April 19, 2026
শরীয়তপুর: ভরা বর্ষা মৌসুমেও পদ্মা-মেঘনায় ধরা পরছে না ইলিশ। তাই অসহায় দিন কাটাচ্ছে শরীয়তপুরেরের জেলে পরিবারগুলো। ঈদকে সামনে রেখে জেলার গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি, চরজানপুর ও জালালপুর মৎস্য পল্লীতে জেলেদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকা নদীর তীরে সারি সারি বাঁধা রয়েছে। শরীয়তপুর মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, শরীয়তপুরের পদ্মা, মেঘনা, আড়িয়াল খা, কীর্তিনাশা, জয়ন্তিয়া ও নীলাঞ্জনা নদীর অববাহিকায় তালিকাভুক্ত ১৫ হাজার ১৯৯টি জেলে পরিবারের বসবাস। তারা সারা বছর নদ-নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাছের ভরা মৌসুম। এ সময় এ অঞ্চলে ইলিশের সাথে সাথে অন্যান্য প্রজাতির মাছও ধরা পরে । কিন্তু এ বছর জালে মাছ ধরা পড়ছে না। এ কারণে ভরা মৌসুমে মাছে সংকট দেখা দিয়েছে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শরীয়তপুরের জেলেদের ইলিশসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছ পাইকারী বিক্রির ৪০টি বাজার রয়েছে। নদীর অববাহিকায় এ সকল বাজারে ৩ শতাধিক আড়ৎ রয়েছে। এখান থেকে শরীয়তপুর ছাড়াও মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা নদীর মাছ ক্রয় করে থাকেন। জেলেদের মাছ নিশ্চিতভাবে পাওয়ার জন্য আড়ৎ মালিকরা ট্রলার প্রতি ৫০ হাজার হতে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে। বর্ষা মৌসুমে জেলেরা মাছ শিকার করে সকল ঋণের টাকা পরিশোধ করেন এবং গড় মৌসুমের জন্য সঞ্চয় করে থাকেন। কিন্তু এ বছর নদীতে মাছ না থাকায় জেলেরা ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে খুবই চিন্তিত।
শরীয়তপুর মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে জাটকা সংরণ প্রকল্পের আওতায় শরীয়তপুরের তালিকাভুক্ত ১৫ হাজার ১৯৯টি জেলে পরিবারের মধ্যে ১২ হাজার ১৯৮ পরিবারকে মোট ১ হাজার ৯৫১ মেট্টিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। গোসাইরহাট উপজেলার চরজানপুর গ্রামের জেলে রবিউল আলম (৪০) বলেন, ছোট বেলা থেকে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করি। মাছের ভরা মৌসুমের আয় দিয়ে সারা বছর চলি ও ঋণের টাকা পরিশোধ করি। এ বছর এখনো নদীতে কোন মাছ ধরা পড়ছে না। এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। জানি না কবে থেকে মাছ পাওয়া শুরু হবে। ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের গাইনকান্দি গ্রামের ধলু খা (৪৭) জানান, ১ মাস ধরে নদীতে মাছ নেই, তাই ধারদেনা করতে হচ্ছে, ঈদে ছেলে মেয়েদের নতুন কাপড় কি দিয়ে কিনবেন তা নিয়ে খুব চিন্তায় আছেন। তার উপর আবার মহাজনের দাদনের টাকা পরিশোধের দুশ্চিন্তা রয়েছে। গোসাইরহাট উপজেলার চরজানপুর মাছের আড়ৎদার মোঃ শামিম আহমেদ বেপারী বলেন, এ অঞ্চলের প্রত্যেক বড় জেলেদের প্রতি বছর গড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা দাদন দিয়ে থাকি। এই সময়ে তারা মাছ ধরে আমাদের টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু এ বছর নদীতে কোন মাছ না পাওয়ায় জেলেরা এখন আর আড়তে আসে না। ফলে জেলেদের সাথে সাথে আমরাও অসহায় হয়ে পড়েছি। মাছ বিক্রি করতে পারলে জেলেরাও লাভবান হয়, আমরাও লাভবান হই। শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. কাজী ইকবাল আজম বলেন, স্বাভাবিকভাবে এখন ইলিশ ধরা পড়ার কথা। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে মৌসুম কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ায় ও বৃষ্টিপাত বেশী না হওয়ায় এখন জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পরছে না। তবে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে বেশ বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তখন পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরা পরতে শুরু করবে বলে আমরা আশাবাদী।