April 29, 2026
প্রতিবেদক : প্রবেশ পথের পাশাপাশি রাজধানীর ফলের আড়তগুলোতেও ফরমালিনবিরোধী অভিযান পরিচালনা করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ফলে ফরমালিনবিরোধী অভিযানের বিষয়ে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, গত দুইদিন ধরে রাজধানীতে প্রবেশ পথে আটটি চেকপোস্টে রাতে ফলের ফরমালিনবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু যদি কোনো অসাধু ব্যবসায়ী রাতে এসে দিনে রাজধানীতে ফলের ট্রাক প্রবেশ করিয়ে এ ফরমালিনযুক্ত ফল বিক্রি করতে না পারে সে জন্য আড়তেও এই অভিযান চালানো হবে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীতে প্রবেশের আটটি চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে ফলের পাশাপাশি অতিরিক্তমাত্রার ফরমালিনযুক্ত আরেকটি নতুন ফলের নির্যাসজাতীয় জুসের উপাদান জব্দ করেছে পুলিশ। যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযানে মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ১৩৪ পিপিএম মাত্রার ফরমালিনযুক্ত সাড়ে ৩শ’ মন পাল্প জব্দ করা হয়। ফলের নির্যাসজাতীয় এ পাল্প দিয়ে বিভিন্ন জুস ও জুস বার তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। কুষ্টিয়ার ভেরামারার বেগান অ্যাগ্রো থেকে ঢাকার জুস কোম্পানির কাছে যাচ্ছিল এ পাল্প।’ তবে কোন কোন জুস কোম্পানির কাছে এ পাল্প যাচ্ছিল তা জানাতে পারেনি পুলিশ। প্রেস ব্রিফিংয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, দ্বিতীয় দিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতে আটটি চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার ৫শ’ মণ আম, ৭শ’ ৯৪ মণ জাম, সাড়ে ৫ হাজারটিরও বেশি লিচু ও পেঁপে, কলা, ডাব, তাল, কাঁঠাল, আনারস, মাল্টা, আঙ্গুরসহ অন্যান্য ৩শ’ ৫৫ মণ ফল জব্দ করা হয়। এ সব ফলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ফরমালিন ধরা পড়েছে পেঁপেঁ ফলে (১৪৪ পিপিএম) ও আমে (১৩৪ পিপিএম)। অভিযান শেষে এ সব ফল নষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২১টি মামলা দায়ের করেছে এবং ৫০ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ফরমালিন আমদানিকারকদের মজুদের ওপরও গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হয়েছে। অনুমতি চেয়ে বেশি মজুদ থাকলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারা এ ফরমালিন কিনছে তাদেরও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তবে এ ফল নষ্ট করার সুযোগে কোনো ব্যবসায়ী ফলের দাম বৃদ্ধি করবেন না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান।