পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

সহিংসতা এবং ব্যাপক অনিয়মে নির্বাচনী সংস্কৃতির সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে

Posted on March 24, 2014 | in জাতীয় | by

logo-election-working-groupঢাকা: চতুর্থ পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণে জালিয়াতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্র“প বা ইডব্লিউজি।উপজেলা নির্বাচনে আমাদের নির্বাচনী সংস্কৃতির সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্র“প (ইডব্লিউজি)। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ইডব্লিউজি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রাথমিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। ভোটগ্রহণ কার্যক্রমকে ঘিরে সারাদিনব্যাপি নির্বাচনী সহিংসতা এবং ব্যাপক অনিয়ম পর্যবেক্ষণ করেছে ইডব্লিউজি। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে ২৩ উপজেলার মাঝে ১৬ টিতেই ভোট জালিয়াতির মোট ১৮৪ টি ঘটনা ঘটেছে।

ইডব্লিউজির পর্যবেক্ষণকৃত ২৩ উপজেলার ১৯ টিতে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সহিংসতার ১২২ টি ঘটনা ঘটেছে। ১৯ উপজেলায় ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে ৯২টি। ১৭ উপজেলায় আইন অমান্য করে নির্বাচনী প্রচারণার ৬৪টি ঘটনা ঘটেছে। ভোটারদের ভোট প্রদান করতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৯ উপজেলায়। সহিংসতা এবং অনিয়মের কারণে মোট ১১ উপজেলায় ভোটকেন্দ্র বন্ধের ঘটনা ঘটেছে ২৬ টিতে। ১৬ উপজেলায় ইডব্লিউজির পর্যবেক্ষকদের বাধা প্রদান করা হয়। পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ৭০ টি ঘটনা ঘটেছে ১০ উপজেলায়।

চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৪র্থ ধাপের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংগঠনটি এ মন্তব্য করে।সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম সদস্য জানিপপ চেয়ারম্যান ড. নাজমুল হসান কলিমুল্লাহ বলেন, ৪র্থ ধাপের নির্বাচনে যে যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হলো, তাতে আমাদের নির্বাচনী সংস্কৃতির অতীতের সকল সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। আমরা চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সব কটি ১ম থেকে ৪র্থ ধাপ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করেছি।

এতে দেখা গেছে, ১ম দফার নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২য় ধাপে সহিংসতা ও অধ:পতন শুরু হয়। ৩য় ধাপে তা ২য় ধাপকে ছাড়িয়ে যায়। ৪র্থ ধাপে এসে দেখা গেল সে অধ:পতনের নতুন নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।এক প্রশ্নের জবাবে কলিমুল্লাহ বলেন, নির্বাচনে আমাদের ব্যালটের যে অধিকার সংবিধান দিয়েছে তা আমাদের নাগরিকরা ব্যবহার করতে পারছে কী না তা দেখার অধিকার পর্যবেক্ষকদের রয়েছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়ছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে। এটা অনাকাক্ষিত।

তিনি আরো জানান, চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে যে সুবিধা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে তা পাওয়া যায়নি।তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যতো সংখ্যক সদস্য ভোটকেন্দ্রে নিয়োগের সুযোগ ধাপ অনুযায়ী হওয়ার সুযোগ ছিল তা হয়নি। ফলে পুলিশ হয়ত গুলি করতেও ভয় পেয়েছে। অন্যদিকে ধাপে ধাপে নির্বাচন হওয়ায় আগের ধাপে পরাজিতদের পরের ধাপে জয়ী হওযার অদম্য ইচ্ছা কাজ করেছে এবং এজন্য সহিংসতা হয়েছে।সংগঠনের পরিচালক আব্দুল আলিম তার লিখিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন -ইডব্লিউজি’র পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা যায়, ৯৯ ভাগ ভোটকেন্দ্র ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জাম ও দ্রব্যাদিসহ যথানিয়মে প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং ৯৬ ভাগ ভোটকেন্দ্র সকাল ৮টার মধ্যে ভোট গ্রহণের জন্য তৈরি ছিল।

ইডব্লিউজি পর্যবেক্ষিত সকল কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রায় সকল ভোটকেন্দ্রেই ৯৯ ভাগ যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে উপস্থিত পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের সামনে ব্যালটবাক্স গুলো খালি অবস্থায় খুলে দেখানো হয়েছিল এবং ৯৯ ভাগ ভোটকেন্দ্রে বাক্সগুলোতে যথাযথভাবে নিরাপত্তা সিল লাগানো হয়েছিল।

ভোটগ্রহণ শুরুর সময়ে ৫৪ ভাগ ভোটকেন্দ্রে ১-২০ জন এবং ১৩ ভাগ ভোটকেন্দ্রে ২০ জনের বেশি ভোটারের লাইন পরিলক্ষিত হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, ইডব্লিউজি’র পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে কর্মকর্তাগণ দক্ষতার সাথে ভোট কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ৯৭ ভাগ ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাকে অত্যন্ত সুচারুভাবে ভোটগ্রহণ করতে দেখা গেছে। বেশিরভাগ ভোট কেন্দ্রের (৮৯%) কক্ষগুলো যথাযথ নিয়ম অনুসরণ কওে প্রস্তুত করা হলেও ইডব্লিউজি’র পর্যবেক্ষকরা ৯০টি ঘটনা লিপিবদ্ধ করেন যেখানে প্রতিবন্ধী ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের অবস্থান এবং প্রস্তুতিতে ত্রুটি থাকার কারণে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে সমস্যার সম্মুখীন হন। পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ৭৮.৬৫ ভাগ নারী ভোটকক্ষে নারী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।

চতুর্থ পর্যায়ের এ নির্বাচনে সারাদিনব্যাপী নির্বাচনী সহিংসতা এবং ভোট কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে তা হলো- ইডব্লিউজি ৯১ টি উপজেলার মধ্যে মাত্র ২৩টি উপজেলাতে পর্যবেক্ষণ করে।যার ভোটকেন্দ্র ৬৮০টি।তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ২৩ টি উপজেলার মধ্যে ১৬টিতে ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে ১৮৪টিতে। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ১৯টি উপজেলায় ১২২টিতে। ১৯টি উপজেলার মধ্যে ৯২টি ভোটারদেরকে ভয়-ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া, আইন অমান্য করে নির্বাচনী প্রচারণার ঘটনা ঘটেছে ১৭ উপজেলায় ৬৪ টি।ভোটারদের ভোট প্রদানে বাধা দেবার ঘটনা ঘটেছে ৯ উপজেলায় ১৭টি ।ভোটকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ১১ উপজেলায় ২৬টি।পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে ১০ উপজেলায় ৭০টি। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে ১০ উপজেলায় ১৪টি।

ইডব্লিউজির পর্যবেক্ষকেদের ভোট গণনার সময় গণনা প্রক্রিয়া দেখতে দেয়া হয়নি এমন ঘটনা ঘটেছে ১৬ উপজেলায় ৩৫টি।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud