May 3, 2026
প্রতিবেদক : বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ছাত্রলীগকর্মীদের মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করার জন্য কোচিং করানোর ঘোষণা দিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। তিনি বলেছেন, ‘কীভাবে সালাম দিতে হয়, কীভাবে রুমে প্রবেশ করতে হয়— আমি ভাইভাতে দেখব বলে এ সব বুঝিয়েছি। আমি প্রশাসনে ছিলাম। আমি প্রশিক্ষণের কথা বলেছি। কিন্তু আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।’
তাহলে কোচিং কোথায় করাবেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘কোচিং যে কোনো জায়গাতেই করানো যেতে পারে। আমাদের ধানমন্ডি কার্যালয়ের তিনতলায় জায়গা আছে। সেখানেও করানো যেতে পারে।’ ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আমরা সবাইকে প্রশিক্ষিত করতে চাই। আমরা তো বিসিএসে মেধাবীদেরই নিয়েছি। বিসিএসে মেধাবীরাই প্রাধান্য পাবে। বিগত ২৮ থেকে ৩৩ মোট ৬টি বিসিএসে ১৮ হাজার ৬০৬ জন কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছেন। অনুগ্রহ করে একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাববিস্তার করা হয়েছে কি-না? কোনো অনিয়ম হয়েছে কি-না? যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের মধ্যে কতজন রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন?’
এইচ টি ইমামের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন- এমন খবরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়েছে বলে আমি শুনিনি।’
এ সময় সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপকে দেখিয়ে বলেন, ‘গোলাপ আমায় বলেছে, এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
শনিবার আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির বৈঠকে নিজের অনুপস্থিতির বিষয়ে বলেন, ‘আমি আজকের সংবাদ সম্মেলনের জন্য বক্তব্য প্রস্তুত করছিলাম। এ জন্য উপস্থিত হতে পারিনি। আর ড. হাছান মাহমুদ দেশের বাইরে যাবেন, এজন্য তাড়াহুড়ো করে বৈঠক করা হয়েছে।’
রবিবার আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির বৈঠক থাকলেও কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বৈঠকে ছিলেন না এইচ টি ইমাম। এর পর সোমবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বললেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চাকরি দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও দলের এই প্রভাবশালী উপদেষ্টা বিতর্কিত বক্তব্য দিলে আওয়ামী লীগ ও সরকারের ভেতর-বাইরে প্রচণ্ড সমালোচনা শুরু হয়। গত শুক্রবার গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে দলের সব জ্যেষ্ঠ নেতা এইচ টি ইমামের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীও তার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেন।
গত ১২ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ছাত্রলীগের এক আলোচনা সভায় এইচ টি ইমাম ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ পুলিশ ও প্রশাসনের যে ভূমিকা, নির্বাচনের সময় আমি তো প্রত্যেকটি উপজেলায় কথা বলেছি, সব জায়গায় আমাদের যারা রিক্রুটেড, তাদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের দিয়ে মোবাইল কোর্ট করিয়ে আমরা নির্বাচন করেছি। তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বুক পেতে দিয়েছেন।’
এ ছাড়া তিনি ছাত্রলীগকর্মীদেরও লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার জন্য পরামর্শ দিয়ে ভাইভাতে তিনি দেখবেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, আওয়ামী লীগের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ।
সুত্র….দ্যা রিপাের্ট