পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

ত্রিশালে জঙ্গি ছিনতাই জড়িত ছিল ভারতীয় নাগরিক!

Posted on November 16, 2014 | in জাতীয় | by

mymensingh pic-6 police van_33056ডেস্ক রিপাের্ট : ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশ ভ্যান থেকে সাজাপ্রাপ্ত তিন জঙ্গিকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভারতীয় এক নাগরিক অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা। চলতি বছরের শুরুর দিকের ওই ঘটনায় জঙ্গিদের গুলিবর্ষণে এক পুলিশ সদস্যও নিহত হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবি’র একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ছিনতাই হওয়া ওই শীর্ষ তিন জেএমবি সদস্যকে লুকিয়ে ভারতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে ছিল ভারতীয় নাগরিক। লিকু নামে ওই ভারতীয় নাগরিক ঢাকার সাভারে থাকতো বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। তবে আরও তদন্ত শেষে তার বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে। ওই ডিবি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিস্ফোরণ এবং এর সঙ্গে জেএমবি কমান্ডার শেখ রহমতুল্লাহ ওরফে সাজিদের বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়েই গোয়েন্দারা লিকুর সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।’

চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার সময় পুলিশ ভ্যানে সিনেমার কায়দায় হামলা চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত শীর্ষ জেএমবি নেতা সালাউদ্দিন ওরফে সালেহিন ওরফে সজিব, জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান এবং রাকিব হাসানকে ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা। অবশ্য এ ঘটনার পরপরই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় রাকিব। তবে ভয়ঙ্কর জঙ্গি সালেহিন ও বোমা মিজান পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ডিবি এর যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, পালিয়ে যেতে সক্ষম হওয়া ওই দু’জঙ্গি সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছে। ত্রিশাল হামলা নিয়ে তদন্ত করা আরেক ডিবি কর্মকর্তা জানান, ওই হামলায় জঙ্গিরা পাঁচটি মোটরসাইকেল, দুটি মাইক্রোবাস এবং একটি ট্রাক ব্যবহার করে। ট্রাকটি ব্যবহার করা হয় রাস্তায় যানজট সৃষ্টির জন্য। আর মাইক্রোবাস দুটি ব্যবহার হয় পালিয়ে যাওয়ার কাজে। প্রথমে গাজীপুরের কোনাবাড়ি এই হামলা পরিকল্পনা করা হলেও তা ভেস্তে যায়। এরপর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁক দেখে ত্রিশালে এই হামলা চালানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতীয় ওই নাগরিক তিন পলাতক জঙ্গিকে ভারতে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। তবে ওই ভারতীয় নাগরিক কোন জঙ্গি গ্রুপের সদস্য তা সম্পর্কে জানাননি জঙ্গি কর্মকর্তারা।

ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এবং সন্ত্রাস দমন ইউনিটের প্রধান সানোয়ার হোসাইন জানান, ধারণা করা হয় ত্রিশাল হামলায় মোট ৩১ জন জড়িত ছিল। এর মধ্যে গোয়েন্দারা মাত্র পাঁচজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুজন এই হামলার অর্থদাতা। ওই হামলার সঙ্গে জড়িত ৩১ জনের মধ্যে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার ৬ নম্বরে সাজিদুরের নাম রয়েছে বলেও জানান সানোয়ার হোসাইন। পুলিশ বলছে, বর্ধমান বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেফতার হওয়া সাজিদই মোস্ট ওয়ান্টেড জেএমবি কমান্ডার শেখ রহমতুল্লাহ ওরফে মাসুম।

সানোয়ার হোসাইন জানান, ত্রিশালের জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটানোর কয়েক মাস আগে সাজিদ জামিনে মুক্ত হয়ে কারাগার থেকে বাইরে আসে। এরপর সম্ভবত ত্রিশালে ওই ছিনতাই অভিযান শেষ করে ভারতে পালিয়ে যায়। তবে এ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানান তিনি। ওই ঘটনার তদন্তে জড়িত ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে কাপড়ের ব্যবসা, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায় থেকেই আসে জেএমবির জঙ্গি কর্মকা-ের অর্থের যোগান। এ ধরনের সন্দেহভাজন ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান গোয়েন্দারা। ঢাকা ট্রিবিউন

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud