May 4, 2026
চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সৌম্য-শক্তি-ক্ষিপ্রতা স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পদাতিক বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে একাত্তরের রণাঙ্গন পর্যন্ত বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। আজকের আধুনিক ও যুগোপযোগী সশস্ত্র বাহিনীকে জাতির প্রয়োজনে অবদান রাখতে হবে। চট্টগ্রাম সেনানিবাসে বুধবার সকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে এই বাহিনী। এগিয়ে এসেছে দেশের যেকোনো সংকটে। এর স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পতাকা পেয়েছে ৩৪, ৩৬ ও ৩৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। তাই আজ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সীমিত সম্পদ দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে, এই বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো ও বিন্যাস পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হযেছে।
এর আগে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তিনটি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের জাতীয় পতাকাপ্রাপ্ত ইউনিটের সদস্যদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। সকাল সোয়া ১০টায় চট্টগ্রাম সেনানিবাসের অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া তাকে স্বাগত জানান।
এরপর দুপুর সোয়া দুইটায় নগরীর মুরাদপুরে মুরাদপুর-লালখান বাজার ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন। ৪৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ হাজার দুই শ’ মিটার দৈর্ঘ্যের এ ফ্লাইওভারটি নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত হয়েছে ম্যাক্স র্যাঙ্কিন জেভি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনের আগে আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ও চট্টগ্রামকে দ্বিতীয় রাজধানী করতেই বিপুল পরিমাণ কাজ করেছি। উন্নয়নমূলক আরও অনেক কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কারণ চট্টগ্রামবাসী আমার আত্মার আত্মীয়। এ ছাড়া সারাদেশের উন্নয়ন যেভাবে চলছে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত দেশে পরিণত হবে।
সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ১২ নভেম্বর শুরু হয়ে এই ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ ২০১৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। নগরীর যানজট নিরসন ও এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে ২০১২ সালের ২ জানুয়ারি মুরাদপুর, ২ নাম্বার গেট ও জিইসি পর্যন্ত ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্ত স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, পরে পরামর্শক উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান ডিডিসি, এসএসআরএম, ডিপিএম, কেভির পরামর্শক্রমে ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে লালখানবাজার পর্যন্ত নেওয়া হয়। ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর ফলে ১৫০ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয় বেড়ে বর্তমানে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬২ কোটি টাকা। ফ্লাইওভারটি মুরাদপুর থেকে ২ নম্বর গেট হয়ে বায়োজিদ ও ২ নম্বর গেট থেকে জিইসি-ওয়াসা হয়ে লালখানবাজারে শেষ হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আগামীতে চট্টগ্রাম হবে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে আধুনিক শহর। এই ফ্লাইওভারটি নির্মিত হলে চট্টগ্রামে আর যানজট থাকবে না। শহরের মূল মহাসড়কের ওপর যানবাহনের চাপ প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পাবে।