May 8, 2026
প্রধান সার্ভারে ত্রুটি দেখা দেয়ায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সব ধরনের ব্যাংকিং ও এটিএম সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল ব্যাংকটির শাখা খোলা থাকলেও গ্রাহকরা কোনো সেবা পাননি। এটিএম বুথ থেকেও তারা টাকা উত্তোলন করতে পারেননি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। তবে ঘটনার পরপরই এ সমস্যার বিষয়ে ব্যাংকটি গ্রাহকদের অবহিত করেনি বলে জানা গেছে। ব্যাংকটির কারওয়ান বাজার শাখার ব্যবস্থাপক সুমন রহমান গতকাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রধান সার্ভার অচল হয়ে পড়ায় সেবা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিষয়টি গ্রাহকদের বুঝিয়ে বলছি। সমস্যার সমাধানে কাজ চলছে বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে।’
রাজধানীর গুলশান, উত্তরা ও ধানমন্ডি শাখার কর্মকর্তারা জানান, গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সার্ভার চালু হয়নি। ফলে কোনো সেবাই তারা দিতে পারেননি।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, কুলিং ফ্যান নষ্ট হওয়ায় শনিবার রাতে ব্যাংকের প্রধান সার্ভারে ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে রাত থেকেই ব্যাংকটির এটিএম সেবা বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরে নতুন করে কুলিং ফ্যান স্থাপন করা হয়। তবে বিকাল পর্যন্ত সার্ভার চালু হয়নি। তাই সেবা পাননি গ্রাহকরা।
স্থানীয় শাখায় টাকা উত্তোলন করতে যাওয়া ব্যবসায়ী সারোয়ার হোসেন গতকাল দুপুরে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জরুরি কাজে টাকা উত্তোলন করা প্রয়োজন; কিন্তু টাকা তোলা গেল না। পে-অর্ডারও দিল না। এটিএম বুথও বন্ধ। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানাতেও পারছে না কখন সার্ভার ঠিক হবে।
ব্যাংকের প্রধান সার্ভারের সহযোগিতায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সব এটিএম, ফাস্ট ট্র্যাক ও শাখা পরিচালিত হয়। বর্তমানে ব্যাংকটির ১৩৬টি শাখার পাশাপাশি তিনটি এসএমই সার্ভিস সেন্টার ও ২ হাজার ৪২৪ এটিএম বুথ এবং ফাস্ট ট্র্যাক রয়েছে।
গতকাল দুপুরে ব্যাংকটির স্থানীয় শাখায় গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক গ্রাহক অপেক্ষা করছেন। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা গ্রাহকদের টাকা জমা রাখতে বলছেন। তবে সার্ভার চালু হলে তা হিসাবে জমা হবে বলে গ্রাহকদের জানানো হয়। আর যারা চেক নিয়ে শাখায় আসেন, তারা টাকা না পেয়েই চলে যান।
এদিকে গ্রাহকদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। গতকাল রাতে ব্যাংকটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ডাটা সেন্টারের প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে রোববার সব শাখা, এটিএম ও অন্যান্য চ্যানেলের মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের সেবা প্রদান করা সম্ভব হয়নি। সম্মানিত গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’