May 6, 2026
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অনন্য অবদান কম্পিউটারের কারণে অসাধ্য কাজকে সাধ্য করেছে মানুষ। এবার ভাষার মতো মানুষের কণ্ঠতাড়িত বিষয়টিও বাদ থাকছে কম্পিউটারের প্রয়োগ থেকে।
নিত্যনতুন ভাষার কারণে সেই আদিম কালের হারিয়ে যাওয়া ভাষাকে ফিরিয়ে আনবে কম্পিউটার। ভাবছেন কি, আজগুবি কথাবার্তা। সম্মানিত পাঠক, সত্যিই কম্পিউটার এই ভাবানাতীত কাজটিকে বাস্তব রূপ দিতে যাচ্ছে।
প্রাচীন ভাষাগুলোকে ফের ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে কম্পিউটারের একটি নতুন প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়েছে।
ভাষার পুনর্গঠনের এই কাজটি পরীক্ষা করার জন্য ভাষাবিদরা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমানে ব্যবহৃত ৬৩৭টি ভাষা বেছে নেন। যেসব ভাষা থেকে এগুলো এসেছে সেগুলোও শনাক্ত করেছেন।
প্রসেডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে তাদের এক অসাধারণ কাজটি।
ওই প্রোগাম ব্যবহার করে ১৪ লাখ দুই হাজার শব্দের উপাত্ত থেকে সাত হাজার বছর আগে ব্যবহৃত ভাষা চিহ্নিত করা গেছে। ৮৫ শতাংশ ভাষারই আদিরূপ পাওয়া গেছে যেগুলো এক অক্ষর বা এক ধ্বনি বিশিষ্ট।
এই প্রোগামটি দ্রুততার সঙ্গে অসংখ্য তথ্য বের করে দিতে সক্ষম।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সহযোগী অধ্যাপক ড্যান ক্লেইন বলেন, “সব উপাত্ত বিশ্লেষণ করা মানুষের জন্য খুবই সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। বিশ্বে হাজার হাজার ভাষা রয়েছে, প্রত্যেকটিরই হাজার হাজার শব্দ রয়েছে, তাদের সবগুলোর পত্তন ভাষা উল্লেখ করা যায় না।”
তিনি জানান, এসব ভাষাকে চিহ্নিত, সময় ও স্থানের পরিবর্তনে ভাষার পরিবর্তন নির্ধারণে শত শত লোকের আজীবন লেগে যেতে পারে কিন্তু এ কাজে কম্পিউটার সফল।
তবে খুবই দ্রুত কাজ করতে পারলেও বিশেষজ্ঞদের মতো একই মাত্রায় সঠিক তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে কম্পিউটার।
ক্লেইন বলেন, “আমাদের ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রূপগত পরিবর্তন বা পুনরায় প্রতিলিপকরণ করতে পারেনা। যেমন- বিড়াল শব্দটি কিভাবে বিড়ালছানা হলো এটি নির্ধারণ করতে পারে না।”
হাজার হাজার বছরের পুরোনো ভাষাকে রূপ দেওয়া সম্ভব হলেও আদি ভাষাটি যে ভাষাকে সব ভাষার উৎপত্তি তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।