April 19, 2026
ময়মনসিংহ: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেহালদশা বিরাজ করছে। ময়মনসিংহের ভালুকা অংশের অবস্থা খুবই করুণ। ফোরলেন রাস্তার কাজে ধীরগতির কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে পথচারী, পরিবহন সেক্টরসহ বিভিন্ন জনের অভিমত। ফলে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চরম দূর্ভোগের শিকার হতে হবে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বৃহস্পতিবার সরেজমিন সড়কের বিভিন্ন স্থনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো রাস্তা কাদায় একাকার। বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানচলাচলে অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। তাছাড়া পথচারীরা রাস্তার ধারে কাছেও যেতে পারছেন না কাঁদার ভয়ে। রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় গর্তে গাড়ির চাকা পড়ে কাঁদা পানি ছিটে শরীর কাপড়চোপড় নষ্ট করে ফেলে। এহেন অবস্থায় ঈদে ঘরমুখো মানুষের দূর্ভোগের সীমা থাকবেনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফোরলেন রাস্তার কাজ যেভাবে চলছে তাতে মনে হচ্ছে এই মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহন ও পথচারীরা দুর্ভোগ থেকে কবে নাগাত নিস্তার পাবে তা বলা খুবই কঠিন। তাছাড়া মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে এমনকি ঘন্টার পর ঘন্টা যানযটের সৃষ্টি হয়ে দুই ঘন্টার রাস্তা পাড়ি দিতে সময় লাগছে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘন্টা। ফলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের দূভোর্গের সীমা থাকবেনা। এই সড়কে চলাচলরত যাত্রীবাহি বাসের চালক হারুন, বিল্লাল ও ট্রাক ট্রাক চালক মোখলেছ জানান, মহাসড়কে বেহালদশার কারণে জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ পৌছতে সময় লাগে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘন্টা। ফলে ব্যাপসা গরমে বহু যাত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। আর এদিকে সংস্কার কাজের ব্যাপারে বলতে হয়, একদিকে কাজ হচ্ছে আর পেছনের দিকে একটু বৃষ্টি হলেই বড় বড় গর্তের সুষ্টি হচ্ছে। এতে মনে হয় এই লোক দেখানো সংস্কার কাজ ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের কোন কাজে লাগবেনা।
ঢাকা থেকে ময়মসসিংহ গামী বাসযাত্রী আমেনা খাতুন, জয়নাল, ফরহাদ জানান, সড়কের এই করুর অবস্থার কারণে জীবনের মায়া ত্যাগ করে এই সড়কে চলাচল করতে হয়। গাড়ি যেন সামনের দিকে এগোতে চায়না। ঘন্টার পর ঘন্টা গাড়িতে বসে থাকতে হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফোরলেন প্রকল্পের কাজ চারটি ভাগে চারটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়। গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজারের নয়নপুর পর্যন্ত ১ ও ২ কসস্ট্রেকশন কাজের দায়িত্ব নেন সেনাবাহিনী, নয়নপুর থেকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা হয়ে ত্রিশালের চেলেরঘাট পর্যন্ত কনস্ট্রেশন-৩ প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড (পিবিএল), কনস্ট্রেশন-৪ চেলেরঘাট থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ মোড় পর্যন্ত শামীম এন্টারপ্রাইজ ও তমা এন্টারপ্রাইজ নামে যৌথ মালিকানাধিন প্রতিষ্ঠান কাজের দায়িত্ব নেন।
যোগাযোগ সচিব এম,এন সিদ্দিকুর রহমান শনিবার দুপুরে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ফোরলেন রাস্তার কাজের অগ্রগতি পরিদর্শণ করতে এসে ময়মনসিংহের ভালুকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বলেন, ঈদের সময় যাতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি না হয়, এমনকি আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ যাত্রী হয়রানীর ব্যাপারে খেয়াল রাখাতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করলে কাজের তেমন কোন অগ্রগতি চোখে পড়ছেনা বলে স্থানীয়রা জানান। ভালুকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো: শাহাজাদা জানান, মহাসড়কে ছোট বড় গর্তগুলো সংস্কার করার কারণে প্রায়ই যানযটের সৃষ্টি হচ্ছে।
ফোরলেন কাজের ভালুকা অংশের ডিপোটি প্রজেক্ট ম্যানেজার মো: মোকাদ্দেছুল হক জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া আমি কোন বক্তব্য দিতে পারছিনা।
জয়দেবপুর-ময়মনসিংহের ফোরলেন কাজের এক্সিকিউটিভ প্রকৌশলী মনোয়ার উজ জামান জানান, কনস্ট্রেকশন ১ ও ২ নম্বর অংশে ৪২ থেকে ৪৫ ভাগ, ৩ নম্বর অংশে ৪৭ ও ৪ নম্বর অংশে ৫৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। অগামী জুন ২০১৫ এর মাঝে ফোরলেনের কাজ সমাপ্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, সড়ক ও জনপথের বিভাগের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সংস্কার কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। যাতে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের দূর্ভোগের শিকার না হতে হয়।