April 26, 2026
ঢাকা: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির পূর্বঘোষিত সমাবেশ শুরু হয়েছে। মিছিল নিয়ে দলের নেতা-কর্মীরা এরইমধ্যে অবস্থান নিয়েছেন সমাবেশ স্থলে। জামায়াতের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়নি। কারণ বিএনপি আগেই সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছে এই কর্মসূচি আঠারো দলের নয়, শুধু বিএনপির। সোমবার বেলা দুইটা ১০ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন বেলা তিনটার দিকে সমাবেশস্থলে আসবেন। সাড়ে তিনটার দিকে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। মঞ্চে কেন্দ্রীয় নেতারা অবস্থান নিলেও স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্য এখনো সমাবেশস্থলে আসেননি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুপুর ১২টার দিকে এসে আবার চলে যান।
মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সাবেক সাংসদ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মনির খান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ। গণসমাবেশটি বিএনপির একক কর্মসূচি হলেও মঞ্চে উপস্থিত আছেন এনডিপির সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোর্তজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। এদিকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হচ্ছেন সমাবেশে। তারা দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে স্লোগান দিচ্ছেন। ২০ ফুট প্রস্থ ও ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। মঞ্চে ৯০টি আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ভোট ‘বর্জন’ করায় তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। দশম সংসদ নির্বাচনের পর এটিই হবে খালেদা জিয়ার প্রথম গণসমাবেশ। রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সোমবার বিএনপির এই গণসমাবেশের অনুমতি দেয়। পরে রাত আটটায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন অভিযোগ করেন, সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অসহযোগিতা করেছে।
তিনি বলেন, সমাবেশের ঠিক ১৮ ঘণ্টা আগে অনুমতি দিলেও সমাবেশ সফল করতে এ স্বল্প সময়কেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। জনগণ যেভাবে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছে, সেভাবে সোমবারের সমাবেশেও উপস্থিত হয়ে সরকারের প্রতি অনাস্থা জানাবে। সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে রিপন জানান, সোমবারের গণসমাবেশ শুধু বিএনপির কর্মসূচি।