May 6, 2026
ঢাকা: চলমান মাধ্যমিক পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মুঠোফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে প্রতিটি পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন পৌঁছে যাচ্ছে পরীক্ষার্থীদের হাতে।
পরীক্ষার পর দেখা যাচ্ছে, মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে অনেকগুলো মিলেও গেছে। এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গত সোমবার রাতে নেত্রকোনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তাঁরাও পেয়েছেন। মূল প্রশ্নের সঙ্গে কিছু মিল রয়েছে। তবে এগুলো ছোট সাজেশন থেকে আসতে পারে। তবু বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
৩ ফেব্র“য়ারি থেকে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা শুরু হয়। এই তিন পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ লাখ তিন হাজার ২০৩।
এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র এবং গণিত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন কেনার পর এটি মুঠোফোনের খুদে বার্তার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে এর বিস্তৃতিও হচ্ছে অত্যধিক।
গতকাল মঙ্গলবার এসএসসির ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়েছে। আগের রাতেই ঢাকা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষার হাতে লেখা প্রশ্নের চারটি সেট পেয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে ফটোকপির দোকানে এ প্রশ্ন বিক্রি হয় ২০-৫০ টাকার বিনিময়ে।
সোমবার রাত ১০টা ৫২ মিনিট থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে এই প্রতিবেদকের মুঠোফোনে দুটি খুদে বার্তা পাঠান একজন সচেতন অভিভাবক। খুদে বার্তা দুটোতে প্রতিটি প্রশ্নের প্রথমাংশ লেখা রয়েছে।
প্রথম খুদে বার্তায় লেখা আছে, Seen: an according,9. patriotism 10. vitamin 11. education eliminate light 12. there was a bad man 13. a school library/a tea stall 14. letter-ssc preparation/com-your hobby.
wØZxq Ly‡` evZ©vq †jLv Av‡Q, seen: when i was at medical…(letter: A prize giving ceremony) (paragraph: traffic jam/A village doctor) 9. Education (a)…a mans life 10. of all the exhibitions, the book fair…(table:16th December, 26 march, 21february)
গতকাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, শুধু ১২ নম্বর প্রশ্ন বাদে অন্য প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল রয়েছে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, বাংলা প্রথম-দ্বিতীয় ও গণিত পরীক্ষার আগেও একইভাবে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে।
প্রথম আলোর নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, গত সোমবার নেত্রকোনায় ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। অর্ধেক প্রশ্ন ছাপানো (কম্পিউটারে কম্পোজ করা) ও অন্যান্য প্রশ্ন হাতের লেখা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জেলা শহরের বিভিন্ন ফটোকপির দোকানে ২০ থেকে ৫০ টাকা করে প্রশ্নের ফটোকপি বিক্রি করা হয়। এ অভিযোগে জেলা শহরের সাতপাই ভোকেশনাল এলাকার ফারিহা ফটোস্ট্যাটের দোকান থেকে রাত ১১টার দিকে আশরাফুল ইসলাম, মো. রুকুনুজ্জামান ও ফরিদ আহমেদ নামের তিন যুবককে আটক করে পুলিশ।
ফাঁস হওয়া ওই সব প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নের শতভাগ মিল রয়েছে।
নেত্রকোনা মডেল থানার উপপরিদর্শক আবুল খায়ের জানান, আটক যুবকেরা কোত্থেকে প্রশ্নগুলো পেয়েছেন, তা প্রকাশ করেননি। জেলা প্রশাসক আনিস মাহমুদ বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের (লিখিত ও কম্পিউটারে কম্পোজ) একটি কপি তিনি পেয়েছেন। কে বা কারা প্রশ্ন ফাঁস করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রথম আলোর ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহ সদর ও পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া ও গফরগাঁও উপজেলা থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‘ক’ ও ‘খ’ সেট নামের হাতে লেখা দুটি পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নপত্র গতকাল দুপুর ১২টার পর থেকে বিক্রি হয়। সোমবার ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে একটি চক্র প্রশ্নপত্র দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করে। এর মধ্যে ‘ক’ সেটের প্রশ্নের সঙ্গে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রণীত প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে কথা হয় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক মহসিনা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দপ্তরে এমন কোনো অভিযোগ আসেনি। ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, মো. শফিউল্লাহ প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে বলেন, ‘বিষয়টি সত্যি হলে তা লজ্জার। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’