পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেনের পতাকার কাহিনী

Posted on July 11, 2014 | in সারা দেশ | by

130921175045_german_flag_304x171_afp_nocredit (1)আমজাদ হোসেনের তৈরি জার্মান পতাকাটি সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ আমজাদ হোসেনের পতাকার গল্প এখন বড় খবর। সেই খবর পৌঁছে গেছে ঢাকায় জার্মান দূতাবাসেও। ভারপ্রাপ্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত তাই শনিবার সাড়ম্বরে আসছেন তাঁর পতাকা দেখতে। সারা বাংলাদেশ যখন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল এই দুই শিবিরে বিভক্ত, তখন মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেনের জার্মানি প্রীতি কেবল ব্যতিক্রমই নয়, দলের প্রতি তার অকৃত্রিম অনুরাগ অবাক করার মতোই। ফাইন্যালে পৌঁছে যাওয়া জার্মানির ফুটবল দলের সমর্থনে তিনি তৈরি করেছেন প্রায় দুই মাইল দীর্ঘ এক জার্মান পতাকা। “জার্মানির ওষুধ খেয়ে বেঁচে উঠেছি। যতদিন বেঁচে থাকবো, আমি এবং আমার পরিবার এই জার্মানিকেই সমর্থন করে যাবো, জার্মানিকেই ভালোবাসবো।”

আমজাদ হোসেন আমজাদ হোসেন কখনো জার্মানি যাননি। তার কেউ জার্মানিতে থাকেন না। জার্মান ফুটবলের কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেও তিনি এদের সমর্থক নন।

জার্মানির সঙ্গে একমাত্র যোগসূত্র হোমিওপ্যাথি। বিবিসি বাংলার সায়েদুল ইসলামকে টেলিফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলছিলেন, কিভাবে তিনি জার্মানির সমর্থক হয়ে উঠলেন। “২০০৫ সালে আমার বিশেষ একটা ব্যাধি হয়।বাংলাদেশের কোন ডাক্তারের চিকিৎসাতেই ভালো হচ্ছিল না। শেষে এক হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের চিকিৎসায় জার্মানি থেকে আনা ওষুধ খেয়ে ভালো হই।”
জার্মান দূত ফার্দিনান্দ ফন ওয়েহে মাগুরা যাচ্ছেন পতাকা দেখতে
২০০৬ সালে জার্মানিতে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, জার্মানির ওষুধ খেয়েই যেহেতু তিনি ভালো হয়েছেন, তাই তিনি তাদের একটি উপহার দেবেন। এই পতাকাই হচ্ছে সেই উপহার।

“২০০৬ সালে প্রথম পতাকা বানাই। কিন্তু জার্মানি সেবার সেমিফাইন্যালে ইতালির কাছে হেরে যায়। এরপরতো আর পতাকা বের করতে পারি না।”

এরপর ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপের আসর বসে। তখন আবারও জার্মান পতাকা বের করেন আমজাদ হোসেন। আবারও কাপড় কিনে তিনি পতাকা বানান। কিন্তু সেবারও সেমিফাইন্যালে স্পেনের কাছে জার্মানির হার।

ব্রাজিল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর আবারও পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেন আমজাদ হোসেন।

“পুরো পতাকাটি খুলে টেনে ধরতে তিন-চারশো লোক দরকার হয়। এতো লোক জড়ো করে এনে তাদের খেতে দিতে হয়। অনেক ঝামেলা হয়।”
আমজাদ হোসেন

“আমার বয়স হয়েছে। ভাবলাম এবার জার্মানির সমর্থনে শেষ চেষ্টা চালাব। আমার কিছু অর্থকড়ি নষ্ট করবো। শেষ বারের মতো একটা চান্স নিয়ে দেখি আল্লাহ কি করে।”

প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে আমজাদ হোসেন যে পতাকাটি তৈরি করেন, সেটির সঠিক দৈর্ঘ্য তিনি মেপে দেখেননি। তবে, তার অনুমান দু মাইলের কম হবে না।

“কোনদিন পুরো পতাকাটা খুলে মাপা সম্ভব হয়নি। পুরো পতাকাটি খুলে টেনে ধরতে তিন-চারশো লোক দরকার হয়। এতো লোক জড়ো করে এনে তাদের খেতে দিতে হয়। অনেক ঝামেলা হয়।”

এই পতাকা নিয়ে জার্মানির সমর্থনে নানা রকম অনুষ্ঠান আয়োজনে আরও প্রায় লাখখানেক টাকা খরচ করেছেন তিনি।

এরকম একটা কাজে এত অর্থ নষ্ট করছেন, এ নিয়ে পরিবারের দিক থেকে আপত্তি উঠেনি?

“এ নিয়ে আমার পরিবারের কেউ ব্যাজার না। সবাই খুশি। তারা বরং এই কাজে আমাকে সাহায্য করে।”

“জার্মানির ওষুধ খেয়ে বেঁচে উঠেছি। যতদিন বেঁচে থাকবো, আমি এবং আমার পরিবার এই জার্মানিকেই সমর্থন করে যাবো, জার্মানিকেই ভালোবাসবো।”

জার্মানি এবার ফাইন্যালে গেছে, কেমন লাগছে তাঁর?

“খুবই খুশি আমি। যদি কাপ নিতে পারে, আরও খুশি হবো।”

জার্মানি বিশ্বকাপ জয় করতে পারলে বাড়িতেই একটা বড় অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করছেন আমজাদ হোসেন।
……বিবিসি বাংলা

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud