May 8, 2026
ঢাকা: প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে তেমন সহিংসতার ঘটনা না ঘটলেও ক্রমান্বয়ে তা বেড়েছে। এজন্য প্রার্থীদের পেশীশক্তি প্রয়োগের প্রবণতাই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো, শাহ নেওয়াজ। সোমবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সব পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। সবার আশঙ্কা ছিলো সেনাবাহিনী না থাকলে সহিংসতা ঠেকানো যাবে না। আমারা শুধু সেনা নয় সকল বাহিনীকেই মোতায়েন করেছিলাম। এরপরও কিছু কিছু জায়গায় সহিংসতা হয়েছে। এরজন্য প্রার্থীদের পেশীশক্তি প্রয়োগের প্রবণতাই দায়ী। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে সব দল সমর্থিত প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন। তাতেই বোঝা যায় কমিশন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। তবে সাবার পক্ষ থেকে সহযোগীতা পেলেও প্রার্থীরা কমিশনকে সহযোগীতা করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।ইসির ভূমিকা কারণেই যত সহিংসতার আশঙ্কা ছিলো, তার চেয়ে অনেক কম সহিংসতা হয়েছে বলেও দাবি করেন এই কমিশনার।
কেন্দ্র দখল, প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ও নানা অনিয়ম ঘিরে সৃষ্ট সহিংসতার মধ্য দিয়ে চতুর্থ ধাপে রোববার ৯১টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়। এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, ঝালকাঠির রাজাপুর ও কুমিল¬ার বরুড়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় ৪জন নিহত হয়েছেন। ৪৩টি জেলার অর্ধেকেরও বেশি জেলায় নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদের নিজের উপজেলা চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, বোমা হামলা, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, অগ্নিসংযোগ ও পোলিং এজেন্টদের মারধরসহ নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন- মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন প্রধান (৪০), ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা যুবলীগ কর্মী রিপন হোসেন(২৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উজেলার তারাগঞ্জ এলাকার আফতাব মিয়ার ছেলে ও আ.লীগ সমর্থক হাদিস মিয়া(৩০) ও কুমিল¬ায় বরুয়া উপজেলা হোসেনপুর গ্রামের রমিজউদ্দিনের ছেলে ও যুবদল কর্মী মো. মনির হোসেন (২৫)। রোববার সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে সহিংসতার এ ঘটনা ঘটে।
চতুর্থ ধাপের ৯১ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। কেন্দ্র দখল, ভোট কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে অনেক স্থানে ভোট বর্জন করেছেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা। সর্বশেষ ৯১ উপজেলার মধ্যে ৮৮ উপজেলার বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ৫২টিতে, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ২২টিতে এবং জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী পাঁচটিতে ও অন্যরা ৯টিতে বিজয়ী হয়েছেন। স্থগিত রয়েছে পটুয়াখালীর দুমকি, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার ভোট।
রোববার চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে নির্বাচনী সহিংসতায় মারা গেছেন চারজন। কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, হামলাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে নয়টি উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছেন। ভোট বর্জন করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীও।
এদিন দেশের ৪৩টি জেলার ৯১টি উপজেলায় ভোট নেয়া হয়। সকাল আটটায় মোট পাঁচ হাজার ৮৮২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে তা চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে ৩৩টি কেন্দ্রে ।
এবার ভোটার ছিলেন এক কোটি ৩৮ লাখ ৫৯ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৯ লাখ সাত হাজার ৯৫৬ ও নারী ভোটার ৬৯ লাখ ৫১ হাজার ৩১২ জন।চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা চেয়ারম্যান পদে মোট এক হাজার ১৮৬ জন প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৮৯ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৮৫ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলেন ৩১২ জন।