পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

১২ মণের দাম দেড় লাখ টাকা

Posted on July 4, 2014 | in ব্যবসা-অর্থনীতি | by

Kanshat_Mango_887285495আবু খালিদ: কানসাট থেকে ফিরে: আমের মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই মৌসুমী এই ফলের জন্য অধীর আগ্রহে থাকেন ভোক্তারা। আবার আমের মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ার পর শুরু হয় আফসোস। ভোক্তাদের এই আফসোসের কথা ভেবেই হয়তোবা প্রকৃতি নতুন এক জাতের আম উপহার দিলো! ২০১৩ সালে এমনই এক আমের দেখা মিলেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শিয়ালমাড়া গ্রামে। ৩৩টি গাছের বাগানের মধ্য এই গাছটি সম্পূর্ণই ব্যতিক্রম। গৌড় অঞ্চলে দেখা মিলেছে আর দাম ও মিষ্টিও বেশি। এসবের সঙ্গে মিল রেখে নাম রাখা হয়েছে ‘গৌড়মতি’। তবে ভোক্তাদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি নাবি জাতের এই আমের চাষ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রথমবারের মতো বাজারে আসা এই আমের দামটাও সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। গত বছর ১৩ মণ ১০ কেজি আম বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকায়।

প্রকৃতির এই উপহারটি অনেকদিন পেলেও কেউ ভ্রুক্ষেপ করে নি। কোনো গবেষক বা সরকারি-বেসরকারি অফিসের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে কোনো অনুসন্ধানও হয়নি। শিবগঞ্জ উপজেলার বালিয়াদিঘীর আম চাষি জাহাঙ্গীর আলমই বের করেন ওই গাছের আমের রহস্য! এটি শিবগঞ্জ উপজেলার শিয়ালমারা গ্রামের জালু সর্দারের আম বাগান বলে স্থানীয়রা জানান। এই আম গাছের রহস্য আবিষ্কার ও নানা বৈশিষ্ট্য নিয়ে কথা হলো জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। আলাপচারিতায় জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিন বছর আগে বাগান মালিক জালু সর্দারের কাছ থেকে তিনি ও আজিজুল হক ছয় বছরের জন্য বাগানটি ইজারা নেন। এ গাছটির বয়স হবে আনুমানিক ২৫ থেকে ২৭ বছর। তিনি বলেন, সবাই বলতো সব গাছের আম পাকলেও এই গাছের আম কখনো পাকে না। এসব শুনে ও গাছটি দেখে তার কাছে একটু ব্যতিক্রম মনে হলো। আলাদাভাবে পরিচর্যা ও যত্ন নেওয়া শুরু করেন। বাগানের সব গাছের আম সংগ্রহ করলেও কৌতুহল বশতঃ এ গাছ থেকে আম সংগ্রহ করেন নি।

তিনি বলেন, অপেক্ষার পালা শেষ হয় সেপ্টেম্বর মাসে। আমগুলো পাকতে শুরু করে। বাজারে বিক্রি করতে গেলেও রেকর্ড পরিমাণ টাকায় বিক্রি হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থিত আঞ্চলিক উদ্যান তত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক পরাগায়নের মাধ্যমে নতুন এই জাতের আমের উৎপত্তি হয়েছে। আমের মৌসুম সাধারণত মে থেকে আগষ্ট মাস ধরে চলে। কিন্তু এই আমটি সেপ্টেম্বর মাসেও পাওয়া যায়। তাই এটি সবার নজর কেড়েছে। তবে কৃষিবিদরা প্রাথমিক ধারণা করছেন, আশ্বিনা ও ল্যাংড়া এই দুই জাতের আমের মকুলের প্রাকৃতিক পরাগায়নের মাধ্যমে নতুন এ আমের উৎপত্তি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ নিয়ে গবেষণাও চলছে। ইতোমধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাগানটি পরিদর্শন করেছেন।

গৌড়মতি আমের বৈশষ্ট্য:
সুস্বাদু জাত ল্যাংড়ার মিষ্টতা ১৭ থেকে ১৯ শতাংশ এবং ক্ষিরশাপাতের (হিমসাগর) মিষ্টতা ১৯ থেকে ২০ শতাংশ। কিন্তু এই আমের মিষ্টতা ২১ থেকে ২৫ শতাংশ। আর এ জাতের আমের ভক্ষণযোগ্য অংশ অন্যান্য আমের চেয়ে বেশি। অন্যান্য আমের ভক্ষণযোগ্য অংশ ৮০ থেকে ৮২ শতাংশ। কিন্তু এই আমের ভক্ষণযোগ্য অংশ প্রায় ৯৩ শতাংশ। আঁটি ও খোসা দুই পাতলা। পাকলে হলুদাভের সঙ্গে সিঁদুরে রঙের মিশেলে আর্কষণীয় লাগে। ঘ্রাণও চমৎকার। ওজন ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রাম। সহজেই পচনশীল এবং পোকাযুক্তও নয়। গাছ থেকে সংগ্রহ করার আট থেকে নয় দিন পার পাকতে শুরু করে এই আম। তবে সবশেষে একটু অভিযোগের সুরই পাওয়া গেলো প্রকৃতির এই নতুন উপহারকে সবার সামনে তুলে ধরার নায়ক জাহাঙ্গীরের কণ্ঠে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। তাদের প্রয়োজন হলেই শুধু কর্মকর্তারা আসেন বলে তিনি জানান।
…….বাংলানিউজ

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud