May 6, 2026
ঢাকা :আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের সমান সুযোগ রেখে সংশোধিত আইনের খসড়া বিল আকারে সংসদে উঠছে।
বুধবার সংসদের কার্যসূচিতে আইন প্রণয়ন কার্যাবলিতে এ বিষয়টি রাখা হয়েছে।
সংসদ অধিবেশন বসবে বিকেল সাড়ে ৪টায়। দিনের কার্যসূচির শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর ও মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হবে। পরে শিক্ষামন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী দুটি বিল তুলবেন। সবশেষে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা চলবে।
সংসদের কার্যসূচিতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট, ১৯৭৩ এর অধিক সংশোধনের লক্ষ্যে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (সংশোধন) বিল, ২০১৩ সংসদে উপস্থাপন করবেন।’
এরপর বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যে স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর অনুরোধ করবেন মন্ত্রী।
মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদ-ের রায়ের পর তার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ সীমিত থাকার বিষয়টি আলোচনায় আসে। কাদের মোল্লাসহ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে শাহবাগসহ দেশজুড়ে শুরু হয় গণজাগরণ।
এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়। গত রোববার আপিলের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ রেখে আইন সংশোধনের প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
সেদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের বলেন, “এ আইন সংশোধনের পর প্রসিকিউশন ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি উভয়েই আপিল করতে পারবে।”
“আইনের সমান সুযোগ তৈরি করতেই এ সংশোধনী আনা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির আপিলের সুযোগ থাকলেও প্রসিকিউশন বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আপিল করতে পারেন না। আইন সংশোধনের পর দুই পক্ষই আপিল করতে পারবে।”
তিনি জানান, রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। আপিল বিভাগ ৪৫ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করবে। বাড়তি সময় প্রয়োজন হলে আদালত আরো ১৫ দিন সময় নিতে পারবে। অর্থাৎ আপিল করার পর সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।