May 6, 2026
ঢাকা: অবশেষে বহুল প্রত্যাশিত মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থায়নের সংকট কেটে যাচ্ছে। চলতি মাসের ২০ তারিখে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সঙ্গে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে সরকার।
সরকারের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব আবুল কালাম আজাদ। রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে এইদিন সকাল ১১ টায় এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর যানজট নিরসনে প্রায় ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসাবে জাইকা ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। বাকি পাঁচ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা দেবে সরকার।
পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজধানীর গণপরিবহণ ব্যবস্থা অপ্রতুল। ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশ্বমানে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে প্রকল্পটি হলে যানজট কমে যাবে। একই সঙ্গে নিরাপদ, দ্রুত, ব্যয়সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি সমৃদ্ধ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
পরিবর্তিত রুট অনুযায়ী, মেট্রোরেল উত্তরা থেকে পল্লবী, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, প্রেসক্লাব ও মতিঝিল পর্যন্ত যাবে। পথে স্টেশন থাকবে মোট ১৬টি। মেট্রোরেলে ঘণ্টায় গড়ে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। তিনটি পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ২০১৯ সালের মধ্যে পল্লবী থেকে সোনারগাঁও ১১ কিলোমিটার চালু করা হবে। এর পরের বছরে হোটেল সোনারগাঁও হতে মতিঝিল এবং ২০২১ সাল নাগাদ উত্তরা হতে পল্লবী অংশে ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, মেট্রোরেল প্রকল্পটি ২০২৪ সালে শেষ হবে। এ জন্য আগামী ১২ বছর অর্থবিভাজন করা হয়েছে। চলতি বছরে খরচ ধরা হয়েছে ৩৫১ কোটি টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এক হাজার ৬৫ কোটি টাকা, এর পরের বছরে ৯৫৩ কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭৪৮ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯০ কোটি টাকা। এর পরের অর্থবছরে তিন হাজার ২১১ কোটি টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিন হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তিন হাজার ৯২৩ কোটি টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে তিন হাজার ৯২২ কোটি টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে তিন হাজার ২১৩ কোটি টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ১২ কোটি টাকা । এছাড়া প্রকল্পটি নির্মাণের শেষ অর্থবছরে ব্যয় হবে ১৪ কোটি টাকা।
কমিশনের পক্ষ থেকে অর্থ সংস্থানের বিষয়ে বলা হয়েছে, মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) আওতায় সড়ক বিভাগে প্রকল্পের বিপরীতে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন করতে বলা হয়েছে। যাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা সৃষ্টি না হয়। এর বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।
ডিটেইলড ডিজাইন করার পর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করা হবে। তারপরই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। ২০১৭ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে।