May 3, 2026
পটুয়াখালী প্রতিনিধি : এবার পটুয়াখালীতে জামায়াত ইসলামীর আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘আরডিপি’ গ্রাহকদের প্রায় শত কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে।
সোমবার গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই অফিস বন্ধ করে কর্মকর্তারা আত্মগোপনে চলে যান। এরপর মঙ্গলবারও প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, আরডিপির কোনো কর্মকর্তাকেই এখনও আর মোবাইল ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে একই সময়ে গলাচিপা উপজেলা ও বাউফল উপজেলা থেকেও প্রতিষ্ঠানটির শাখার কর্মকর্তারা উধাও হয়েছেন বলে জানা গেছে। কোটি কোটি টাকার আমানত নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সটকে পরায় পথে বসেছেন এর শত শত গ্রাহক।
পটুয়াখালী শহরের সদর রোডে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ভবনে একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে ২০১২ সালে আর্থিক কার্যক্রম শুরু করে জামায়াত শিবিরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আরডিপি ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এমসিএস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ইব্রাহীম খলিল নারায়ণগঞ্জ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি। এ প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের পূর্নবাসন কেন্দ্র হিসেবেই জেলায় পরিচিত ছিল। এতো কিছুর মধ্যেও দিব্যি প্রশাসনের নাকের ডগায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গত কয়েক বছরে প্রায় শত কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা।
আরডিপির একজন গ্রাহক আরিফুল হক জানান, পটুয়াখালীর স্থানীয় কয়েকশ সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের টাকা এখানে জমা ছিল। এর মধ্যে অনেকেই এফডিআর করে টাকা রেখেছিলেন আর কারো কাছ থেকে আবার লোন দেবার কথা বলে সাপ্তাহিক কিস্তিতেও টাকা সংগ্রহ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
অপর এক গ্রাহক শহরের বড়ো মসজিদ এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, ‘আমি আরডিপিতে প্রতি সপ্তাহে ৭শ টাকা করে জমা রেখেছিলাম। এতে আমার ২৬ হাজার টাকা জমা হয়েছিল। আমার কাছে টাকা জমার রশিদ ও পাশ বই আছে। কিন্ত সোমবার থেকে তো প্রতিষ্ঠানটি তালা মারা। ফোন দিলেও কেউ রিসিভ করছে না।’
এ প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই শহরের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে আমানতের বিপরিতে লোভনীয় সুদ দেবার কথা বলে আমানত সংগ্রহ করে। আর ধর্মপ্রিয় মানুষকে আকৃষ্ট করতে প্রচার করেন ‘ইসলামী সরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত’ হচ্ছেন তারা। তবে এসব যে ছিল তাদের ব্যবসায়িক প্রতারণার কৌশল তা এখন বুঝতে পারছেন শহরের সহস্রাধিক গ্রাহক।
এদিকে, পুলিশ আরডিপির এক নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয় এক প্রতিনিধিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি জিয়াউল হক জানান, কোনো গ্রাহকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
তবে কীভাবে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এভাবে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করলো এবং এতোদিন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করলো তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শহরের শুধীজনরা।
তারা বলছেন, এ ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো আগেই সরকারের কঠোর নজরদারিতে নিয়ে আসা দরকার ছিল। পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন ব্যানার্জী বলেন, ‘জামায়াতের আশীর্বাদপুষ্ট এ প্রতিষ্ঠানটি এতো দিন কীভাবে জনগণের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করলো এবং কীভাবে তারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করলো এসব বিষয়ে সরকারের নজদারি ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
এদিকে, ভবনের মালিক ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা গাজী হাফিজুর রহমান সবির সাংবাদিকদের জানান, আরডিপির সঙ্গে তাদের ভবনের তিন বছরের চুক্তি হয়েছিল। সে মোতাবেক এ বছরের জুন মাসে তিন বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তারা ভবনের একটি ফ্লোর ভাড়া দিয়েছে এবং আরডিপি ভাড়া নিয়েছে। এর বাইরে তারা কিছুই জানেন না।
তবে এখন সরকারি হস্তক্ষেপে আরডিপিতে জমানো অর্থ ফেরত চাচ্ছেন জেলার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা।