পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

মানবপাচারকারী চক্রের প্রতারণায় হৃদয়বিদারক ঘটনা

Posted on May 21, 2015 | in নির্বাচিত কলাম | by

m-dপাঁচার রোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে
দৈনিক পত্রিকা থেকে জানা যায়, থাইল্যান্ডে মানব পাচারকারীদের একটি বন্দিশিবিরেই ৪০০ জন রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমান ও বাংলাদেশী। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রতি ২০ জনের একজন এখন বিদেশে কর্মরত। অর্থাৎ বিদেশে প্রায় কোটিখানেক মানুষের কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধি করেছে। এ ব্যাপারে জনশক্তি রফতানীর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান যেমন অনস্বীকার্য তেমন ‘মানবপাচারকারী’ নামের একশ্রেণির প্রতারকের প্রতারণাও অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। বিদেশে চাকরি দেয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও, বিদেশে নিয়ে চাকরি না দিয়ে প্রতারণা শুধু নয়, জীবন কেড়ে নেয়ার ঘটনাও অনেক ঘটেছে; ঘটছে। সাম্প্রতিক সময়ে জনশক্তি রফতানীর ক্ষেত্রে দুর্নীতি তুলনামূলকভাবে হ্রাস পেলেও সাগরপথে মানবপাচারের ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিশেষতঃ মানবপাচারে সবচেয়ে বড় রুট হিসেবে বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে বঙ্গোপসাগর। এ পথে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান ও বাংলাদেশীরা। যাত্রাপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অধিবাসীরা রওনা করে। বারবার দুর্ঘটনায় অবৈধ অভিবাসীদের মৃত্যুর খবর এলেও অবৈধভাবে বিদেশ যাত্রার হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ সমুদ্রপথে অবৈধভাবে যাত্রা করে। এরইমধ্যে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে গিয়ে নির্যাতন ও অনাহারে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৫৪০ জন। অনেকে বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে দুই দেশের সীমানা অতিক্রম করে দক্ষিণে ভারত সাগর ধরে আরো এগিয়ে যায়। পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, মানবপাচারের দিক দিয়ে বঙ্গোপসাগর একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় রুটে পরিণত হয়েছে। মূলত বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচার হচ্ছে। কক্সবাজারের উখিয়ার উপকূলীয় এলাকার ১৩টি পয়েন্ট দিয়ে মানবপাচারের একটি বড় সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নীরবে সতর্কতার সাথে মানবপাচারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার কারণে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনও মাঝে-মধ্যে অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হচ্ছে। এমতাবস্থায়ও অনিশ্চিত সাগরপথে মালয়েশিয়া পাড়ি জমাতে গিয়ে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে মানবপাচারকারী চক্রের তৈরি করা টর্চার সেল এখন মালয়েশিয়াগামীদের মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। গত ৩ বছরে সাগরপথে প্রায় ৫০ হাজার লোকজন মালয়েশিয়া পাচারের নামে উপকূল ছেড়েছে। এ পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজারেরও অধিক মালয়েশিয়াগামী। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে,অনুসন্ধানে জানা গেছে- সাগরপথে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডে অবৈধভাবে মানুষ পাচার করা হচ্ছে গবাদি পশুর চালানের মতো করেই। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের উপকূলের মানবপাচারকারী সিন্ডিকেট সদস্যরা কক্সবাজার থেকে পাচার হওয়া লোকজনের চালান গ্রহণের পর সেই মেহেদী রংয়ের বিশেষ চিহ্নের সাহায্যেই পাচারকারীদের সাথে লেনদেন নির্ধারণ করে থাকে। এ সিন্ডিকেটের গডফাদারদের অধীনে কাজ করছে অজস্র দালাল। দেশজুড়ে এ দালালের সংখ্যা সহস্রাধিক বলে পুলিশের ধারণায় এসেছে। কিন্তু ধরা পড়েছে একেবারে নগণ্য। পাশাপাশি ধৃতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও দৃশ্যমান নয়। এ কারণে মানবপাচার দুর্দমনীয় অবস্থানে পৌঁছে গেছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে মানবপাচার প্রধান রুট বঙ্গোপসাগর। ছোট-বড় ইঞ্জিন বোট ও ট্রলার চালকদের একটি অংশ এ কাজে জড়িত হয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এদেশ থেকে অল্প টাকায় মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রলোভন দেখালেও থাইল্যান্ডে দালালদের আস্তানায় বন্দি করে রেখে এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে দেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে দুই/আড়াই লক্ষাধিক টাকা করে আদায় করে পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন উপকূলে পৌঁছে দেয়। উল্লেখ্য, মানবপাচারে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত আমরা মনে করি যে, শুধু আইনের বল প্রয়োগেই মানবপাচার রোধ করা যাবে না। কারণ মানুষের তৈরি আইনের গোলকধাঁধায় মানুষ সহজেই পার পেয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় হলো- মানুষের সৃষ্টিকর্তা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক ওঁর প্রতি অনুগত হওয়া ও অন্তরে ওঁর প্রতি ভয় লালন করা এবং এ সম্পর্কিত মূল্যবোধ ও চেতনা জাগ্রত করা।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud