May 7, 2026
ঢাকা: রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ততার কারণেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমেদ। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ডিএমপি সদর দপ্তরে জাতীয় তামাক ও মাদক বিরোধী জোট আয়োজিত এক মতবিনিমিয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ায় অপরাধ নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণেই এমনটি হচ্ছে। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মিলি বিশ্বাস, অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) আব্দুল জলিল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ, জোটের সভাপতি নিয়ামত আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পুলিশকে বাধ্য হয়ে আরোপিত সন্ত্রাসীদের পেছনে ছুটতে হয়। এ কারণে নিয়মিত অপরাধ এবং অপরাধীদের দিকে নজর দেওয়া সম্ভব হয় না।
তিনি আরো বলেন, আমরা মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। গত তিন মাসে ডিএমপি ৪শ’ জন মাদক ব্যবসায়ী ধরেছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের শাস্তি প্রদান করেছে।
গাজা, ফেনসিডিল প্রভৃতি মাদক নিয়ন্ত্রণে এসেছে দাবি করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আসলেও এখন আবার ইয়াবা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এই ইয়াবা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা সেবন করে থাকে। এ সমস্যা সমাধান করতে হলে পুলিশের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতি বছর শুধু ডিএমপিই ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ আসামি ধরে। কিন্তু সারা দেশের জেলে মাত্র ২৬ হাজার লোককে রাখার ব্যবস্থা আছে। তারপরও সেখানে ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার আসামি রাখা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় তামাক ও মাদক নির্মূল করার লক্ষে বিভিন্ন প্রস্তাব উথাপন করা হয়।
জাতীয় তামাক ও মাদক বিরোধী জোটের সভাপতি নিয়ামত আলী বলেন, মূলত দু’টি প্রস্তাব নিয়ে আমরা কমিশনারের কাছে এসেছি। একটি হল ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩ (সংশোধিত) এর বাস্তবায়নের লক্ষে প্রকাশ্যে ধূমপান করলে শাস্তি প্রদান করতে হবে। অপরটি হল দোকানে তামাক বিক্রি বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা ডিএমপির সহযোগিতা চাই।