April 22, 2026
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৬৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে ১৪০ জন সফরসঙ্গী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৮ দিনের সরকারি সফরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন রাতে। তবে গত চার বছরে সবচেয়ে বড় বহর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর এটি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএর ৬৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এ ছাড়া তিনি বেশকিছু উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। ফ্লাইটটির সোমবার সকাল সোয়া ৮টায় জনএফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
নিউইয়র্ক যাত্রাপথে শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীরা দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২ ঘণ্টার যাত্রাবিরতি করবেন। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত একরামুল কাদের, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন স্বাগত জানাবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রাসহকারে পার্ক এভিনিউর গ্রান্ড হায়াত হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। নিউইয়র্ক সফরকালে তিনি সেখানে অবস্থান করবেন।
সোমবার কমনওয়েলথ মহাসচিব কমলেশ শর্মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার হোটেল স্যুটে সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যায় তিনি ওয়ালড্রফ এস্টোরিয়া হোটেলে আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল ওবামার এক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। এরপর শেখ হাসিনা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ সাউথ কোঅপারেশনের (আইওএসএসসি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংস্থাটির এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের দেয়া এক সংবর্ধনা সভায় অংশ নেবেন। ওইদিন তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ‘অসমাপ্ত কার্য সম্পাদন : এমডিজির অগ্রগতি ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব বৈঠকে অংশ নেবেন। তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের দেয়া এক মধ্যাহ্ন ভোজেও যোগ দেবেন।
জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে প্রধানমন্ত্রী কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল-সানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ফার্স্ট এভিনিউতে অবস্থিত জাতিসংঘ প্লাজায় কাতারের স্থায়ী মিশনে যাবেন। বিকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে আয়োজিত ‘লিডারস ডায়লগ : এইচএলপিএফ-ফ্রম ভিশন টু অ্যাকশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অন্যতম মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। পরে সৌদি আরব ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর এমডিজি অর্জনে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সাধারণ পরিষদের সভাপতির উদ্যোগে বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন। পরে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইকোসক চেম্বারে ‘জ্লোবাল এডুকেশন ফার্স্ট ইনিশিয়েটিভ (জিইএফআই) অ্যানিভার্সারি ইভেন্টে’ অংশ নেবেন। সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশ হাউসে নৈশভোজে অংশ নেবেন।
তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘আর্মস ট্রেড ট্রিটি (এটিটি) এন্ড প্রটোকল অন এঙপ্লোসিভ রেমনান্টস অব ওয়ার অব কনভেনশন অন সারটেইন কেমিক্যাল উইপনস’ এ স্বাক্ষর করবেন। তিনি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনেও যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। পরে তিনি নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেবেন।
তিনি ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিকালে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিকালে তিনি হিলটন হোটেলে বাংলাদেশি কমিউনিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে দেশের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন এবং তিনি দুবাই হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় এসে পৌঁছবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের আমলে এবার নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশিসংখ্যক লোকজন নিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ২০০৯ সালে ৭১ জন, ২০১০ সালে ১০২ জন, ২০১১ সালে ৮৭ জন এবং সর্বশেষ ২০১২ সালে ৮৭ জন।
এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মূল সফরসঙ্গী ৯৪ জন এবং ৪৬ জন যাচ্ছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে। তবে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা নিজেদের খরচেই যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা এম জিয়াউদ্দিন ছাড়াও রয়েছেন মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদ ও সমাজকল্যাণ সচিব সুরাইয়া বেগম।
বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতিম-লীর সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদল, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ ১০ জন সংসদ সদস্য সফরসঙ্গীর তালিকায় রয়েছেন।
বিশিষ্টজনের তালিকায় রয়েছেন- ছাত্রলীগের সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, যুব মহিলা লীগের ২ সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুন নেসা ও আলেয়া সারোয়ার, ঢাকা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক মিনু রহমান প্রমুখ। সফরসঙ্গী হিসেবে মহাজোটের শরিক দলের নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- ন্যাপ (মোজাফফর) নেত্রী ও সংসদ সদস্য আমেনা আহমেদ, গণআজাদী লীগের সভাপতি আবদুস সামাদ, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, জাসদের নেত্রী ও জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি শিরিন আক্তার, জাসদের নেত্রী ও পেশাজীবী নারী সমাজের সাধারণ সম্পাদক আফরোজা হক।
এ ছাড়াও সফরসঙ্গীর তালিকায় রয়েছেন- নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান বিশ্বাস।