পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

‘হাড় কড়মড়ে রোগটি সারানোর জন্য জিয়ার মাজার সরাতে হবে’

Posted on June 20, 2014 | in নির্বাচিত কলাম | by

1001814_150356465164793_1416841457_nমিনার রশিদ: স্নায়ূযুদ্ধের সময় বিবদমান দুই পক্ষের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে আজব আজব ও ভয়ংকর ধরনের পরিকল্পনা গ্রহন করেছিল ।কোল্ড ওয়ার মাসল প্রদর্শনের এক পর্যায়ে আমেরিকার নাসা বোমা মেরে চাঁদকে উড়িয়ে বা গুড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনাও নাকি নিয়েছিল । প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজের শক্তি কতগুন বেশী তা প্রদর্শন করা বা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোই এই পরিকল্পনার (চৎড়লবপঃ অ ১১৯) মূল লক্ষ্য ছিল। ক্ষমতার মদে মত্ত ও ঔদ্ধত্য মানুষ যে কতটুকু উন্মাদ হয়ে পড়তে পারে নাসার সেই প্রজেক্ট অ ১১৯ তার বড় প্রমাণ। ওই সব দেশে এই রকম উন্মাদের সাথে সাথে সব সময় কিছু সুস্থ্য মানুষও থাকেন । তাই এই ধরনের তুঘলকি পরিকল্পনা নেয়া হলেও অনেক সময় তা বা¯Íবায়ন হয় না। আমাদের দেশে কেউ এই ধরনের উন্মাদ হয়ে পড়লে একা একা হয় না – পুরা গোষ্ঠি সহ উন্মাদ হয়ে যায় । এক জনের মাথায় কোন তুঘলকি বুদ্ধি ঢুকলে আশপাশের অন্য সবাই তার বা¯Íবায়নে লেগে যায়। আমাদের দেশে সংগঠিত ছোটখাট অপরাধ থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন তুঘলকি কান্ডের কেইস হিস্টোরি স্টাডি করলে এর সত্যতা মিলে। দেখা যায় কোন সুস্থ্য ম¯িÍস্কের কেউ এদের আশপাশে থাকেন না যিনি বা যারা এসব পরিকল্পনার ক্ষতিকর দিকগুলি তুলে ধরে এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে সেই ব্যক্তি, সংস্থা বা খোদ রাষ্ট্রকে নিবারণ করতে পারেন। ষোল সতের কোটি মানুষের মধ্যে বিরাট সংখ্যক এখনও অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান সহ মৌলিক মানবিক প্রয়োজনগুলি এদের অনেকের কাছেই এখনও বিলাসিতা। বিরাট সংখ্যক যুবক প্রতি বছর বিভিন্ন জায়গা থেকে পাশ করে বের হচ্ছে ও দেশের বেকারসংখ্যা বাড়াচ্ছে। অর্থনীতিতে চরম স্থবিরতা। এগুলি নিয়ে কোন চিন্তা ভাবনা নেই। ব্য¯Í আছেন শুধু প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসার রাজনীতি নিয়ে। গল্পের সেই আদুরে রাণীর হাড় কড়মড়ে রোগটির মত। রাণী বিছানার নিচে শুকনো কঞ্চি রেখে গড়াগড়ি খায় আর রাজাকে বলে তার হাড় কড়মড়ে রোগ হয়েছে। রাজা এই রোগ সারানোর জন্যে পেরেশান হয়ে পড়ে। কোন ওঝা বদ্যি দিয়ে কাজ হবে না। দুই রাজপুত্রের রক্ত দিয়ে গোসল করালেই এই রোগ সারবে বলে রাণী রাজাকে জানায়। আমরাও ঐ রাজার মতো মহা বিপদে পড়েছি। এবার নতুন এই হাড় কড়মড়ে রোগ সারানোর জন্যে জিয়ার মাজারটি বর্তমান জায়গা থেকে সরিয়ে নিতে হবে। গত মঙ্গলবার শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেকের সভায় এক অনির্ধারিত আলোচনায় জিয়ার মাজার সরানোর বিষয়টি উঠে আসে। সচিবালয় স্থানান্তর প্রসঙ্গে একনেক সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ওই জায়গা যদি সচিবালয়ের জন্য নির্ধারিত থাকে এবং সবাই যদি একমত পোষণ করেন তাহলে মাজার সরানো যেতে পারে।’ এখানে ‘সবাই’ বলতে নিজের জোটের ১৪ দল ও গৃহপালিত বিরোধী দলটিকেই বুঝিয়েছেন তাতে সন্দেহ নেই । ফলে মাজার সরানো এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতের ইশারা মাত্র। নান্দনিক জগতের বাসিন্দারাও অমত করবেন না। কারন

মাজার স্থানান্তর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘লুই আই কান যে নকশা করেছিলেন, সে নকশায় জিয়াউর রহমানের মাজারের জন্য আলাদা জায়গা ছিল না। সেখানে সচিবালয় করার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সেখানে জিয়াউর রহমানের মাজার করা হয়েছে। এর ফলে ক্রিসেন্ট লেকের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়েছে।’ মহামান্য প্রধানমন্ত্রী অযৌক্তিক কিছু বলেন নি । লুই কান যে নকশা বানিয়েছিলেন সেখানে পাকি¯Íানের রাষ্ট্রীয় ভাবধারা অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই প্রতিফলিত হয়েছিল। লুই কানকে এ কাজে নিয়োগ দিয়েছিলেন আয়ূব খাঁন, মোনায়েম খাঁন প্রমুখ খাঁন সাহেব গণ। কাজেই খাঁন সাহেবদের সেই সরকারের ভাবনামতই ক্রিসেন্ট লেককে চাঁদ ও সংসদ ভবনটিকে তারা হিসাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। ক্রিসেন্ট শব্দটির অর্থও হলো এই অর্ধ চাঁদ। লুই কানের মূল ডিজাইনে ছিল একটি মাত্র তারা ( পাকি¯Íানের চাঁদ তারা প্রতীকেও তাই)। জিয়ার মাজারটি কাছাকাছি হওয়ায় এখন সেখানে একাধিক তারা ফুটে উঠেছে তা স্পষ্টতই পাকি¯Íানের চাঁদ তারা প্রতীকটির যথাথর্তা ব্যাহত বা নষ্ট করে ফেলেছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায় – এর সৌন্দর্য নষ্ট বা ক্ষুন্ন হয়েছে। যারা মাজারটি এখানে স্থাপন করেছেন তারা সম্ভবত জ্ঞানতই এই পাক সৌন্দর্য বা ভাবধারাকে ক্ষুন্ন করেছেন! কাজেই লুই কানের অরিজিনাল ডিজাইন বা পাকি¯Íানের ভাবধারাটি ফিরিয়ে আনতে একটি তারা রেখে বাকি সব তারা এখান থেকে সরাতেই জিয়ার মাজারটি সরানো দরকার। এটা শুধু রাজনৈতিক দাবি নয়, নান্দনিক দাবিও বটে। জিয়ার মাজার সরাতে দরকার পড়লে আমাদের নান্দনিক জগত এখন পাকি¯Íানের ভাবধারাকে কবুল করবেন এবং লুই কানের অরিজিনাল সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে জেহাদ শুরু করে দিবেন। এই কাজ করতে গিয়ে যদি পুরো দেশটিও ধ্বংস করে দিতে হয় তবুও তা থেকে পিছুপা হবেন না। যে চেতনা বা বেদনা থেকে আজ জিয়ার মাজার সরাতে চাচ্ছেন সেই রংটির সাথে এদেশের মানুষ ভালোভাবেই পরিচিত। মুসলমানদের ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের কবর বা মাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এগুলির ভাবগত বা আবেগগত মূল্য অপরিসীম। প্রয়োজনে রাজধানী স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু এই সব কবর বা মাজারসহ আবেগের জায়গা কখনই স্থানান্তরিত হয় না । এই নিয়ম থাকলে সাহাবী সহ সব অলি আলøাহর মাজার দুনিয়ার সব জায়গা থেকে সরিয়ে মক্কা মদিনায় নিয়ে যাওয়া হতো। কাজেই একজন মুসলমানের কবর বা মাজার কখনই স্থানান্তর করা যায় না। বাহাদুর শাহ্ জাফরের মাজার মিয়ানমারেই থাকবে। এটিকে বাংলাদেশে বা কোন মুসলিম দেশে স্থানান্তর সম্ভব নয়। হজরত শাহজালালের মাজার সিলেটেই রাখতে হবে। অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কারনে এটিকে রাজধানীতে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে না।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার প্রতি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের ক্ষোভ ও আক্রোশ দেখে সত্যিই অবাক হতে হয়। একই রং ও তীব্রতার ক্ষোভ আর আক্রোশ পোষন করতেন ইউরোপের ক্রুসেডারগণ সুলতান সালাহ উদ্দীন আয়ূবীর প্রতি। প্রতিপক্ষের মাজার বা কবরের উপর মনের ঝাল মেটানোর বর্বরতা ইতিহাসে ক্রুসেডারদের ছাড়া আর অন্যদের মাঝে খুঁজে পাওয়া যেতো না। এখন পাওয়া গেলো আওয়ামীদের মধ্যে।
মুসলমানদের হাত থেকে জেরুজালেম পুনঃ দখলের পর তাঁর কবরের উপর পা দিয়ে আঘাত করে এক ক্রুসেডার বলেছিলেন, ‘ সালাদিন! আমরা এসেছি। দেখো, আমরা এসেছি। ‘ অথচ শত্রুর প্রতি এই মহা বীরের অনেক মহানুভবতা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। এক জনের মহানুভবতার বিপরীতে অন্য পক্ষের এই সংকীর্ণতাও ইতিহাস অনেক কষ্ট নিয়ে ধারন করে আছে।
শেখ হাসিনা আজ জিয়ার মাজারকেও সহ্য করতে পারছেন না। অথচ এই জিয়াই তাঁকে ও তাঁর বোনকে এই দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছিলেন ! এক ধরনের ক্রুসেডিয় আক্রোশ ও বিদ্বেষে এই কথাটিও তিনি আজ ভুলে গেছেন। তিনি আরো ভুলে গেছেন আজ সরকারে এসে তিনি যে কাজ করছেন বিরোধী পক্ষ ক্ষমতায় গিয়ে সেই একই ধরনের কাজ করার ক্ষমতা রাখে ।
আমাদের গণতন্ত্র এখন ডাকাত কর্তৃক আক্রান্ত হলেও এদেশের মানুষের রক্তে গণতন্ত্র মিশে আছে। এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ভাবনা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়ার বদান্যতার কারনেই বাকশালের সেই ধ্বংসাবশেষ থেকে আবারো ক্ষমতায় আসতে পেরেছে এই আওয়ামী লীগ । আজ হোক কাল হোক এই ক্ষমতা তাদেরকে ছাড়তেই হবে। এই দস্যুপনার শা¯িÍ একদিন তাদেরকে পেতেই হবে।
একজন মুসলমান যখন মারা যায় তখন তার লাশ,কবর কিংবা মাজার সকল মুসলমানের সম্পদ হয়ে যায়। মুসলমানদের কবর এবং মাজার নিয়ে এই আওয়ামী মশকরা এদেশের মানুষ সহ্য করবে না।
আমরা দেখেছি ঘাতকদের সকল গণনা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে কিভাবে জীবিত জিয়ার চেয়ে মৃত জিয়া বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে পড়েছিলেন। আওয়ামী বিদ্বেষে সেই জিয়ার মাজার আক্রান্ত হলে তা আরো কয়েক লক্ষ্যগুণ শক্তিশালী হয়ে পড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud