পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

আন্দোলন আর নির্বাচন দুই পথেই এগোচ্ছে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি

Posted on September 20, 2013 | in জাতীয় | by

bnp-logo-700x325

ঢাকা:   নির্দলীয় সরকারব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি দুটোই সমান্তরালে এগিয়ে নিচ্ছে বিএনপি। এজন্য ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা’-নীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে চায় দলটি। তবে আন্দোলনের ক্ষেত্রে ২৪ অক্টোবরের আগে হরতালের মতো কঠোর কোনো কর্মসূচি দিতে চায় না। সরকার যে রাস্তায় হাঁটবে সেভাবেই মোকাবেলা করবে বিরোধী দল।

এজন্য তৃণমূলে দলের নানা সংকট নিরসন, চূড়ান্ত আন্দোলন এবং জাতীয় নির্বাচনের জন্য মাঠ প্রস্তুত করতে দলের স্থায়ী কমিটির সমন্বয়ে টিমভিত্তিক কাজ শুরু করে দিয়েছে দলটি। এর পাশাপাশি ‘নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের’ পরিকল্পনা সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার চূড়ান্তকরণের কাজও প্রায় শেষ করে আনা হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান  জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিভিন্ন জায়গায় জনসভা করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এক্ষেত্রে ‘নির্বাচন প্রস্তুতি এবং আন্দোলন’ সমান্তরাল পথে এগোচ্ছে তার দল।

বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা জানান, জনসভাগুলো একই সঙ্গে দুটি কাজ হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণা এবং তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে জনমত গঠন।

দলীয় সূত্র জানায়, নির্দলীয় সরকারের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করার জন্য ধাপে ধাপে আন্দোলন কঠোর থেকে কঠোরতর করার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে বিএনপি। দলটির নেতারা মনে করেন, নির্বাচনের আগে বিদ্যমান সংকট নিরসনের দায়িত্ব সরকারের। সরকার যদি সংকট নিরসন না করে উল্টো রাস্তায় হাঁটে তাহলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে পিছপা হবে না বিরোধী দল।

বিএনপির একাধিক নেতার মতে, সরকারি দল সংসদে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী করে তা দেখতে চায় বিএনপি। কারণ তারা সংসদে কোনো প্রস্তাব আনলেও সরকার না চাইলে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যাবে। সরকারকে এ সুযোগ দিতে চায় না বিএনপি। এর বদলে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এক দফার দাবিতে তীব্র গণআন্দোলকেই তাদের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করছেন। ইতিমধ্যে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রধান করে বেশ কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, তরিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ অন্য নেতারা। এই কমিটির প্রধানরা ৩০০ আসন সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে চেয়ারপারসনের কাছে প্রতিবেদন পেশ করবেন। এর অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়া তার নরসিংদী, রংপুর এবং রাজশাহীতে ক্ষমতাসীনদের প্রত্যাখ্যান করতে বলে মূলত পরোক্ষভাবে বিএনপির প্রতি সমর্থন চেয়েছেন।

এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের ভেতরে বিদ্যমান কোন্দল নিরসনে জোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এ কাজে দলের কয়েকজন ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম-মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকের সমন্বয়ে কয়েকটি টিম কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ, নির্বাচন কমিশন সংস্কার প্রস্তাব, জনগণের চাহিদা উপযোগী নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুতকরণসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চেহারা কেমন হওয়া উচিত, সেজন্য একটি খসড়া তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

বিএনপির প্রভাবশালী একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী জানুয়ারিতে নির্বাচন করতে হবে এমনটা মাথায় রেখেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের এলাকায় কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, নির্বাচনী গণসংযোগ এবং আন্দোলন একসঙ্গে চলবে। নইলে হঠাৎ করে সরকার বিরোধী দলের দাবি মেনে নিয়ে নির্বাচন দিলে মাঠ গোছানো সম্ভব হবে না। সেজন্য আগে থেকেই নির্বাচনী এলাকাগুলোর মাঠ দখলে রাখতে চান তারা।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির নেতা বিরোধীদলীয় চীফ হুইফ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। সে হিসেবে গণতান্ত্রিক দলের নির্বাচনের প্রস্তুতি সব সময়ই থাকে। আমাদেরও নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। সে লক্ষ্যে আমরা আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। তাই বলে বর্তমান সরকারে অধীনে কোনো নির্বাচনে আমরা অংশ নেবো না।’

তিনি বলেন, ‘নতুন করে কোনো প্রস্তুতি নিতে হবে না। তৃণমূলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বিভিন্ন জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন, এতে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের ব্যর্থতা-দুর্নীতিসহ নানা বিষয়ে মানুষ ত্যক্ত-বিরক্ত। এজন্য আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়ছে।

 

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud