May 9, 2026
বেলা ১২টার দিকে হঠাৎই রব উঠলো কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়িতে উঠতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। গাড়ি প্রস্তুত করে রাখা হলো বাড়ির গেটের সামনে। চালক নিজেও সিটে বসলেন। চারিদিকে একটা চাঞ্চল্য তৈরি হলো। বাড়ির মূল ফটকে অবশ্য আগে থেকেই ঝুলছিলো পুলিশের লাগিয়ে দেওয়া তালা। কিছুক্ষণ এ অবস্থা চললেও দ্রুতই পাল্টে গেলো পরিস্থিতি। ভেতরটা আবারও শান্ত হয়ে এলো। এরপর বেলা পৌনে ২টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খালেদা জিয়ার তার কার্যালয়ের বাইরে যাওয়ার কোনও লক্ষণ চোখে পড়ছে না।

সংবাদকর্মী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়া বিএনপির কোনো নেতাকর্মী বা সাধারণ মানুষকে কেউ কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে পারছেন না। কেউ বের হতেও পারছেন না। এর আগে সোমবার (০৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে এগারটার দিকে খালেদা জিয়ার প্রেস সেক্রেটারি মারুফ কামাল খান সোহেল সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন বাইরে বের হতে প্রস্তুত হয়েছেন। বেলা ১২টার পর বের হওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি।
এদিকে, খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে প্রতিবন্ধকতা আরও বাড়ানো হয়েছে। কার্যালয়ের সামনের গেটে তালা দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। সেখানে সাত স্তরের নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। মূল ফটকে রাখা বালুর ট্রাক সরিয়ে সেখানে পুলিশের দু’টি গাড়ি আড়াআড়িভাবে রাখা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশের সদস্য সংখ্যা। এর আগে রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকেই গুলশান কার্যালয়ের মূল গেট ও এর আশপাশে বালু, পাথর, সুরকি ও ইটভর্তি অন্তত ১২টি ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। সোমবার সকালে এসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বর্ষপূতির দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ ঘোষণা করে রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশের পাশাপাশি সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি নেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। ঢাকার সমাবেশে যোগ দিয়ে নিজে সরকার পতনের এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেন জোট নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
ঘোষিত কর্মসূচির একদিন আগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থান নেন খালেদা জিয়া। সেখান থেকে রাতেই বের হয়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিলে তাকে যেতে দেয়নি পুলিশ। এরপর থেকে তাকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি।
তবে রাজধানীর কোথাও বিএনপি বা বিশ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের জমায়েত হতে দেখা যায়নি। সমাবেশস্থল নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় জনশূন্য। গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে খালেদার সঙ্গে শুধুমাত্র বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন। অন্যদিকে ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ রাজধানীর ১৬টি স্পটসহ সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পযায়ে বিজয় র্যালি ও সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়। এ অনুযায়ী সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীজুড়ে অবস্থান নিয়েছেন সরকারি দলের নেতাকর্মীরা। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সবচেয়ে বড় জমায়েতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী হাজির হয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি এ কর্মসূচির কারণে রাজধানীতে রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা থেকে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশ (ডিএমপি)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।