April 22, 2026
ঢাকা: ঈদ আসলেই জালনোট প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। বিশেষ করে কোরবানির ঈদে এ চক্র বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক জালনোট প্রতিরোধে গরুর হাটে বিশেষ টিম রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গরুর হাটে জালনোট প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আগ থেকেই কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি জেলায় সোনালী ব্যাংকের দায়িত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসককে। আর যেসব এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস রয়েছে সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকই মূল দায়িত্ব পালন করবে।
এ সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক দাসগুপ্ত অসীম কুমার বাংলামেইলকে বলেন, সারা দেশের গরুর হাটে জাল টাকা প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি হাটে একটি করে টিম কাজ করবে। এরা টাকা গোনা থেকে শুরু করে জালনোট প্রতিরোধের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। হাট শুরু হওয়া থেকে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত এ টিম কাজ করবে। গ্রাহকরা এ টিমের কাছ থেকে বিনামূল্যে এসব সেবা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, ঈদে গরুর হাটে জাল টাকা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। হাটে জালনোট শনাক্তকারী যন্ত্র স্থাপনের জন্য তাদের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্যাংকে চিঠি দেয়া হয়েছে তাদের নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি টিম রাজধানীর সব গরুর হাট পরিদর্শন করবে। জালনোট প্রতিরোধে সচেতনতার জন্য বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হবে।
দাসগুপ্ত জানান, গত বছর গাবতলীতে ৫টি এবং অন্য গরুর হাটে ৩টি করে এটিএম বুথ রাখা হয়েছিল। এবারও সে ধরনের প্রস্তুতিই নেয়া হচ্ছে।
গত বছর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ১০টি করে মোট ২০টি গরুর হাট বসে। প্রক্রিয়া শেষ না হলেও এবার আগের মতোই ২০টি হাট বসতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা।
গত বছর নুরুজ্জামান নামের এক প্রতারক চক্রের হোতাকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, এ চক্র ঈদ ও পূজাকে সামনে রেখে ২ কোটি টাকার জালনোট বাজারে ছেড়েছে। ১০০ কোটি টাকার জালনোট বাজারে ছাড়ার ইচ্ছা ছিল বলে সে পুলিশকে জানায়।