পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের পরিকল্পণা

Posted on March 28, 2014 | in নির্বাচন কমিশন | by

আবু সাইদ: পঞ্চম দফা উপজেলা নির্বাচনের পর আরো ৩ বছরেরও বেশি সময়ের জন্য অধিকাংশ উপ-কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অবস্থানকে ঠিক রেখে প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ এরইমধ্যে ২৪৫ জন উপ সচিবকে সাক্ষাতকার দেয়ার জন্য ডেকেছে যাদের মধ্য থেকে অধিকতর যোগ্য কর্মকর্তাদের বাছাই করে জেলা মেজিস্ট্রেটের পদমর্যাদায় উপ-কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়া হবে।
মন্ত্রীপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মুশাররাফ হোসেইন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে গঠিত ইন্টারভিউ বোর্ডকে এই সাক্ষাতকার গ্রহণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই ইন্টারভিউ বোর্ডে উত্তীর্ণরা উপ-কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাবেন যারা কিনা আইন শৃঙ্খলা রাক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পালনের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে নজরদারী করবেন।
শনিবার সকাল থেকে এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হবে এবং মঙ্গলবার পর্যšত্ম চলবে এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী বলেন, শনিবার থেকে উপ-কমিশনার নিয়োগের জন্য যে সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হচ্ছে এটা প্রশাসনে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে একটা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, দেশের চলমান উপজেলা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই সময়ের মধ্যে ১০০ জন কর্মকর্তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। যারা দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে অধিকাংশ জেলায় উপ-কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অপরএক কর্মকর্তা বলেন, দেশের বেশিরভাগ জেলায় উপ কমিশনার পদে রদবদলের পাশাপাশি দেশের অনেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদেও রদবদল হবে।

অনেক এলাকায় সহিংসতা এবং ক্ষমতানীন দলের লোকদের কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতির মধ্যদিয়ে  সম্প্রতি চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ৩১ মার্চ এই নির্বাচন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই শুরু হবে প্রশাসনে এই রদবদল। তবে কর্মকর্তাদের অনেকেরই অভিযোগ, প্রশাসনে দলীয় অবস্থানকে আরো সুসংহত করতেই সরকার সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের অনুগত লোকদের জেলা মেজিস্ট্রেট পদমর্যাদায় উপ-কমিশনার পদে নিয়োগ দিয়ে থাকে।

গত ৫ জানুয়ারী জেলা-উপজেলা পর্যায়ের  প্রশাসনে বড় ধরনের কোন পরিবর্তন ছাড়াই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধিন প্রশাসনের অধিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের অধিনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসন এই নির্বাচন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধিনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় এমন আশংকায় বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন বয়কট করে।

এ অবস্থায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অর্ধেকেরও বেশি আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং যেসব আসনে নির্বাচন হয়েছে তাতেও ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। এই নির্বাচনে জয় লাভের মধ্যদিয়ে চলতি বছরের ১২ই জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেষ হাসিনা টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রীসভা পূর্ববর্তী সরকারে ত্রুটি বিচ্যুতির বিষয়টি মাথায় রেখে আগামী ৫ বছরের জন্য আরো সুন্দরভাবে দেশ  পরিচালনা করতে প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেয় সরকার। নিউএজ

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud