April 20, 2026
প্রবাদ আছে, যত গর্জে তত বর্ষে না। সেটাই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রমাণ হলো। আমাদের বহুকালের একটা গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ছিল, যা ভেঙে চুরমার, খান খান হয়ে গেছে। এখন আর কোন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বালাই নেই। নেতা-নেত্রীদের ইচ্ছা-অনিচ্ছাই গণতন্ত্র। দেশের জন্মের বেদনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলাম তারা সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে গিয়ে অন্য মেরুতে পড়ে আছে। এখন যখন যেমন তখন তেমনের পালা। একে একে দুই বা দুইয়ে দুইয়ে চার হয় না। বঙ্গবন্ধু নিহত হলে ঘাতকের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। সে সময় যারা খুনিদের দালালি করেছে, পক্ষ নিয়েছে তারাই বরং ভাল, ফুলে ফেঁপে বটগাছ হয়েছে। আমরা প্রতিবাদকারীরা চিকন হতে হতে একেবারে শুঁটকি। একটানা ১৬ বছর নির্বাসনে ছিলাম। দেশে ফিরে একদিন দেখলাম ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামকে আওয়ামী লীগ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। কি অপরাধ, তিনি পাকিস্তানি দূতাবাসের দাওয়াতে গিয়েছিলেন। এডভোকেট আনিসুল হকের পিতা সিরাজুল হককে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করে করে অবস্থা। লজ্জার খাতিরে তিনি নিজেই ইস্তফা দিয়েছিলেন। সিরাজুল হক আর বঙ্গবন্ধু একই সঙ্গে কলকাতার বেকার হোস্টেলে ছিলেন। শুনেছি, জননেত্রীর জন্মের খবরে বঙ্গবন্ধু বেশ মনমরা ছিলেন। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করলে বলেছিলেন, কি বলি ভাই! বাড়িতে বউ রেখে এসেছি। ক’দিন হলো একটি সন্তান হয়েছে। হাত খালি, কি যে করি! তখন বঙ্গবন্ধুর বন্ধু সিরাজুল হক নেত্রীর জন্য ফতুয়াসহ অন্যান্য জিনিসপত্র কিনেছিলেন। তা নিয়ে বহু পরিশ্রম করে মেয়ের মুখ দেখতে বঙ্গবন্ধু টুঙ্গিপাড়ায় গিয়েছিলেন। তখন এখনকার মতো এত সুবিধা ছিল না, এত স্বাচ্ছন্দ্য ও ক্ষমতাও ছিল না। সেই এডভোকেট সিরাজুল হক বাদ পড়েছিলেন। ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পক্ষে আইনজীবী হওয়ায় এক সময় আওয়ামী লীগ করতে পারেননি। কিন্তু এখন সেই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং তার জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের গলার মালা। এক সময় ভাবাও যায়নি, যে আওয়ামী লীগ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে টেনে নামিয়েছিল, সেই এরশাদ আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওঠাবসা করতে পারে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যেদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে সেদিন নিশ্চয়ই নুর হোসেন, ডা. মিলন কবর থেকে হাততালি দিয়েছে। নুর হোসেনের বাবা-মা, ডা. মিলনের বাবা-মা, আত্মীয়স্বজনের দোয়ায় আওয়ামী লীগ ফুলেফেঁপে উঠে নেত্রীর রাজনৈতিক পরিপক্বতা বিশ্বজোড়া প্রসার পেয়েছে। রাজনীতিতে শেষ কথা নেই- এই প্রবাদ এমন ন্যক্কারজনক রূপ নিতে আর কেউ কখনও দেখেনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নিয়ে মহাজোট করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সারা পৃথিবীকে দেখিয়ে ছিলেন সৎ-অসৎ, ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়ের মহামিলন হলে কি হয়। বিশেষ করে স্বৈরাচার আর গণতন্ত্রের আচার একসঙ্গে হলে কি হয়। সে এক দুর্দান্ত স্বাদের বহিঃপ্রকাশ। এক কথায় ২০০৮ সালে তিনি যে রাজনৈতিক চমক দিয়েছিলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনে সারা পৃথিবীতে এমন ব্যর্থ দ্বিতীয় কোন রাজনীতিক পাওয়া যাবে না। পৃথিবীতে বহু স্বৈরতন্ত্র, রাজতন্ত্র ছিল, এখনও আছে কিন্তু এমন জগাখিচুড়ি কেউ কোথাও দেখেনি। শুনেছি, ঝি মেরে বউকে বোঝানো। জজকোর্ট, হাইকোর্টে দেখেছি, অনেকে শত্রুকে বা অন্যকে নাজেহাল করতে নিজের সন্তানকে হত্যা করে। কিন্তু মহাজোট সরকারের আমলে দেখলাম, সরকার হত্যা করে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপায়। গত কয়েক বছর অন্যায়ভাবে সরকার হত্যা গুম করে অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চেষ্টা করেছে। চোরের মা’র বড় গলা শুনেছিলাম, ইদানীং তাও দেখলাম। মানুষ মারা, জ্বালাও পোড়াও এসবের অনেকটাই করেছে সরকার বা সরকারি দলের সমর্থকেরা। কিন্তু চালিয়ে দেয়া হয়েছে বিরোধী দলের ওপর। দারুণ দুর্বল বিরোধী দল তার জবাব দিতে পারেনি। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন- গণমানুষের এই দাবিটাও আদায় করতে সঠিক ভূমিকা রাখতে পারেনি। এখনও দেশের শতকরা ৯০ জন মানুষ কলুষমুক্ত অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। দুই-তিন শতাংশ ভোটার ভোটকেন্দ্রে যায়নি, তারপরও মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন ৪০ শতাংশের হিসাব দিচ্ছে। ছাত্র নকল করলে শিক্ষক ফেরায়, কিন্তু শিক্ষকরা করলে কে ফেরাবে? পরিচালনা পরিষদ, গভর্নিং বডি? তারাও যদি দুর্নীতিপরায়ন হয় তাহলে উপায় কি? আসলে খুব একটা উপায় নেই। রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি আর অসততা জমাট বেঁধেছে সেখান থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ নয়। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচন কাজে কত ম্যাজিস্ট্রেট অংশ নিয়েছিল, তারা যখন বিচার করবেন, তখন তাদের বুকে বাঁধবে না জাতীয় নির্বাচনে ভোট চোরকে তারা সহায়তা করেছেন? পুলিশ, বিডিআর, আনসার ভিডিপি -যাদের চোর-ডাকাতের হাত থেকে দেশের ধন-সম্পদ রক্ষা করার কথা, তারা যে জাতীয় নির্বাচনে চোরের সাথি হয়েছেন, তাদের বিবেক কি একটুও নাড়া দেবে না? যদি তাদের বিবেক নাড়া না-ও দেয় স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে ভাল থাকতে, সৎ থাকতে, সত্য কথা বলতে তারা বলবেন কি করে বা উপদেশ দেবেন কি করে? নিজে অন্যায় করে অন্যকে অন্যায়ে বাধা দেয়া যায় না।
গতবার স্বৈরাচার সঙ্গে নিয়ে তারা জোট করেছিলেন। জোট করে ভোট করেছেন, সে জন্য আল্লাহর বিচারে যা হওয়ার তা হবে। জনতার বিচারেও যে কমবেশি কিছুই হবে না তা নয়। নুর হোসেন, ডা. মিলনের আত্মার অভিসম্পাত আর তাদের পরিবার-পরিজনদের হা-হুতাশ নিশ্চয়ই আল্লাহর আরশ কেঁপে কেঁপে উঠবে এবং পরিণতি যা হওয়ার তা অবশ্যই হবে। কিন্তু এবার নির্বাচন নিয়ে যে বাহানা হয়েছে তার কোন মানে হয় না। মহাজোট একসঙ্গে নির্বাচন করবেন, সিট ভাগাভাগি করবেন তা নিয়ে কার কি মাথাব্যথা? কিন্তু এত নকশা কেন? এটা তো কোন নির্বাচন নয়। মহাজোট আগেও ছিল, এখনও আছে। তাদের থাকতে কে মানা করেছে? যে যা-ই বলুন, বাধা বা নির্বাচন বয়কট করার কারণে ভোটকেন্দ্রে যে ভোটার যায়নি এটা শাশ্বত সত্য। ভোটার থাকলে পত্র-পত্রিকায় টেলিভিশন ক্যামেরায় উপচে পড়া ভোটারের ছবি থাকতো। কেন জাতীয় পত্রিকায় কুকুরের ছবি আসবে? কেন মন্ত্রীর ছেলের ৪৭৫ ভোট দিতে আঙুল ব্যথা করবে? কেন প্রিজাইডিং অফিসারকে সরকারের পক্ষে সিল দিতে হবে? এসবই তো নৈতিকতার পতন। শিডিউল ঘোষণার পরপরই বর্তমান সরকার নির্বাচনে হেরে গেছেন। ১৫৩ বা ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন পৃথিবী কখনও দেখেছে? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইংল্যান্ডের ত্রাণকর্তা উইনস্টন চার্চিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেননি। এমনকি নির্বাচনে জয়ী হতেও পারেননি। শুনছি মহাজোটের বা জননেত্রীর প্রধান খুঁটি ভারত। সেখানে লোকসভার ৫৪৫ সিট। আগামী মে-তে নির্বাচন। খোঁজ নিয়ে দেখবেন ক’জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন একেবারে তুলার মতো হালকা করে দিয়েছে ১৫৩ বা ১৫৪ জনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন। পাঠকরা খেয়াল করবেন, ভবিষ্যতে এই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৫৩ জনের ১৫০ জনই ফেল করবে। তার মধ্যে জামানত হারাবেন ১২৫ জন। এটা কোন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নয়, কেয়ামত পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে না। এখন আবার আরেক বাহানা শুরু হয়েছে। জাতীয় পার্টি একসঙ্গে নির্বাচন করেছে, একসঙ্গে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে, এখন একসঙ্গে সরকারে থাকবে। হঠাৎ জননেতা শেখ হাসিনার খেয়াল হয়েছে সংসদে একটা বিরোধী দলও থাকতে হয়। পাতানো সরকার, পাতানো নির্বাচন, শেষ পর্যন্ত পাতানো বিরোধী দল। জনাব আ.স.ম আবদুর রব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের গৃহপালিত বিরোধী দল হয়েছিলেন। এখন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি শেখ হাসিনার গৃহপালিত সরকার এবং বিরোধী দলে শামিল হলেন- এতে দোষের কি? কতটা শরম লেহাজহীন হলে বলা যায়, আমরা সরকারেও থাকবো, বিরোধী দলেও থাকবো। মানে তারা যা করবেন জনগণ সব মেনে নেবে। হ্যাঁ, এমনটা হয়, হতভম্ব বিরোধী দল থাকলে। দেশের মানুষ কখনও সখনও এরকম হতাশ ও দিশাহারা হলে লোভী চতুররা এমনটাই ভাবে। মূল কথা অবৈধ সংসদে প্রকৃত বিরোধী দল নেই। রওশন এরশাদ সরকারের অনুগ্রহে তথাকথিত সংসদ সদস্য হয়েছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তার মার্কা না থাকায় জাতীয় পার্টির কেউ সঠিক অর্থে নির্বাচিত নন। নানা বর্ণের, রঙের ফানুস হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার যদি কোন বিবেক বিবেচনা ও বিচারবোধ থাকতো তাহলে আর সবাই শপথ নিলেও সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি নিতেন না। কারণ তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা সবই দেখেন এবং জানেন। তার আর এই ভাঙা হাটে রঙ করে শপথ নেয়ার মানে ছিল না। কেন তিনি শপথ নেবেন? তার কথায় যারা পাতানো নির্বাচন করেননি তাদের কি হবে? যে এরশাদকে রংপুরের মানুষ বুকে তুলে নিয়েছিলেন, তার চরম দুঃসময়ে রাজনীতিতে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, সেই জীবনদাতাদের সারা দেশ ও পৃথিবীর সামনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যতখানি ছোট করেছেন, জল্লাদ হায়েনারাও তার দেশের মানুষকে এভাবে অপমান অপদস্ত করে না। জাতীয় পার্টি সরকারেও থাকবে, বিরোধী দলেও থাকবে- এ যেন মামাবাড়ির আবদার? জাতীয় পার্টিকে সরকারি দলেই থাকতে হবে, বিরোধী দলে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। দেশের অবস্থা ভাল না, তাই যা খুশি তা-ই করছেন। এরকম করলে আগামীতে রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের ঝাটা মেরে বিদায় করে দেবে। রাস্তাঘাটে চলা মুশকিল হয়ে পড়বে। বিশ্বপণ্ডিত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ইতিমধ্যেই বলেছেন, মাছের মুড়াও খাবেন, লেজও খাবেন- এটা চলতে পারে না, এটা নৈতিকতাবিবর্জিত। পণ্ডিতদের পাণ্ডিত্য শুনে বড় হাসি পায়। মহাজোটের কার নৈতিকতা আছে? সত্যকে সত্য বলার সাহস কে রাখে? এ জগতের বাইরেও যে জগৎ আছে, যেখানে আমাদের সবাইকে যেতে হবে, জবাব দিতে হবে মহান আল্লাহর কাছে- কে মনে রাখছে সে কথা? সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানাবার নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে কেউ কেউ মনে করছে বেশ সফল হয়েছেন। সফলতা-ব্যর্থতা চোখের সামনে নয়, আরও একটু দূরে তাকাতে হয়। সামান্য একটু সময় অপেক্ষা করতে হয়। যেভাবে নেতানেত্রীরা দেশের সর্বনাশ করেও উন্নতির কথা বলছেন, তারা কোনদিন উন্নতি চোখে দেখেননি। দিনাজপুরে কর্নাই গ্রামে কত শ’ শ’ হিন্দু এই শীতের রাতে উন্মুক্ত আকাশের নিচে পড়ে পড়ে কাতরাচ্ছে আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তিনি উন্নতি করেছেন। কে অশান্তি সৃষ্টি করছে, কে ধ্বংস করছে তাকে ধরুন, বিচার করুন। অতি সাধারণ দ্বিমত পোষণ করলে যেখানে খন্দকার মাহবুব হোসেনের মতো একজন নির্বাচিত আইনবিদকে মুহূর্তে জেলে ঢোকানো যায়, এমনকি রিমান্ডে নেয়ার সাহস দেখায়- তারপরও বলতে হবে দেশে আইন বলে কিছু আছে? লম্ফঝম্প করে একের পর এক বলেছেন যারা অশান্তি সৃষ্টি করবে তাদের ছাড়া হবে না। ছাড়া তো হবে না বুঝলাম কিন্তু কবে ধরা হবে? কোন বস্তিতে আগুন লাগানোদের ধরতে গিয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ধরা পড়ে- এই তো সমস্যা। যেখানে স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজনৈতিক ফায়দা লুটার আশায় নেতানেত্রীদের নির্দেশে নিজের স্কুলে আগুন দেয়, সেই শিক্ষকের কাছে কোমলমতি ছোট ছোট বাচ্চাদের পড়তে দেয়ার কোন মানে হয়? জেলখানার জল্লাদ যে ফাঁসি দেয়, সে-ও ওই জল্লাদ হেড মাস্টারের চেয়ে অনেক ভাল। কোন জল্লাদ কখনও তার ছেলের গলায় ফাঁসির রজ্জু লাগিয়ে টেনে ধরে না। তাহলে হেড মাস্টার কেন, অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর জন্য নিজের স্কুলে আগুন দিলো? এমন ঘটনা তো আরও অনেক ঘটেছে। ধরা পড়েছে মাত্র দু’একটা। কত জায়গায় আওয়ামী লীগের লোকেরা বস্তিতে আগুন দিয়েছে, পাড়ায় পাড়ায় আগুন দিয়েছে। গত বছর রামুতে যে বৌদ্ধ মহল্লায় সর্বনাশা অগ্নিকাণ্ড হয়েছে সেখানে থানার ওসিসহ বহু আওয়ামী নেতাদের যোগসাজশ ধরা পড়েছে। আমার কথা নয়, একজন মন্ত্রীর কথা। নির্বাচন পরবর্তী যে ক’টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে প্রত্যেকটাতে প্রশাসনের লোকজন দুই-তিন ঘণ্টা পরে গেছে। তবে কি সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের বাড়িঘর জ্বালাও পোড়াও করে সরকার তাদের প্রতি মানুষের সিমপ্যাথি অর্জনের চেষ্টা করছে? ব্যাপার মোটেই ভাল নয়। তাই সময় থাকতে তথাকথিত নির্বাচন বাতিল করে কে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলো কে করলো না, জনগণ অংশগ্রহণ করলো কিনা সেটা বিবেচনায় এনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে একটি নির্বাচন করুন। বিদেশী প্রেসক্রিপশন অনুসারে দুই দল বা দুই নেতার দেশ নয়। দেশের মালিক ১৬ কোটি জনগণ। আজ তারা ঘুমিয়ে আছে অথবা নির্বিকার। সেইজন্য হঠাৎ বাবুদের এত দাপট। দেশের মালিক জনগণ একবার গা-ঝাড়া দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালে তথাকথিত নেতানেত্রীদের দুরবিন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির মন্ত্রিসভায় অংশগ্রহণ জননেত্রীর জীবনের সব থেকে বড় রাজনৈতিক কলঙ্ক।