April 24, 2026
চাঞ্চল্যকর ৭ হত্যা মামলার আসামি নূর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে আনার প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন কৈখালী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে শনিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টায় নূর হোসেনকে তার চার সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়।
নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, রবিবার রাতে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, ভারতে নূর হোসেন গ্রেফতারের বিষয়টি এখনও অফিসিয়ালি জানা যায়নি। অফিসিয়ালি জানার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুরোধ করলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেবে।
তিনি আরও জানান, নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। খুব দ্রুততম সময়েই ফিরিয়ে আনা যাবে।
প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা শুনেছি, কলকাতার এন্টি টেরিরিজম স্কোয়াড কয়েকজন বাঙালিসহ নূর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। তবে আমরা বিষয়টি এখনও অফিসিয়ালি জানিনি। ভারত ও বাংলাদেশের প্রটোকলের আওতায় আমরা যখন জানব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন অনুরোধ করবে তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।’
কোন প্রক্রিয়ায় ফেরত আনা হবে, এ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’
তিনি বলেন, ‘দুই দেশ অতীতে বিভিন্ন এনগেজমেন্টে কাজ করেছে। যেহেতু ভারত প্রতিবেশী রাষ্ট্র, দুই দেশের সীমান্তে কখনও কিছু ঘটলে আমরা যেভাবে মিডিয়া বা অন্য কোনো মাধ্যমে জানতে পারি, ভারতও কিন্তু সেভাবেই জানতে পারে। সেই জায়গা থেকে ভারত এই কাজটি প্রো-অ্যাকটিভলি করেছে।’
শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা এখন অপেক্ষা করছি। কেননা সরকার যখন আরেকটি সরকারের সঙ্গে কথা বলবে তখন অফিসিয়াল চ্যানেলে কথা বলতে হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো বন্দি বিনিময় চুক্তির আলোকে বিষয়টি অ্যাক্টিভেট করা। তবে অনুরোধটি আসতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। আজ (রবিবার) সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইনিশিয়ালি কথা হয়েছে। আমরা অপেক্ষায় আছি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠালেই আমরা হাইকমিশনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করব এবং অবশ্যই দ্রুততার সঙ্গে কাজটি করা হবে। কারণ এটা একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। যদিও বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শতভাগ আওতায় পড়ে না তারপরও এইটুকু কমিটমেন্ট করতে পারি, এটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা, দ্রুততার সঙ্গেই দোষী ব্যক্তিকে নিয়ে এসে আইনশৃঙ্খলা বা আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর এই প্রক্রিয়ায় লম্বা সময় লাগার কোনো কারণ নেই।’
‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তির আলোকে আনতে চাইছেন। কিন্তু আনতে চাইলেই নুর হোসেনকে ভারত সরকার দিয়ে দিবে বা তারা কি বাধ্য?’ এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে নুর হোসেন এজ এ ইন্ডিভিজ্যুয়াল মানে ভারতের কাছে যদি তার অন্য কোনো ট্রানজেকশন না থেকে থাকে বা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সঙ্গে সে যদি বড় ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকে তাহলে ভারত সরকারের তো তাকে রেখেও কোনো লাভ হচ্ছে না। দ্রুততার সঙ্গেই আমাদের হস্তান্তর করবে, এটাই প্রত্যাশা করি।’
কী অভিযোগে নূর হোসেনকে আটক করা হয়েছে, জানেন কি না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, এখনও ফরমাল চ্যানেলে কিছু জানতে পারিনি।’
শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন কি না-প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, যেহেতু ফরমালি আমরা কিছুই জানি না। তাই এখনও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু করিনি।’
জানা গেছে, ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টের মাধ্যমে নূর হোসেনকে গ্রেফতার করা হলে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সহজ হবে। কিন্তু দেশটি যদি অবৈধভাবে বসবাসের জন্য নূর হোসেনকে গ্রেফতার করে থাকে তবে তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া খুবই দীর্ঘ হবে।
এ সম্পর্কে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এটা টেকনিক্যাল বিষয়। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানা নেই। তবে আমরা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নূর হোসেনের গ্রেফতার সম্পর্কে জানার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেব।’
এদিকে, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সচিবালয়ে নিজ দফতরে রবিবার বেলা পৌনে ১২টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তি রয়েছে। এ চুক্তি কিংবা যেকোনো উপায়েই হোক সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনবে।’
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতে গ্রেফতার হওয়া নূর হোসেন যে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার আসামি নূর হোসেনই সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। তারপরও নূর হোসেন ও তার সঙ্গীদের বিষয়ে সুনিশ্চিত হতে কিছুটা সময় লাগছে। সুনিশ্চিত হওয়ার পরই শিগগিরই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।’
নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনতে কোনো জটিলতার আশঙ্কা করছেন কি না জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘এখনও আমরা কোনো জটিলতার আশঙ্কা করছি না। আমরা সুনিশ্চিত, আমরা তাকে নিয়ে আসতে পারব।’
উলেøখ্য, ভারতের বিধাননগর কমিশনারেট এলাকার এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ গত শনিবার গোপন সূত্রে খবর পায় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী কৈখালীর একটি বাড়িতে আত্মগোপন করে আছে। এরপর এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের এসিপি অনিমেষ সরকারের নেতৃত্বে একটি টিম ওই বাড়িতে হানা দিয়ে শনিবার নূর হোসেনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।
এ সময় নূর হোসেনের ফ্ল্যাট থেকে গুলিভর্তি একটি রিভলবার, বাংলাদেশ-ভারতের ১০টি মোবাইল সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ, পেনড্রাইভ, সিডি ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।