May 8, 2026
ঢাকা: ঢাকার দোহারে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ট্রিপল মার্ডার মামলার ১৩ আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক আফরোজা শিউলি সোমবার দুপুরে শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এসব আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। জামিন নামঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন হুমায়ুন আলী (৩৫), তারা মিয়া (৫২), লিয়াকত আলী চোকদার (৩৫), রাসেল চোদ্দার (৩০), ইউনুস আলী চোদ্দার (৫০), ইসাহাক আলী (৭০), আব্দুর রহিম (৪৫), আলমগীর চোদ্দার (৫৫), তোতা সেখ (৬০), শাহনেওয়াজ মাঝি (৪৯), আনিস মাঝি ( ৩৫) আকতার হোসেন (৪৫) ও জাহাঙ্গীর চোদ্দার (৪৩)। গত ৬ জানুয়ারি দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের হাজারবিঘা গ্রামে আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানের সমর্থক হুকুম আলী চোকদার, বাশার চোকদার, রাশেদ চোকদারের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক নির্বাচনে বিজয়ী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় বাবা মুসা খন্দকার (৫০), তার ভাই মাসুদ খন্দকার (২৮) ও ফুফাতো ভাই মকবুল মুন্সী (৩৬) নিহত হন। এই ঘটনায় গত ৭ জানুয়ারি মোতালেব খন্দকার বাদী হয়ে আব্দুল মান্নান খানের ভাই মোতালেব খানসহ ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে দোহার থানায় একটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা ডিবির এসআই আবু বকর সিদ্দিক তদন্ত শেষে গত ৪ মার্চ ৬০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্ত কর্মকর্তা এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে মান্নান খানের ভাই মোতালেব খান, জহিরুদ্দিন জহু, হারুন চোদ্দার ও রাজিয়া বেগমকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন। অন্যদিকে চার্জশিটে নতুন ৮ আসামিকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। জানা গেছে, মামলার ২৯ আসামি গত ২৭ জানুয়ারি উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন লাভ করেন। গত ২৩ মার্চ আসামিদের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়। এসব আসামির মধ্যে ১৩ জন আজ সোমবার নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে এই মামলার চার্জশিটভুক্ত ৪৭ আসামি পলাতক আছে। আগামি ১ এপ্রিল মামলার চার্জশিট গ্রহণের ব্যাপারে শুনানি হবে।
এদিকে মামলার বাদী মোতালেব খন্দকার জানান, মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য দাখিলকৃত চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে তিনি নারাজি আবেদন দাখিল করবেন। বদীপক্ষে আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি আনোয়ারুল কবির বাবুল এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপন শুনানিতে অংশ নেন।