May 6, 2026
বিশ্বের ইতিহাসে সবচাইতে বড় একটি নতুন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা শুরু করতে একমত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। আগামী জুন মাস নাগাদ এ ব্যাপারে দু তরফে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ইইউ নেতারা বলেছেন, তারা দুপক্ষের মধ্যেকার সম্পর্ককে উন্নয়নের একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে রূপান্তরিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইতোমধ্যেই দৈনিক দুই বিলিয়ন ডলারেরও বেশী।
এখন তারা পরিকল্পনা করছে, দুই তরফের বাণিজ্যের জন্য বিরাজমান বাধাগুলো কমিয়ে আনার এবং কোন কোন ক্ষেত্রে একেবারেই দূরীভূত করার।
দুই তরফ থেকেই বলা হচ্ছে, শুল্ক কমিয়ে এনে বিশেষ করে সব কৃষি ও শিল্পের মালামাল আমদানির ক্ষেত্রে প্রয়োজনে শুল্ক তুলে দিয়ে দুই পক্ষ এখন আরো কাছাকাছি আসতে চায়। অবশ্য কিছু স্পর্শকাতর পণ্যের ব্যাপারে থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা।
পণ্যকে উচ্চমূল্যের করে তোলার পেছনে দায়ী মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ আরো কিছু বাধা দূর করার পরিকল্পনাও থাকছে।
অবশ্য এর কোনোটাই বাস্তবায়ন করা ততো সহজ হবে না, বলছিলেন সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী এবং ইইউ ট্রেড কমিশনার পিটার ম্যান্ডেলসন।
বিবিসি জানায়, ইউরোপ নতুন পণ্যের প্রবেশাধিকার দেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক থাকে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, জেনেটিকালি মডিফায়েড পণ্যের ব্যাপারে ইউরোপ অতীতেও বাণিজ্য বিরোধে জড়িয়েছে।
ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট হোসে ম্যানুয়েল বারোসো অবশ্য বলছে, এই চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত সফল হলে প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য সমপ্রসারণ হবে, যা বিশ্বে বাণিজ্যে বিরাট পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
স্থবির বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা : সামপ্রতিক বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য উদারীকরণের ঘটনা বহুলাংশে বেড়েছে। এ বিষয়টি অবশ্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় বৈশ্বিক আলোচনায় খুব একটা উন্নতি না হওয়ারই আভাস দিচ্ছে।
সংস্থাটি গত ১১ বছর ধরে আলোচনাই চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কোনো ফলাফল আসার সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না।