May 1, 2026
নিউজ ডেস্ক:রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টি হয়। বিকেলে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেক এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছিল। আর জলাবদ্ধতা নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে। বাংলাদেশের উপর মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে।দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, গাঙ্গেয় ও পশ্চিমবঙ্গ তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গতকালের লঘুচাপটি বর্তমানে বাংলাদেশের পশ্চিম অংশ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর-বঙ্গোপসাগরে প্রবল রয়েছে। নদ-নদীর ৪৫টি স্থানে পানি বৃদ্ধি ও ৩৬টি স্থানে পানি হ্রাস পেয়েছে। ৪টি স্থানে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নদী সমূহ ও গঙ্গা-পদ্মা ও সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।গঙ্গা-পদ্মা ও সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেতে পারে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৮৪টি পানি মনিটরিং স্টেশনের মধ্যে ৪৫টি স্থানে পানি বৃদ্ধি এবং ৩৬টি স্থানে পানি হ্রাস পেয়েছে। ১টি স্থানে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ২টি স্থানের পানির তথ্য পাওয়া যায়নি। ৪টি স্থানের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।ঢাকা: বিকেল পাঁচটার দিকে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের পেয়াদা পাড়া মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ রহমতউল্লাহ। সেখানে জমে আছে হাঁটুপানি। ময়লা ওই পানি মাড়াতে গিয়ে চরম অসহায় বোধ করছিলেন তিনি। বললেন, �জলাবদ্ধতা প্রতিবছরই হয়। দুর্ভোগও পিছু ছাড়ে না। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মতিঝিল মধুমিতা সিনেমা হলের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছিলেন একদল মানুষ। এঁদের মধ্যে আরামবাগের বাসিন্দা আবদুর রশীদ বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়েও কোনো রিকশা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, বিশেষ প্রয়োজনে বেরিয়েছিলেন। সূর্যের তাপে মাথা ঘুরে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। এখন চলছে বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার সমস্যা। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে দেখা গেল আরামবাগ, ফকিরের পুল মোড় ও আশপাশের এলাকার পানি আর পানি। ফকিরের পুল থেকে নয়াপল্টন যাওয়ার পথে তীব্র যানজট। জলাবদ্ধতা ছাড়াও নয়াপল্টনে একটি ভবনে আগুন লাগার কারণে সেখানে যানজট সৃষ্টি হয়েছিল বলে দায়িত্বরত একজন পুলিশ জানান। গত দুই দিনের তীব্র গরমের পর এই বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তির আভাস দিলেও জলাবদ্ধতা নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেরাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের সামনে যখন তীব্র যানজট, শান্তিনগর মোড়ে তখন প্রায় কোমর পানি। ইস্টার্ন প্লাস বিপণিবিতানের সামনে থেকে শান্তিনগর মোড় ছাড়িয়ে চারদিকে ব্যাপক যানজট চোখে পড়ে। আশপাশে মৌচাক, মালিবাগ, সার্কিট হাউস রোড, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, গুলিস্তান, মতিঝিল, দিলকুশা, বংশালসহ পুরান ঢাকার অনেক এলাকায় পানি আর পানি। এ ছাড়া কে এম দাস লেন, অভয় দাস লেন, বৃষ্টিতে মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, দিলকুশা, পুরানা পল্টন, কাকরাইল, মৌচাক, মালিবাগ, শেরেবাংলা নগর, রামপুরা, পরীবাগ, মিরপুরের গোলচত্বর থেকে কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, শুক্রাবাদ, পুরান ঢাকার অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়।ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ডি এম কামরুল আলম চৌধুরী জানান, সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্টে দৈনন্দিন গৃহস্থালি ও বারোয়ারি বর্জ্য জমে শক্ত হয়ে অনেকটা অংশ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বৃষ্টি হলে আশপাশের এলাকায় পানি জমে। তবে ঢাকার কোথাও পানি বেশিক্ষণ জমে থাকে না।অপর এক কর্মকর্তা বলেন, আগে ভারী বৃষ্টি হলে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকত, সেখানে এখন অল্প সময় পরই পানি সরে যায়। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ওয়াসা পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। বাংলাদেশের উপর মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে।দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, গাঙ্গেয় ও পশ্চিমবঙ্গ তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গতকালের লঘুচাপটি বর্তমানে বাংলাদেশের পশ্চিম অংশ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর-বঙ্গোপসাগরে প্রবল রয়েছে। নদ-নদীর ৪৫টি স্থানে পানি বৃদ্ধি ও ৩৬টি স্থানে পানি হ্রাস পেয়েছে। ৪টি স্থানে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নদী সমূহ ও গঙ্গা-পদ্মা ও সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।গঙ্গা-পদ্মা ও সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেতে পারে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৮৪টি পানি মনিটরিং স্টেশনের মধ্যে ৪৫টি স্থানে পানি বৃদ্ধি এবং ৩৬টি স্থানে পানি হ্রাস পেয়েছে। ১টি স্থানে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ২টি স্থানের পানির তথ্য পাওয়া যায়নি। ৪টি স্থানের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ঃগোপালগঞ্জে মুষলধারের বৃষ্টিতে জন-জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা এ বৃষ্টির ফলে সাধারন মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না।শহরের বাজার রোড, বাতাসা পট্টি, সাহাপাড়া, থিয়েটার রোড, ডিসি অফিস রোজে ঘুরে দেখা গেছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিকমত না থাকায় বৃষ্টির ফলে শহরের রাস্তায় পানি জমে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে পৌরবাসীকে। সেই সাথে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদেরকেও পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। টানা বৃষ্টিতে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ ও দিন মজুরেরা কাজে বের হতে পারেনি। ফলে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে তাদের। প্রয়োজন ছাড়া কেউই ঘর থেকে বের হয় নি।বরিশাল : টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে বরিশাল নগরীতে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার দিনভর কখনও গুড়ি গুড়ি,আবার কখনও মুষলধারে চলা এ বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।এছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বরিশাল থেকে অভ্যন্তরীণ নৌপথে ছোট লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বরিশাল আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগ সম্পর্কে নগরীর ফকিরবাড়ি রোড এলাকার ব্যবসায়ী মো. তাজউদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে পানি তার দোকানে ঢুকে লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। অটোরিকশাচালক রফিক মিয়া বলেন, নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড ছাড়াও হাসপাতাল রোড, ফজলুল হক এভিনিউ, ব্রাউন কম্পাউন্ডসহ নগরীর অধিকাংশ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অটোরিকশা চালাতে সমস্যা হচ্ছে।নগরীর নিচু এলাকাগুলোর বাসিন্দারা পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। কারও কারও বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, গত ২৫ বছরে বরিশালে এমন বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টির পানিতে পুকুর, খাল ও নদী ভরে যাওয়ায় পানি নামতে পারছে না।এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বরিশাল নদী বন্দর এলাকায় ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল বাশার মজুমদার জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ২ নম্বর সংকেতের কারণে ৬৫ ফুটের কম আয়তনের লঞ্চগুলো চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন রাস্তার পাশাপাশি অনেক বসতঘরে জমেছিল হাঁটু পানি।বরিশাল আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকোর্ড করা হয়েছে ৮৫ মিলিমিটার। যা বরিশালে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।বরিশালে বর্তমানে ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে বলেও জানান তিনি।এদিকে, সকালে বৃষ্টির পানিতে নগরের বটতলা, বগুড়া রোড, দপ্তরখানা, স্টেডিয়াম কলোনি, পলাশপুর, রসুলপুর নবগ্রাম রোডসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা দেখা দেয় নগরের আশপাশের নিচু অঞ্চলেও।বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আহসান হাবিব কামালসহ অন্য কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বান্দরবান : টানা চার দিনের বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সাংগু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বেড়ে বান্দরবানের পাঁচ উপজেলায় ২১ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ জেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে বলে জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন। তিনি জানান, ভারি বর্ষণে লামা উপজেলায় পাঁচ হাজার ৪৫০টি, নাইক্ষ্যংছড়িতে ১৫ হাজার, আলীকদমে এক হাজার ৯৫ এবং থানছিতে ৫৩টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। টানা চারদিনের ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সাংগু নদীর পানি বেড়ে বান্দরবান শহরের শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।টানা চারদিনের ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সাংগু নদীর পানি বেড়ে বান্দরবান শহরের শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।এছাড়া বান্দরবান শহরেও সাংগু নদীর তীর প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে মিজানুল হক জানান।টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে লামা উপজেলা সদরের রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরে পানি উঠেছেটানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে লামা উপজেলা সদরের রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরে পানি উঠেছেসদর উপজেলার ইউএনও শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসন শহরের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছেন। তাদের সাহায্যের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভোলা: ভোলায় মৌসুমী বাযুর প্রভাব ও ভারী বর্ষণে উপকূল ও চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।এতে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সহস্রাধিক মানুষ।বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে শুরু হওয়া এ বর্ষণ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। অতিবর্ষণে তলিয়ে গেছে ফসলের খেত, বসতঘর, রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা।প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে- চরফ্যাশনের কুকরী-মুকরী, ঢালচর, চর পাতিলা, লালমোহনের পেয়ারী মোহন, লর্ডহার্ডিঞ্জ, কচুয়াখালীর চর, মনপুরা উপজেলার কলাতলীর চর, দাসেরহাট, চর নিজাম ও ঢালচর, দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া, বৈকণ্ঠপুর, নেয়ামতপুর, হাজিপুর, মদরপুরা, ভোলার সদর উপজেলার রামদাসপুর ও মাঝের চর।এছাড়াও ভোলা শহরের পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সহস্রাধিক মানুষ। বৃষ্টির কারণে অনেকেই গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন।ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কালাম পাটোয়ারী জানান, টানা ভারী বর্ষণে ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়ে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।কুকরী-মুকরী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আব্দুস সালাম হাওলাদার বাংলানিউজকে জানান, রাত থেকে ভারীবর্ষণ শুরু হয়। এতে আমিনপুর, বাবুগঞ্জসহ বেশ কিছু নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ভোলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হেকিম জানান, দুই দিন ধরে নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বেশ কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।এদিকে, টানা বর্ষণের কারণে তলিয়ে গেছে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের ফেরির গ্যাংওয়ে ও সংযোগ সড়ক।এতে ফেরিতে যানবাহন ওঠা-নামায় চরম বিঘে�র সৃষ্টি হচ্ছে। কক্সবাজার: দু�দিন টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বাঁকখালী নদীসহ কয়েকটি খালের পানি বেড়ে এবং বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে কক্সবাজার জেলার শতাধিক গ্রাম।এছাড়াও কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক ও মেরিন ড্রাইভ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি কক্সবাজারে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি। এতে জেলার প্রায় ১০০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় কক্সবাজার সদরের ১০ গ্রাম, মহেশখালী উপজেলার ১৫ গ্রাম, কুতুবদিয়া উপজেলার ১৫ গ্রাম, চকরিয়ার ২০ গ্রাম, উখিয়ার উপজেলার ১০ গ্রাম, রামু উপজেলা ২০ গ্রাম ও টেকনাফের ১০ গ্রাম। এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়াও পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ৫০টি চিংড়ি ঘেরের মাছ। কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, জেলার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।এছাড়া কক্সবাজার সদর উপজেলার লিংক রোড থেকে রামু উপজেলার খুলিয়াপালং এলাকায় চার কিলোমিটার সড়কে অতিরিক্ত পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে ওই সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল পৌনে ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।এছাড়াও মেরিন ড্রাইভ সড়কে একটি স্থানে ভাঙন ও কয়েকটি স্থানে পাহাড়ি মাটি এসে পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে কলাতলি মসজিদ এলাকার সড়কেও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি হিমছড়ি থেকে রেজু ব্রিজ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ি মাটি এসে সড়ক ভরাট হয়ে গেছে।কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, প্রবল বর্ষণের কারণে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় ওই সড়কে আপাতত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম:লঘুচাপ এবং মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বুধবার থেকে পণ্য খালাস বন্ধ আছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বহির্নোঙরে কোনো জাহাজ থেকে কোনো পণ্য খালাস হয়নি।এদিকে টানা চার দিন ধরে বৃষ্টিতে জেলার সাতটি উপজেলার নিমাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বেড়েছে কয়েকটি নদীর পানি।ঢাকার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস কর্মকর্তা আমিরুল হোসেন বলেন, উড়িষ্যার লঘুচাপ ও মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গত কয়েকদিন ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে জোয়ার ও অমাবস্যা।কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১৫৪, কক্সবাজারে ৪৪০ এবং বান্দরবানে ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হালদা নদীর পানি নারায়ণহাট অংশে বৃহস্পতিবার সকালে বিপদসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।এছাড়া মাতামুহুরির পানি বান্দরবানের লামা পয়েন্টে বিপদসীমার চেয়ে ৮০ সেন্টিমিটার এবং চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৯৬ মিলিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।খারাপ আবহাওয়ায় সাগর প্রচণ্ড ঢেউয়ের কারণে কোনো লাইটার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে যেতে পারেনি বলে জানিয়েছেন ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশিদ।এ কারণে বহির্নোঙরে থাকা জাহাজ থেকে পণ্যও খালাস হয়নি। গত সোমবার কেউ লাইটার ভাড়া নেয়নি। মঙ্গলবার একটি ও বুধবার তিনটি লাইটার ভাড়া নিলেও তারা খারাপ আবহাওয়ার কারণে সাগরে যেতে পারনি। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ফরিদ আহমেদ জানান, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর সর্তকতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।ভারি বৃষ্টিতে সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, রাউজান, ফটিকছড়ি, সন্দ্বীপ, বাঁশখালী ও সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, ফসলি জমি, বীজতলা, পুকুর ও রাস্তায় পানি জমে গেছে।সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, পানির কারণে কেরানীহাট-বান্দরবান সড়ক বন্ধ রয়েছে। পানি নামলে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।পার্শ্ববর্তী চন্দনাইশ উপজেলাতেও একই অবস্থা। পানিতে তলিয়ে গেছে বৈলতলি, বরমা, হাশিমপুর ও দোহাজারি এলাকার কৃষিজমি। দক্ষিণ হাশিমপুর পাঠানিপুল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে পানি উঠলেও যান চলাচল করছে। চন্দনাইশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীদা শারমিন জানান, দোহাজারী ও পদ্মপুকুর এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে নালা পরিষ্কার ও পানি সরানোর কাজ চলছে।রাউজানের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কুল প্রদীপ চাকমা জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে উত্তর রাউজানে ক্ষতির পরিমাণ বেশি। বুধবার সেখানকার প্রায় সব পুকুরে জোয়ারের পানি ঢুকে চাষের মাছ বেরিয়ে গেছে।এছাড়া কৃষিজমিতে থাকা বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার পানি কিছুটা কমেছে।সন্দ্বীপেও কিছু ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হবে বলে জানান তিনি।চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে প্রতিবেদন পেলে পানি নেমে যাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ধুনট (বগুড়া): বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ২০০ মিটার ধসে গেছে। একই সঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে যমুনা পাড়ের ১০ পরিবারের ঘরবাড়ি।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বাংলানিউজকে জানান, রঘুনাথপুর গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন ঠেকাতে ২০০৯ সালে ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রকল্পের কাজের মধ্যে যমুনা নদীর পাড় ঢালু করে জিও টেক্স বিছানোর পর তার ওপর সিসি ব্লক বসানো হয়।নির্মাণের পর থেকে প্রতি বছর প্রবল স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই প্রকল্প। প্রকল্পের অনেক স্থান থেকে সিসি ব্লক নদী গর্ভে বিলীন হয়। কিন্ত তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দীর্ঘদিনেও মেরামত করেনি পাউবো কর্তৃপক্ষ। এদিকে, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে প্রবল স্রোতে ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ২০০ মিটার যমুনা নদীতে ধসে গেছে। একই সঙ্গে রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক সোহরাব আলী, আব্দুল কাদের, জহির উদ্দিন, ছোবাহান আলী, আলতাব হোসেন, ছানোয়ার হোসেন, রেনু বেগম, আব্দুল কাদের, রানা ও সোহেলের ঘরবাড়ি যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া আরও ১০/১২ পরিবারের বসতভিটা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এখন যমুনা নদীর ভাঙন ধেয়ে আসছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দিকে। ভাঙন আতঙ্কে যমুনা পাড়ের লোকজন ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল মোত্তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভাঙন রোধে ধসে পড়া স্থানে জরুরি ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। গত দুইদিনের টানা ভারী ও মাঝারি বর্ষণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বগুড়াবাসী। শহর ও আশপাশের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে অধিকাংশ সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচল কমে গেছে। ফলে পরিবহন সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।ভারী বষর্ণে সড়ক ছাপিয়ে পানি শহরের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েছে। অনেক এলাকার সড়ক এখনও পানিতে নিমজ্জিত।এতে অনেক স্থানে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাসাবাড়ির লোকজনের অবস্থাও একই।দীর্ঘদিনের তাপদাহের পর সোমবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি জনমনে স্বস্তির পরশ নিয়ে আসে।তবে সোমবার মাঝ রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টি চলতে থেমে থেমে চলতে থাকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত।বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শহরের সাতমাথা, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, প্রেসপট্টি, চকযাদু সড়ক, টিনপট্টি, বড়গোলা, শাপলা মার্কেট, রাজাবাজার, খান্দার, মালগ্রাম, ঠনঠনিয়া, হাজিপাড়া, সেউজগাড়ি, পালপাড়া, পুরাণ বগুড়া, নিশিন্দারা, কারবালা, জহুরুল নগর, ফুলবাড়ী, ফুলতলা, কাটনারপাড়াসহ অসংখ্য নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শহরের প্রেসপট্টি এলাকার ব্যবসায়ী শামিম পেপারের স্বত্বাধিকারী শাহিন, জিনিয়াস প্রকাশনী�র স্বত্বাধিকারী মাহফুজুল হক মোল্লা, কথাকলি�র স্বত্ত্বাধিকারী মোস্তফা, বেলাল কাটিংয়ের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেন জানান, সামান্য বৃষ্টিপাতেই এই এলাকায় পানি জমে যায়। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করে। ফলে ছাপার কাজের জন্য ঘরে রাখা কাগজ, বইপুস্তক, বিভিন্ন বাইন্ডিং করা পণ্য ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। গাজীপুর প্রতিনিধি:টানা বৃষ্টিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গীতে সরকারি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও থানা চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।বুধবার ভোররাত থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর চলা এ বৃষ্টিতে পানি জমে স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসক-রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, তৈরি পোশাক শ্রমিকসহ এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী অংশ ছাড়াও সুরতরঙ্গ রোড, সুলতানা রাজিয়া রোড, মোক্তারবাড়ি রোড এবং সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজ রোড পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।এছাড়া টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা গেছে।বৃহস্পতিবার সকালে টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল চত্বর ও নিচতলার মেঝেতে হাঁটু পানি দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি কমে গেলেও বেলা ২টার দিকে নিচতলার মেঝেতে পানি রয়েছে বলে হাসপাতালের চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান জানান।টঙ্গীর থানা ক্যাম্পাসে প্রায় হাঁটু পানি জমে ছিল বলে থানার ওসি মোহাম্মদ আলী জানান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি কমছে জানিয়ে ওসি বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে পুলিশ ও এলাকাবাসীদের থানায় যেতে সমস্যা হচ্ছে।টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন বলেন, বৃষ্টিতে কলেজে আসার পথ ও মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মাঠের পানি কলেজ ক্যাম্পাসের মসজিদের ভেতরেও ঢুকে যায়। দুপুরে পানি কিছু কমলেও জলাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। মসজিদে নামাজ পড়া যাচ্ছে না।টঙ্গী সরকারি কলেজের মাঠও পানিতে পূর্ণ হয়ে রয়েছে বলে কলেজটির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. কলিমুল্লাহ জানান।তিনি বলেন, পাশের সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজ রোড, সুলতানা রাজিয়া রোড়, মোক্তার বাড়ি রোডসহ আশপাশে এলাকায়ও একই অবস্থা। গাজীপুর সিটির ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আসাদুর রহমান কিরন জানান, টঙ্গী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নিচ দিয়ে একটি সরু কালভার্ট রয়েছে। এ দিয়ে পুরো এলাকার পানি সরে যেতে সমস্যা হচ্ছে।এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানালেও কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে জানান মেয়র।গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবুজ উদ্দিন খান বলেন, ওই কালভার্টের ব্যাপারে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বা সাবেক টঙ্গী পৌরসভার তরফ থেকে কোন রিকুইজিশন দেওয়া হয়নি।কালভার্টটি দেখভালের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের জানিয়ে তিনি বলেন, এটি ব্রিটিশ আমলের তৈরি বলে শুনেছি। মহাসড়ক থেকে কালভার্টটি প্রায় ১৫ ফুট নিচে রয়েছে। এটি পরিষ্কার করে রাখলে পানি কিছুটা নেমে যায়।কালভার্টের সংস্কার ও বড় করার বিষয়ে সওজ প্রকৌশলী সবুজ বলেন, এ জন্য অনেক অর্থ ও সময়ের প্রয়োজন।