May 1, 2026
বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের শহরতলির ক্যমলং এলাকায় নির্জন একটি খামারে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দুই শিশুসহ চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। খুনের শিকার দুজন আপন ভাইবোন ও তাঁদের সন্তান। পুলিশের তথ্যমতে, এই রোহিঙ্গা পরিবারটি কয়েক বছর আগে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসে। জেলা শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কুহালং ইউনিয়নের বান্দরবান-চন্দ্রঘোনা সড়কের নির্জন ওই খামার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের ঢালুতে ধাপ কেটে নির্মিত ছোট বাড়ির ভেতরে দুই শিশুসহ তিনজনকে ও বাইরে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ আমিন (৪৫) ও তাঁর ছেলে জুনায়েদ (১২), আমিনের বোন সামিরা বেগম (৪০) ও সামিরার মেয়ে সৈয়দ নূর (৬)।
কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সানুপ্রু মারমার ভাষ্য, একজন বাগান মালিকের বাগান দেখাশোনা করার জন্য নির্জন ওই খামারে মোহাম্মদ আমিন, তাঁর স্ত্রী ও বোন সামিরা বেগম থাকতেন। দিনে পাশের খামারের লোকজনের আগাগোনা থাকলেও রাতে তাঁরা ছাড়া কেউ সেখানে থাকতেন না। তাই কারা কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ওই খামারের পার্শ্ববর্তী খামারের গোপাল দাশ ও হ্লাথুই মারমার ভাষ্য, গতকাল বিকেলে মোহাম্মদ আমিনের শ্যালক (নাম জানা যায়নি) এসেছিলেন। সকালে কারও কোনো সাড়া-শব্দ না পাওয়ায় খামারে গিয়ে চারজনকে মৃত পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু আমিনের স্ত্রী ও শ্যালককে কোথাও দেখা যায়নি। তাদের ধারণা, তারাই (আমিনের স্ত্রী ও শ্যালক) এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
হ্লাথুই মারমা বলেন, চার-পাঁচ বছর আগে শুধু করিম ও সামিরা তাঁদের শিশু সন্তান নিয়ে ওই খামারে থাকতেন। স্ত্রীকে নির্যাতন করে করিম সেখান থেকে পালিয়ে যান। তখন সামিরা তাঁর ভাই আমিনের পরিবারকে নিয়ে আসেন। আমিনের আগের ঘরে আরও দুই স্ত্রী আছেন বলে তাঁরা শুনেছেন। বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে আমিনের স্ত্রী ও শ্যালক এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে।