May 6, 2026
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে ছাত্রদলের কমিটি গঠন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে আহ্বায়ক কমিটি দু বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে জেলা ছাত্রদলের সর্বশেষ কাউন্সিল হয়। ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় সংসদ মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে ১২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) অনুমোদন করে। শরিফ উর জামানকে ওই কমিটির আহ্বায়ক এবং এমএ তালহা ও ফিরোজ সরোয়ারকে জ্যেষ্ঠ যুগ্মআহ্বায়ক করা হয়। কমিটিকে ১৫ দিনে পূর্ণাঙ্গ জেলা আহ্বায়ক কমিটি এবং তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর কমিটি গঠন করতে বলা হয়। কিন্তু বিএনপি নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপে তা থমকে যায়। দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ পুনরায় ৩০ অক্টোবরের মধ্যে থানা, কলেজ ও পৌর কমিটি পুনর্গঠন করতে নির্দেশ দেন। এরপর বিএনপি নেতারা সবগুলো ইউনিটে তাদের পছন্দের তালিকা ধরিয়ে দিলে কমিটি গঠন আবারও বাধাগ্রস্ত হয়।
এ কারণে ১১ ডিসেম্বর স্থানীয় ছাত্রনেতারা সভা ডেকে নিজেদের উদ্যোগে ইউনিটগুলোর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সংসদ ১৫ ডিসেম্বর কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ সর্বশেষ গত বছরের ১ ডিসেম্বর কমিটি গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেন। এতে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে চুয়াডাঙ্গার সব থানা, কলেজ ও পৌর কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা কোনো সভা করতে পারেননি। ছাত্রদলের জেলা আহ্বায়ক শরিফ উর জামান জানান, শামসুজ্জামান কেন্দ্রীয় সংসদকে বলে চলতি ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত মৌখিকভাবে সময় চেয়ে নিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যেই কমিটি গঠনের জন্য চেষ্টা চলছে।
জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্মআহ্বায়ক ফিরোজ সরোয়ার অভিযোগ করেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শামসুজ্জামান জেলা বিএনপির একাংশের নেতৃত্ব দেন। ওই অংশের তিনি সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রনেতারা কমিটি গঠনে তিন দফা উদ্যোগ নিলেও ওই নেতা কেন্দ্রে প্রভাব খাটিয়ে তা স্থগিত করে দেন। জেলা ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্মআহ্বায়ক শামীম হাসান অভিযোগ করেন, শামসুজ্জামান তার অনুসারী ছাত্রনেতাদের নিয়ে গোপনে পকেট কমিটি গঠনের চেষ্টা করছেন। কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রকৃত ছাত্রদের হাতে দায়িত্ব দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। হস্তক্ষেপের বিষয়টি অস্বীকার করে শামসুজ্জামান জানান, ছাত্রদলের নেতারা মূল দলকে পাশ কাটিয়ে কার্যক্রম চালানোর কারণে কেন্দ্রীয় সংসদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।