পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

ফেলানী হত্যা: সাক্ষ্য দিতে ফের বিএসএফের আহ্বান

Posted on November 14, 2014 | in সারা দেশ | by

10কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সেক্টর সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচার কার্যক্রম আবারো শুরু হচ্ছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভারতের কুচবিহার জেলা সদরে বিএসএফের ওই আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার কথা রয়েছে ফেলানীর বাবার।
এ উপলক্ষ্যে আগামী রোববার ভারতের উদ্দেশে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলামসহ তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল রওনা দেবেন।
অন্য দুজন প্রতিনিধি হলেন- বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মেজর এটিএম হেমায়েতুল ইসলাম ও সরকার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন(পিপি)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম-৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মেজর এটিএম হেমায়েতুল ইসলাম।
মেজর হেমায়েতুল জানান, বিএসএফের ১৮১ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে কমান্ডেন্ট ভিপি বাদলা শুক্রবার দুপুরে ফোনে বিচার কাজে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম, বিজিবি পরিচালক ও সরকার পক্ষের আইনজীবীকে রোববার ভারতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরদিন সোমবার আদালতে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম সাক্ষ্য দেবেন।
কুড়িগ্রাম-৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক সদস্য নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনিটারিতে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি তাকে অবহিত করেছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে রোববার ভারতের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রতিনিধি দল।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলকে একই আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য রওয়ানা হয়ে লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়ী এলাকায় পৌঁছার পর ফিরে আসতে হয়েছে। বিএসএফের ১৮১ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে কমান্ডেন্ট ভিপি বাদলা ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচার কার্যক্রম স্থগিত করার খবর মোবাইলে জানিয়ে দেয়ার পর মাঝপথ থেকে প্রতিনিধি দল কুড়িগ্রামে ফিরে আসেন।
ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বাংলামেইলকে জানান, তাকে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে শনিবার বিজিবি কুড়িগ্রাম সদর দপ্তরে ডাকা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এবার ফেলানী হত্যার সুষ্ঠু বিচার পেলে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে।’ সরকার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন জানান, এ মামলাটির জরুরি নিষ্পত্তি উভয় রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন। কারণ মামলাটির ইতিবাচক ফলাফল আন্তঃরাষ্ট্রীয় সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য উদাহরণ হতে পারে। সেই সঙ্গে ইতিবাচক রায়ের মাধ্যমে আসামির সাজা নিশ্চিত হলে ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। আর এজন্য ফেলানীর বাবার সঙ্গে কুচবিহারে যাবেন বলেও তিনি জানান।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী তার বাবার সঙ্গে ভারত থেকে ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। রাতে দালালের মাধ্যমে মই বেয়ে কাঁটাতারের বেড়া পাড় হবার সময় বিএসএফর গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারায় সে। দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা তার লাশ ঝুলে থাকে কাঁটাতারের বেড়ায়। এ ঘটনাটি দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম ও মানবাধিকারকর্মীদের কাছে ব্যাপকভাবে সমালোচনার ঝড় তোলে। খোদ ভারতের গণমাধ্যমগুলোর সোচ্চার ভূমিকায় কোচবিহারের বিএসএফর বিশেষ আদালতে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে ভারত সরকার। প্রতক্ষ্যদর্শী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও মামা আব্দুল হানিফ। কিন্তু অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমীয় ঘোষকে ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বেকসুর খালাস দেয় বিশেষ আদালত।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud