পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

নজরুলকে হত্যা করতে না পারায় আরিফকে খোঁটা দিতেন তারেক

Posted on June 13, 2014 | in জাতীয় | by

4-6-2014-01-9আবু সালেহ আকন: এর আগেও হত্যার চেষ্টা করা হয় কাউন্সিলর নজরুলকে। কিন্তু সে যাত্রায় ব্যর্থ হন মেজর আরিফ। আর তা নিয়ে প্রায়ই খোটা দিতেন লে. কর্নেল তারেক। বলতেন তোমাকে দিয়ে কিচ্ছুু হবে না, এ কাজটিও করতে পারো না। শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হন। তুলে নিয়ে হত্যা করেন নজরুলকে। হত্যা করেন তার সঙ্গী অপর চারজন এবং অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার ও তার ড্রাইভার ইব্রাহিমকে। হত্যা করে তিনি নিজেই লাশ নিয়ে যান গুম করার জন্য। ২৮ এপ্রিল রাতে র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদেই তিনি এসব স্বীকার করেন। প্রথমে বলতে না চাইলেও যখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে আটকের ভয়ভীতি দেখান তখন তিনি এগুলো স্বীকার করতে বাধ্য হয়। আর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরদিন তাদের প্রত্যাহার করা হয় এবং পরে অন্তরীণ করা হয়। র‌্যাবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাতজন অপহরণের বিষয়টি ঘটনার পরপরই তারা জানতে পারেন বিভিন্ন সূত্র থেকে। অপহৃত সাতজনকে উদ্ধারের জন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে নির্দেশও দেয়া হয়। এর পরই সদর দফতর থেকে যোগাযোগ করা হয় নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বে থাকা র‌্যাবের কর্মকর্তাদের সাথে। দুপুরের দিকে যখন র‌্যাব-১১ এর সিও লে. কর্নেল তারেকের সাথে যোগাযোগ করা হয় তখন তিনি বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। এর পর থেকে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিলেন। এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব সদর দফতরের সন্দেহ হলে ওই ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করা হয়। রাতের দিকে এ সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। গভীর রাতে তারেক টিঅ্যান্ডটি ফোন দিয়ে মেজর আরিফের মোবাইলে কথা বলেন একাধিকবার। সেই ফোনালাপ থেকেই র‌্যাব সদর দফতর নিশ্চিত হয় এই অপহরণের সাথে তারেক, আরিফ ও এম এম রানা জড়িত। তবে রানা সাতজনকে হত্যার বিরোধিতা করেন। ভোর রাতে মেজর আরিফকে যখন সদর দফতরে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তখন তিনি এ কথা জানান। রানা অপারেশনে থাকলেও হত্যার বিপক্ষে ছিলেন। র‌্যাব সূত্র জানায়, রাতে র‌্যাবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মেজর আরিফের মোবাইলে কয়েকবার কল করেন। কিন্তু আরিফ তার ফোন ধরেননি। একপর্যায়ে আরিফ লে. কর্নেল তারেকের মোবাইলে ফোন করে জানতে চান তিনি ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফোন ধরবেন কি না। তখন তারেক আরিফের উদ্দেশে বলেন, ‘মোবাইলটি রেখে যেতে বলেছিলাম না’। আরিফ তখন জানতে চান এখন কী করব। তারেক তাকে বুদ্ধি দেন মোবাইল ধরার জন্য। ধরে ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে যেন বলা হয় মেঘনায় একটি অপারেশনে আছেন তিনি। সে অনুযায়ী ফোন ধরেন আরিফ। অপারেশনের কথা বললে ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে অপারেশন কোজ করে সদর দফতরে যাওয়ার জন্য বলেন। এ সময় ট্রলারের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ভোর রাতে আরিফ সদর দফতরে এলে তিনি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। প্রথমে তিনি কোনোভাবেই সাতজনকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করতে চাইছিলেন না। বারবার রেফারেন্স দিচ্ছিলেন তার কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল তারেকের। তখন ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তারেকের মোবাইলে ফোন দিয়ে বিষয়টি তাকে অবহিত করেন এবং বলেন, আরিফ তার রেফারেন্স দিচ্ছেন। তারেক তখন আরিফের মোবাইলে ফোন দেন এবং জানতে চান ওই কর্মকর্তা কী জানতে চাইছেন। আরিফ তখন বলেন, সব তথ্য নিয়েই ওই কর্মকর্তা কথা বলছেন। একপর্যায়ে আরিফ সব কিছু বলে ফেলেন। তারেকও সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। তারা কিভাবে হত্যা করেছেন সব কিছু ওই রাতেই বলে দেন। তাদের কথোপকথন, জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তিÑ সব কিছুই রেকর্ড করা হয় এবং পরে বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ মহলকে অবহিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাতজনকে অপহরণ, হত্যা ও লাশ গুমের বিষয়টি ওই রাতেই পরিষ্কার হয়ে যায়। এর সাথে র‌্যাবের যেসব কর্মকর্তা জড়িত তা র‌্যাব সদর দফতরের জিজ্ঞাসাবাদে ওই রাতেই বের হয়ে আসে। সে অনুযায়ী পরদিনই তাদেরকে প্রত্যাহার এবং স্ব স্ব বাহিনীতে সোপর্দ করা হয়।
সূত্র জানায়, যে কর্মকর্তা ওই রাতে তারেক ও আরিফকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং বিষয়টি ডিটেক্ট করেন সেই কর্মকর্তাকে দেখে নেয়ার হুমকিও দেন লে. কর্নেল তারেক। এমনকি তাকে ফাঁসিয়ে দেয়ারও হুমকি দেন তারেক।
উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং নাসিকের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ মোট সাতজনকে অপহরণ করা হয়। ৩০ এপ্রিল ও ১ মে তাদের লাশ উদ্ধার হয় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে। অপহরণের পরই নাসিকের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নূর হোসেন, থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন, নজরুলের চাচা শ্বশুর হাসমত আলী হাসু, ইকবাল হোসেন ও আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় র‌্যাব ১১ এর তৎকালীন সিও লে. কর্নেল তারেক মোহাম্মদ সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন এবং লে. কমান্ডার এম এম রানাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইতোমধ্যে তারা এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud