May 3, 2026
দিনাজপুর: মৌ মৌ গন্ধে দিনাজপুরের বাজারে এখন কাঁচাপাকা লিচুতে ভরপুর। কে আগে বাজারে লিচু নিয়ে আসতে পারে। আর এ প্রতিযোগিতার কারণে লিচু বাগানে ব্যবহার হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক। আর মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের কারণে লিচুর পুষ্টিমান নিয়ে শঙ্কিত দিনাজপুরে সাধারণ ক্রেতারা। তবে এখন পর্যন্ত দিনাজপুরের লিচুতে ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য পাওয়া যায় নাই বলে কৃষি বিভাগ জানায়। বাজারে আসছে মাদ্রাজি লিচু। এরপর বাজারের একে একে আসবে বোম্বাই এবং বেদানা, তারপর আসবে চায়না-১ চায়না-২ ও চায়না-৩। সবার শেষে বাজারে আসবে কাঁঠালি লিচু। এ ছাড়াও লিচুর আরো কয়েকটি জাত রয়েছে। লিচু কিনতে আসা দিনাজপুর উপশহরের বাসিন্দা মোছা. মর্জিনা বেগম জানান, ছেলে বায়না ধরেছে তাই লিচু কিনতে এসেছি। কিন্তু মনের মধ্যে ফরমালিনের ভয় কাজ করছে সারাক্ষণ। তাই লিচু কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। তিনি ফরমালিনবিরোধী অভিযান চালানোর জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
শহরের রামনগরের বাসিন্দা রফিক প্লাবণ জানান, বাজারে নতুন লিচু এসেছে তাই কিনতে এলাম। কিন্তু লিচুর ঘ্রাণ নেয়ার জন্য নাকের কাছে নিতেই কীটনাশকের তীব্র গন্ধে লিচু না নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। কীটনাশক বিক্রেতা এবং বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা যায়, লিচু বাগানের পরিচর্যার ক্ষেত্রে বায়ার কোম্পানির ডেসিস, বেল্ট, পদ্মা ওয়েল কোম্পানির রিপকট এবং ইন্তেফা গ্রুপের জুবাস, প্রোক্টোকেম গ্রুপের কোরজেন, অ্যাবামেকটিন গ্রুপের লাকাদ কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। গাছের মুকুল এবং ফলকে ধরে রাখার জন্য সেমকো গ্রুপের লিটোসেন, এসিআই গ্রুপের ফ্লোরা, সারিপ গ্রুপের গিকোজিন, মেগডোলান গ্রুপের মেগনোল ব্যবহার করা হয়। ফলকে দ্রুত বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে হরমোন হিসেবে ক্রস কেয়ার কোম্পানির টপাস সিনেটেড, জিঙ্ক প্লাসসহ নাফা, জাদা, বাড়ন্ত নামে বেশকিছু হরমোন ব্যবহার করা হয়। তবে এসব কীটনাশক শরীরের জন্য ক্ষতিকর কিনা তা তাদের জানা নেই। বীরগঞ্জ শহরের লিচু বিক্রেতা মো. জয়নাল আবেদীন জানান, বাজারে এখন মাদ্রাজি লিচু এসেছে। একশ লিচু বিক্রয় হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা দরে। তবে এ সব লিচুর স্বাদ তেমন ভালো নয়। শুধুমাত্র ক্রেতাদের মন জোগাতেই বাগান মালিকদের কাছ থেকে পাইকারি দরে লিচু এনেছি বেশি লাভের আশায়। লিচুতে ফরমালিন বা পদার্থ মেশানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গাছেই যদি এ রাসায়নিক জাতীয় কিছু মিশিয়ে দেয় তাহলে আমাদের জানা নেই। তবে আমরা বাজারে বিক্রয়ের সময় কোনো প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করি না।’