April 21, 2026
বিদেশ ডেস্ক॥ স্ত্রীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিমান সংস্থাকে দায়ী করে ছয় মিলিয়ন ডলারের মামলা করলেন এক আমেরিকান নাগরিক। তার অভিযোগ, ২০১২ সালে তিনটি বিমান সংস্থা ডেল্টা, কেএলএম ও লুফথানসা নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা জনস সলতেজ (৫৭) ও তার স্ত্রী ভিলমাকে (৫৬) বিমানে উঠতে বাধা দেয়। ভিলমার অতিরিক্ত ওজনের কারনে তাকে বিমানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানায় বিমান সংস্থা। ৪০৭ পাউন্ড ওজনের ভিলমা নিজের দেশে ফিরতে না পেরে হাঙ্গেরিতে মারা যান। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে , ভিলমা ও তার স্বামী ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে ইউরোপ ভ্রমণের জন্য নিউইয়র্ক থেকে ডেল্টার বিমানে বুদাপেস্ট এসে পৌঁছান। রোগাক্রান্ত মেদবহুল ভিলমা ডায়াবেটিস ও কিডনির অসুখে ভুগছিলেন। ডায়াবেটিসের কারণে তার একটি পা অস্ত্রোপাচার করে আগেই কেটে ফেলা হয়েছিল। তাই হুইল চেয়ারেই তাকে চলাফেরা করতে হয়। হাঙ্গেরিতে এসে তিনি ২ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কয়েকদিন পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বলা হয় তিনি দেশে ফিরতে পারেন। কিন্তু দেশে ফিরে দ্রুত তাকে চিকিৎকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয় হাঙ্গেরির ওই হাসপাতাল। সলতেজ দম্পতি তাই দেশে ফেরার তোড়জোড় শুরু করেন। প্রথমে তারা প্রাগের বিমানবন্দরে এসে বিমানে ওঠার চেষ্টা করেন। স্থানীয় দমকল কর্মীরা তাকে সাহায্য করতে আসেন। কিন্তু ভিলমার জন্য বিমানের নির্দিষ্ট তিনটি আসনে তাকে হুইলচেয়ার থেকে তুলতে ব্যর্থ হন দমকল কর্মীরা।
এই ঘটনার দুই সপ্তাহ পর ফের কেএলএম রয়াল ডাচ বিমানে ওঠার চেষ্টা করেন জনস ও ভিলমা। কিন্তু বিমানে ওঠার চেষ্টা করার সময় ওই বিমানের চালক এসে ভিলমাকে বিমান থেকে নেমে যাওয়ার জন্য বলেন। পাঁচ ঘণ্টা বুদাপেস্টের বিমানবন্দরে অপেক্ষা করার পর তারা দুজন ফের প্রাগ বিমানবন্দরে ফিরে আসেন। সেখানে ডেল্টার বিমান ধরার চেষ্টা করলে তাদেরকে বলা হয় উপযুক্ত হুইলচেয়ার না থাকায় ভিলমাকে বিমানে তোলা সম্ভব নয়। এরপর ২২ অক্টোবর তারা আবার লুফথানসা বিমান ধরতে আসেন। সেখানেও চালক জানান, অন্যান্য যাত্রীদের তাড়া থাকায় ভিলমার বিমানে ওঠার জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। এতবার প্রত্যাখ্যানের পর ক্লান্ত ও অসুস্থ ভিলমাকে নিয়ে জনস হাঙ্গেরির হলিডে হোমে ফিরে আসেন।এর ঠিক দুদিন পর ২৪ তারিখ ভিলমা মারা যান। সূত্র: এনওয়াইডেইলি নিউজ।