May 6, 2026
ঢাকা : ট্রাইব্যুনালের বাইরে কি হচ্ছে সেটা আমাদের বিচার্য বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এই মন্তব্য করেন।
ট্রাইব্যুনালের বাইরে বিচারের পক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ও নতুন প্রজন্মের আন্দোলন এবং বিপক্ষে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের আন্দোলন চলছে এমন কথা উঠে আসার পরিপ্রেক্ষিতে এ মন্তব্য করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান।
ওই সময় ট্রাইব্যুনাল-১-এর কার্যক্রম দুপুর ২টা পর্যন্ত মূলতবি করেন। বুধবার ট্রাইব্যুনালের কার্য তালিকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে সাফাই সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করার জন্য নির্ধারিত ছিল। গোলাম আযমের পক্ষে সময়ের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম দুপুর ২টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের একজন সদস্য বিচারপতি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন না। তিনি মঙ্গলবারও উপস্থিত হননি।
এর আগে গোলাম আযমের পক্ষে ডিফেন্সের প্রধান ও তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন। তার পক্ষে অন্য আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, বাইরে প্রচ- গোলাগুলি হচ্ছে তাই মামলার মূল আইনজীবী উপস্থিত হতে পারছেন না।
ট্রাইব্যুনাল বলেন, গোলাম আযমের আইনজীবী হিসেবে আপনারা তো উপস্থিত আছেন। তখন তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা উপস্থিত থাকলেও আমাদের কাছে মামলার ডকুমেন্ট, নথিপত্রের সব কিছু নেই।
তিনি বলেন, আমাদের একজন সাক্ষীকে গ্রেফতার করেছে এবং একজন অসুস্থ। তাই আমরা সময়ের আবেদন করছি।
এ সময় ট্রাইব্যুনালের উপস্থিত প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম তাজুলের সময় আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, এই ধরনের সময় আবেদন গ্রহণ করা উচিত না। তিনি বলেন, এই গ্রাউন্ডের কোনো বৈধতা নেই।
ওই সময় প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, আপনারা বাইরে বলবেন ট্রাইব্যুনাল ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও। তখন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর বলেন, আপনারা বাইরের বিষয় ট্রাইব্যুনালের নিয়ে আসবেন না। চেয়ারম্যান বলেন, ট্রাইব্যুনালের বাইরে কি হচ্ছে, না হচ্ছে তা আমাদের বিচার্য বিষয় না।
তখন প্রসিকিউশর কথা ধরে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, আপনারা তো বাইরে গোলাম আযমের ফাঁসি চাই সেøাগান দেন। ওই সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত অন্য প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী বলেন, বাইরে গেলে আমরা সাধারণ মানুষ। আর ট্রাইব্যুনালে আসলে অফিসার্স অফ দ্যা কোর্ট।
ট্রাইব্যুনালে আটক মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে গত ৯ দিন ধরে কর্মসূচি চলছে। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের গ্রহণ যোগ্যতা নেই বলে মাঠে নিয়মিত সহিংস আন্দোলন করছে জামায়াত।