April 29, 2026
সুনামগঞ্জ: বেশ কিছু দিন ধরেই চলছে তীব্র দাবদাহ। ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত মানুষেরা একটুখানি স্বস্তির নিঃস্বাস নিতে যখন নানা পানীয় আর মওসুমী ফলের সন্ধান করছেন ঠিক সে সময়েই বসেছে রসালো আর সুস্বাদু ফল আনারসের হাট। শুধু কী তাই, ভেজালের ভীড়ে যখন নিরাপদ মওসুমী ফল পাওয়া অনেকাংশে দুষ্কর, তখন সুনামগঞ্জ শহরের এক অস্থায়ী হাটে পাওয়া যাচ্ছে বিষমুক্ত সোনালী রঙের মুখরোচক এ ফল। শহরের বালুরমাঠ এলাকায় বসেছে অস্থায়ী এ হাট। শনিবার থেকে শুরু হওয়া হাট চলবে সপ্তাহ দুই পর্যন্ত। বিক্রেতারা জানান, স্থানীয়ভাবে চাষ করা এসব আনারস সম্পূর্ণ বিষমুক্ত। জেলার কোনো বাগানেই চাষিরা কেমিক্যাল প্রয়োগ করেন না বলে এ ফলের চাহিদা প্রতি মওসুমেই থাকে। দূর দূরান্ত থেকে পাইকার ও সাধারণ ক্রেতারা আসেন রসালো এই ফল কিনতে। বাগান থেকে হাটে তোলা এসব আনারস দেখতে যেমন চমৎকার খেতেও তেমনই সুস্বাদু বলে জানান তারা।
শনিবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষি ও পাইকাররা ভারে করে শহরের বালুরমাঠ এলাকায় নিয়ে আসেন মধুমাসের ফল আনারস। ছোট বড় আর মাঝারি আকারের আনারসের উপর ভিত্তিকরে দাম নির্ধারণ করেন বিক্রেতারা।
শনিবার হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট আকারের আনারসের দাম ছিল হালিপ্রতি ৮০টাকা এবং বড় আকারের আনারসের হালিপ্রতি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রায় ২৫ জন চাষি সকাল থেকে নৌকা বোঝাই করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আনারস নিয়ে আসেন এ হাটে। দাম যাই হোক ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে হাটে।
স্থানীয় আসাউরা গ্রামের বাগান থেকে আনারস নিয়ে আসা সোলেমান মিয়া নামের এক বিক্রেতা বলেন, ‘আমি ১৮ কুড়ি আনারস নৌকায় কইরা লইয়া আইছি, প্রত্যেক বছর আসাউরা গ্রামে ভালা আনারস অয়, বাগানের মালিক গাছে কোনো মেডিসিন দেয়না।’ মধু মিয়া নামের অপর বিক্রেতা বলেন, ‘আনারসগুলা খুব মিষ্টি, মাইনষে এই আনারসের লাগি প্রত্যেক বছর অপেক্ষায় থাকে, স্থানীয় কয়েকজন বাগান মালিক এই জাতের আনারস চাষ করে, সবের বাগানের আনারস কাটা পরছে না।’ হাটের আনারসে কোন বিষ নাই, কোন ফরমালিন নাই জানিয়ে ক্রেতা জুয়েল আহমদ বাংলামেইলকে বলেন, ‘এই আনারস প্রত্যেক বছর এ সময় হইলে বাজারে উঠে, কম দামে ভালো ফল বাচ্চাদের জন্য কিনলাম।’ দুই হালি আনারস কিনেছেন ফজলু মিয়া। তিনি বলেন, ‘২ হালি আনারস কিনছি, বাড়িতে সবাইরে লইয়া খাইমু। এলাকার চাষিরা এই ফলে কোন ওষুধ মিশায় না। বাজারে বাকি সব ফলেই কমবেশ ফরমালিন আছে, এই ভয়ে ফল কিনতেও ডর লাগে।’
এদিকে সদর উপজেলার আশাউরা গ্রামের এক বাগান মালিক আইঞ্জব আলী বলেন, ‘এইবার ফলন খুব একটা ভালা না হইলেও বেশ কয়েকজন আনারসের চাষ করছে। আমার বাগানের অর্ধেক আনারস কাটা অইসে, বাকিটা পরে কাটমু, আমরার কাছ থেকে পাইকাররা কিন্যা নিয়া বাজারে বিক্রি করে। জাত ভালা মিষ্টি আনারস মাইনষে কিনে, আমরা বাগানে কোন বিষ দেইনা।’