May 6, 2026
ঢাকা: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুর্নীতির মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ৫৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ আসামি খালাস পেয়ে গেছে। ৪৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ মামলায় আসামির সাজা হয়েছে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ বছরে নিষ্পত্তি হওয়া ১ হাজার ৫০৭টি মামলার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। দুদকের আইন বিভাগ জানায়, গত পাঁচ বছরে দুর্নীতির ১ হাজার ৫০৭টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫৬টি মামলায় আসামিদের সাজা হয়েছে। ৮৫১টি মামলায় আসামি খালাস পেয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে কেউ ইতিমধ্যে সাজা ভোগ করেছেন, কেউ জেলে আছেন। তবে বেশির ভাগই পলাতক। দুদক সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন ব্যুরো নামের প্রতিষ্ঠানকে ঢেলে সাজিয়ে ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অভিযোগ অনুসন্ধান, মামলা, তদন্ত, আদালতে চার্জশিট পেশ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কমিশনের তেমন কোন কার্যক্রম ছিল না বললেই চলে। মূলত: কমিশনের কার্যক্রম ২০০৭ সালের প্রথম থেকে শুরু হয়।
একটি অভিযোগ অনুসন্ধান, মামলা দায়ের ও তদন্ত, চার্জশিট পেশ এবং আদালতে বিচার শেষ হতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লেগে যায়। কোনো কোনো মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে দশ বছরও লেগে যায়।
দুদকের আইন বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ বছরে ৮১৪ মামলার মধ্যে ৩৫৮টি মামলায় আসামিদের সাজা হয়েছে। ৪৫৬ মামলায় আসামিরা খালাস পেয়েছেন। মামলাগুলো দায়ের করেছিলো দুর্নীতি দমন ব্যুরো। এর মধ্যে ২০০৯ সালে সর্বোচ্চ ৬৮ শতাংশ মামলায় আসামিদের সাজা হয়। অন্যদিকে ২০১২ সালে ১৭ শতাংশ মামলায় আসামিদের সাজা হয়েছে যা আগের বছরগুলোর তুলনায় সবচেয়ে কম।
দুদক গঠন হওয়ার পর একই সময়ে নিষ্পত্তি হওয়া ৬৯৩ মামলার মধ্যে সাজা হয়েছে ২৯৮টিতে। খালাস পেয়েছেন ৩৯৫ মামলার আসামি। কমিশন গঠন হওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে ২০০৯ সালেই মামলায় সাজা সর্বোচ্চ ৬১ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল। আর পাঁচ বছরের মধ্যে সাজা কমে ২০ শতাংশে নেমেছিল ২০১১ সালে।
দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, ব্যুরোর কাছে উত্তরাধিকারসূত্রে দুদক ১০ হাজার ৮৩টি মামলা পায়। যার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে প্রায় ৭ হাজার মামলা। ১৫-২০ বছরের পুরনো মামলা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে দুদকের ‘অনিষ্পন্ন সেল’।
বিলম্বজনিত কারণে অভিযোগকারী, সাক্ষী ও আসামির মৃত্যু, অবসরগ্রহণ, ঠিকানা পরিবর্তন ইত্যাদি মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মামলার ফাইলের ভেতর কাগজপত্র নেই। গায়েব হয়ে গেছে কিংবা পোকায় খেয়েছে। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে বহু মামলার আলামত। ফলে অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা বেড়েই চলছে।
দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ বিষয়ে রাইজিংবিডিকে জানান, বিচারিক কাজে দুদকের এ অর্জন নেহায়েত কম নয়। উচ্চ আদালতে স্থগিত আদেশসহ নানা জটিলতায় বিচারিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা মামলার সাফল্যেও পেছনে প্রধান অন্তরায়।
এই সংকট দূর করতে কমিশনে আইনজীবী প্যানেল শক্তিশালী করা হচ্ছে। প্রতিটি মামলায় আইনি মোকাবেলা করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী দিনে মামলার ক্ষেত্রে সাজা হার বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।