May 3, 2026
এম এ মানিক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নারীদের যৌন হয়রানি ও লাঞ্ছনার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় হতাশা জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। সোমবার রাজধানীর মগবাজারে কমিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ড, মিজানুর রহমান বলেন, ‘নববর্ষের অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারী যৌন হয়রানি ও লাঞ্ছনার ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিস্মিত, মর্মাহত ও লজ্জিত। আমরা সকল নারীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’
নারীদের প্রতি বর্বরতা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন ড. মিজানুর রহমান। লাঞ্ছনার ঘটনায় ‘ধর্মান্ধতা’ এবং ‘পুরুষতন্ত্র ও রাজনীতি’ গুরত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে বলে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘সমভূমি জুড়ে কালো অন্ধকার নামাতে চায় এক অশুভ শক্তি। এদের মূল অস্ত্র অন্ধত্ব, কূপমন্ডুকতা, পশ্চাৎপদতা, বিভক্তি, সহিংসতা ও ঘৃণা। আমরা একে আলো, উদারতা, প্রগতিশীলতা, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা দিয়ে পরাজিত করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, শুভর সাথে অশুভের লড়াইয়ে শুভর জয় অনিবার্ষ।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘নববর্ষের এ হীন ঘটনায় পুলিশ গতানুগতি ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন ছাত্র সন্দেহভাজন দুজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছিল। বলা হচ্ছে, পুলিশের অবহেলায় তারা পালিয়ে গেছে। পুলিশের এ ভূমিকা হতাশাজনক। এটি নিছক কর্তব্যে অবহেলার শামিল। এমনকি আমরা জেনেছি পুলিশ সংযুক্ত সিসি ক্যামেরা দেখে অভিযুক্ত খুঁজে দেখার ক্ষেত্রেও অনাগ্রহ দেখিয়েছে।’
মিজানুর রহমান আরো বলেন, ‘এখন আমরা পুলিশের কিছু তৎপরতা দেখছি। তা যেন নিছক লোক দেখানো না হয়। কমিশন স্পষ্ট করে বলতে চায় অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে চিহ্নিত করতে হবে এবং তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ বা দীর্ঘসূত্রতা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’
নারীদের যৌন হয়রানি ও লাঞ্ছনার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও অনুরোধ জানান ড. মিজান।
এ ঘটনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় গণমাধ্যমকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি মিজানুর রহমান বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে এবং এ নির্বাচনে অনেক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীকে এ ঘটনায় প্রতিবাদ বা দুঃখ প্রকাশ করতে দেখিনি। যারা আগামী দিনের নগরপিতা হবেন উর্পযুক্ত বিষয়ে তাদের নীরবতা আমাদের বিচলিত করছে। আমরা আগামী দিনের জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি বন্ধে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার চাই।’
মানবাধিকার কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব টিচার্স ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মাহফুজা খানম, মানবাধিকার কর্মী অ্যারোমা দত্ত, কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য কাজী রিয়াজুল হক প্রমুখ।