুসলমানদের বাড়িতে সাধ্যানুযায়ী হালুয়া, পায়েস, রুটিসহ উপাদেয় খাবার রান্না করা হয়। এসব খাবার আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর বাড়িতে পাঠানো ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে বিতরণ করা হয়। অনেকে মুক্ত হস্তে দান-খয়রাত করেন।