May 4, 2026
জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর: খুলনার গার্মেন্টকর্মী শাহিদাকে চাঁদপুরে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে বাংলাদেশের প্রথম ‘সিরিয়াল কিলার’ রসু খাঁর ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অরুনাভ চক্রবর্তী বুধবার দুপুর একটার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি রসু খাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়া হয়েছে বলে জানান আদালতের অতিরিক্ত পিপি মো. সাইদুল ইসলাম বাবুল।
রসু খাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ১০টি মামলার মধ্যে একটি মামলার রায় দেয়া হলো। বাকি ৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ থানায় ১০টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ১টি হত্যা এবং অপরগুলো নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে।
তার মামলাগুলো বিচারের জন্য চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে একটি মামলার রায়ে রসু খালাস পেয়ে যায়। এ অবস্থায় তার বাদবাকি মামলাগুলো চাঁদপুর আদালতে পুনরায় ফেরত পাঠিয়ে দেয় ট্রাইব্যুনাল।
বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১টি এবং অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে ৮ টি মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে টঙ্গীর গার্মেন্টস কর্মী শাহিদা বেগমম হত্যা মামলার রায় আজ (বুধবার) দেয়া হলো।
চাঁদপুরের মদনা গ্রামের ছিঁচকে চোর রসু খাঁ ভালবাসায় পরাস্ত হয়ে এক সময় সিরিয়ার কিলারে পরিণত হয়। ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তার লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে চিত্র বেরিয়ে আসে। নিজের মুখে স্বীকার করে ১১ নারী হত্যার কথা।
তার টার্গেট ছিল ১০১টি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর। কিন্তু ফরিদগঞ্জে পুলিশের হাতে ধরা পরার পর তার সেই আশা গুঁড়েবালিতে পরিণত হয়। রসু যাদের হত্যা করেছে তারা সবাই ছিল গার্মেন্টসকর্মী।
রসু ভালবাসার অভিনয় করে নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের ঢাকার সাভার ও টঙ্গী এলাকা থেকে চাঁদপুরে এনে প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়ে যেয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। হত্যার স্বীকার ওইসব হতভাগ্য মেয়েদের অধিকাংশেরই সঠিক নাম ঠিকানা বা পরিচয় আজো জানা যায়নি।
২০০৮ সালের ১৮ অগাস্ট ফরিদগঞ্জের নানুপুর খালপাড়ে খুলনার দৌলতপুরের সজলা গ্রামের সাহিদা বেগমকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন রসু।
পরে পুলিশ সাহিদার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে।